রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত—দুই ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবা দিয়ে আসা এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।
আমিনুল হক বলেন, আগামীকাল থেকেই আমরা কেন্দ্রটি সংস্কারের কাজ শুরু করব। চলমান স্বাস্থ্যসেবা যাতে একদিনের জন্যও ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমি নিজেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব সংস্কারের ব্যবস্থা নেব।
ভাঙচুরের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। একটি সুন্দর সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে গুঁড়িয়ে দেওয়া কখনোই কাম্য নয়। আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দিই না। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ওসিকে ক্লোজ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক মহল বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। বাস্তবে কারা এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এবং কারা কী উদ্দেশ্যে এই দখলদারির ভূমিকা নিয়েছে, আমরা তা খতিয়ে দেখছি। যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, যাদের কোনো আইনি দাবি থাকলে তারা আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উত্থাপন করতে পারেন। রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই। এটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জায়গা এবং এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। প্রায় পাঁচ দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার শিশু, প্রসূতি মা ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, আমরা চাই না এই এলাকার মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হোক। শিশুদের টিকাদানসহ সব ধরনের সেবা দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে এবং সেবাগ্রহীতাদের কোনো ভোগান্তি হতে দেওয়া হবে না।
সরকার বা দল এ ঘটনায় বিব্রত কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শাহ আলী থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজ করা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নামও এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যদি কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত দুই ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা আমাদের দলের কেউ নয় এবং দলের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে তদন্তে যদি কোনো দলীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা শতভাগ স্বচ্ছ তদন্ত চাই এবং পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 























