মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামাই গ্রেপ্তার ইস্যুতে জামায়াত এমপির ‘জরুরি’ বিবৃতি

জামাতা মিজানুর রহমানকে নিউগিনি আবাসনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর বিবৃতি দিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর। তবে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রচারিত সংবাদকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন আব্দুল গফুর।

বিবৃতিতে সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর বলেন, সম্প্রতি ঢাকার মাটিকাটা এলাকা থেকে মিজানুর রহমানের গ্রেপ্তার এবং তাকে কেন্দ্র করে ‘আমার দেশ’সহ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নাম জড়িয়ে এবং আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

জামায়াত এমপি বলেন, প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে, মিজানুর রহমানকে আমার নিজস্ব বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। প্রকৃত সত্য হলো, ঢাকায় মাটিকাটায় আমার নিজস্ব কোনো বাসা নেই। আমি সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ‘ন্যাম ভবন’-এ অবস্থান করি। অথচ প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আমাকে বিতর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মিজানুর রহমানের সঙ্গে সংঘটিত বিষয়টি তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিষয়। এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। একইভাবে, মিজানুর রহমানের এই ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণরূপে একটি ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে। মিজানুর রহমানের সঙ্গে ‘নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজ’-এর দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে মিজানুর রহমানের পাওনা টাকা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ছিল এবং তিনি আইনানুগভাবে তা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলাম পাওনা টাকা পরিশোধ না করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেন। একপর্যায়ে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য মিজানুর রহমান আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থানায় মামলা করেন।

জামায়াত এমপি আরও বলেন, ওই মামলার প্রেক্ষিতে ‘নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজ’-এর মালিক সাইফুল ইসলাম বাধ্য হয়ে মিজানুর রহমানকে পাওনা টাকার একটি অংশ পরিশোধ করেন। তবে অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে সাইফুল ইসলাম পাল্টা একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় খারিজ হয়ে যায়।

মো. আব্দুল গফুর বলেন, প্রকৃত বিষয় হলো সম্প্রতি সংঘটিত ভাঙচুর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে আমার জানা মতে মিজানুর রহমানের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না এবং নেই। বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ‘নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজ’-এর মালিক সাইফুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে একটি সাজানো ঘটনা ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছেন বলে আমি মনে করি।

মো. আব্দুল গফুর আরও বলেন, এখানে আরও একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চাই- মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি ঘটনাকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের একটি অপকৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।

জামায়াত এমপি বলেন, একটি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বিরোধকে রাজনৈতিক রং দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা এবং একই সঙ্গে আমাকে এ ঘটনায় জড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এ ধরনের অপপ্রচার শুধু বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না, বরং জনগণের কাছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করারও সুযোগ তৈরি করে। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, রাজনৈতিকভাবে আমাকে ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং প্রকৃত বিষয়কে আড়াল করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল গণমাধ্যমকে ব্যবহার করছে।

এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের একটি দল পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে (৫৯) গ্রেপ্তার করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জামাই গ্রেপ্তার ইস্যুতে জামায়াত এমপির ‘জরুরি’ বিবৃতি

প্রকাশিত সময় : ০৫:১৭:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামাতা মিজানুর রহমানকে নিউগিনি আবাসনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর বিবৃতি দিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর। তবে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রচারিত সংবাদকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন আব্দুল গফুর।

বিবৃতিতে সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর বলেন, সম্প্রতি ঢাকার মাটিকাটা এলাকা থেকে মিজানুর রহমানের গ্রেপ্তার এবং তাকে কেন্দ্র করে ‘আমার দেশ’সহ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নাম জড়িয়ে এবং আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

জামায়াত এমপি বলেন, প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে, মিজানুর রহমানকে আমার নিজস্ব বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। প্রকৃত সত্য হলো, ঢাকায় মাটিকাটায় আমার নিজস্ব কোনো বাসা নেই। আমি সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ‘ন্যাম ভবন’-এ অবস্থান করি। অথচ প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আমাকে বিতর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মিজানুর রহমানের সঙ্গে সংঘটিত বিষয়টি তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিষয়। এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। একইভাবে, মিজানুর রহমানের এই ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণরূপে একটি ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে। মিজানুর রহমানের সঙ্গে ‘নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজ’-এর দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে মিজানুর রহমানের পাওনা টাকা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ছিল এবং তিনি আইনানুগভাবে তা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলাম পাওনা টাকা পরিশোধ না করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেন। একপর্যায়ে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য মিজানুর রহমান আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থানায় মামলা করেন।

জামায়াত এমপি আরও বলেন, ওই মামলার প্রেক্ষিতে ‘নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজ’-এর মালিক সাইফুল ইসলাম বাধ্য হয়ে মিজানুর রহমানকে পাওনা টাকার একটি অংশ পরিশোধ করেন। তবে অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে সাইফুল ইসলাম পাল্টা একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় খারিজ হয়ে যায়।

মো. আব্দুল গফুর বলেন, প্রকৃত বিষয় হলো সম্প্রতি সংঘটিত ভাঙচুর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে আমার জানা মতে মিজানুর রহমানের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না এবং নেই। বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ‘নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজ’-এর মালিক সাইফুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে একটি সাজানো ঘটনা ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছেন বলে আমি মনে করি।

মো. আব্দুল গফুর আরও বলেন, এখানে আরও একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চাই- মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি ঘটনাকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের একটি অপকৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।

জামায়াত এমপি বলেন, একটি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বিরোধকে রাজনৈতিক রং দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা এবং একই সঙ্গে আমাকে এ ঘটনায় জড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এ ধরনের অপপ্রচার শুধু বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না, বরং জনগণের কাছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করারও সুযোগ তৈরি করে। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, রাজনৈতিকভাবে আমাকে ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং প্রকৃত বিষয়কে আড়াল করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল গণমাধ্যমকে ব্যবহার করছে।

এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের একটি দল পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে (৫৯) গ্রেপ্তার করে।