সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক বন্দুক হামলায় নিহত ২৭, আহত ২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার দুটি টাউনশিপে পৃথক বন্দুক হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ২৬ জন। এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

শনিবার রাতে প্রথম ঘটনাটি ঘটে জোহানেসবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে ওয়েদেলা এলাকায়। একটি পানশালায় বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িত আট সন্দেহভাজনকে খুঁজছে তারা। তাদের কাছে ‘একে-৪৭ রাইফেল ও পিস্তল’ ছিল বলে জানা গেছে। হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

পর দিন রোববার ভোরে দ্বিতীয় হামলাটি হয় কেপটাউনের কাছে ল্যান্ডলে এলাকায়। সেখানে একটি দোকানে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন।

এর মাত্র কয়েক দিন আগে ডারবান শহরের কাছে একটি বাড়িতে আয়োজিত পার্টিতে গুলি চালানোর ঘটনায় ১১ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন।

শনিবারের প্রথম হামলাটি শুরু হয় রাত সাড়ে ৯টার দিকে। গাউতেং প্রদেশের ওয়েস্ট র‍্যান্ড জেলার ওয়েদেলার এক্সটেনশন ৩ এলাকায় একটি পানশালার বাইরে জড়ো হওয়া লোকজনকে লক্ষ্য করে বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। পরে তারা পানশালার ভেতরে ঢুকে আরো গুলি ছোড়ে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় কয়েকজন গ্রাহকের দেহ তল্লাশি করা হয়। তাদের মোবাইলফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।

পরে দুটি গাড়িতে করে পালিয়ে যায় সন্দেহভাজনরা। এ সময় আরো দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

পুলিশের ক্যাপ্টেন তিন্টসওয়ালো সিবেকো বলেন, আট সন্দেহভাজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশ এবং বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ ১৭টি হত্যা মামলা এবং ১৫টি হত্যাচেষ্টার মামলা করেছে। সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে আরো দুটি মামলা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় হামলাটি রোববার মধ্যরাতের পর ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের খুঁজছে তারা।

দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরেই সহিংস অপরাধের হার অনেক বেশি। এর মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার ঘটনাও রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে বন্দুকের ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ কমাতে পুলিশ অতিরিক্ত অভিযান চালাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক বন্দুক হামলায় নিহত ২৭, আহত ২৬

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৭:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকার দুটি টাউনশিপে পৃথক বন্দুক হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ২৬ জন। এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

শনিবার রাতে প্রথম ঘটনাটি ঘটে জোহানেসবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে ওয়েদেলা এলাকায়। একটি পানশালায় বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িত আট সন্দেহভাজনকে খুঁজছে তারা। তাদের কাছে ‘একে-৪৭ রাইফেল ও পিস্তল’ ছিল বলে জানা গেছে। হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

পর দিন রোববার ভোরে দ্বিতীয় হামলাটি হয় কেপটাউনের কাছে ল্যান্ডলে এলাকায়। সেখানে একটি দোকানে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন।

এর মাত্র কয়েক দিন আগে ডারবান শহরের কাছে একটি বাড়িতে আয়োজিত পার্টিতে গুলি চালানোর ঘটনায় ১১ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন।

শনিবারের প্রথম হামলাটি শুরু হয় রাত সাড়ে ৯টার দিকে। গাউতেং প্রদেশের ওয়েস্ট র‍্যান্ড জেলার ওয়েদেলার এক্সটেনশন ৩ এলাকায় একটি পানশালার বাইরে জড়ো হওয়া লোকজনকে লক্ষ্য করে বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। পরে তারা পানশালার ভেতরে ঢুকে আরো গুলি ছোড়ে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় কয়েকজন গ্রাহকের দেহ তল্লাশি করা হয়। তাদের মোবাইলফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।

পরে দুটি গাড়িতে করে পালিয়ে যায় সন্দেহভাজনরা। এ সময় আরো দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

পুলিশের ক্যাপ্টেন তিন্টসওয়ালো সিবেকো বলেন, আট সন্দেহভাজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশ এবং বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ ১৭টি হত্যা মামলা এবং ১৫টি হত্যাচেষ্টার মামলা করেছে। সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে আরো দুটি মামলা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় হামলাটি রোববার মধ্যরাতের পর ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের খুঁজছে তারা।

দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরেই সহিংস অপরাধের হার অনেক বেশি। এর মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার ঘটনাও রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে বন্দুকের ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ কমাতে পুলিশ অতিরিক্ত অভিযান চালাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা