সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশের বাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে রড

ভবন নির্মাণের অন্যতম প্রধান সামগ্রী রডের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি টনে দাম বেড়েছে পাঁচ হাজার টাকার বেশি। কারণ রডের কাঁচামাল পুরোনো লোহার একটি বড় উৎস ইউক্রেন।

সেখানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রডের দাম প্রতি টনে পাঁচ হাজার টাকা বেড়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি টন রডের দাম ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এর আগে এতো দাম দেখা যায়নি রডের। গত বছরের ২০২১ সালের নভেম্বরে দেশের বাজারে রডের টন সর্বোচ্চ ৮১ হাজার টাকায় উঠেছিল, যা তখন ইতিহাসের রেকর্ড দাম ছিল। তার আগে ওয়ান/ইলেভেনের (২০০৭-০৮) সরকারের সময় প্রতি টন রডের দাম সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

গত বছরের নভেম্বরে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর চলতি বছরের শুরুতে রডের দাম কিছুটা কমে টনপ্রতি ৭৬ হাজার টাকায় নেমে আসে। তবে জানুয়ারির শেষদিকে এসে আবার বাড়তে থাকে রডের দাম। ফলে জানুয়ারিতেই ফের ৮০ হাজার টাকায় উঠে প্রতি টন রডের দাম। এদিকে রাজধানীর কয়েকটি রডের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি টন রড ৮২ থেকে ৮৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহ দুয়েক আগেও ছিল ৭৭ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে। এর কারণ হিসেবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কাঁচামালের সরবরাহ সংকটকে দায়ী করছেন উৎপাদনকারীরা। তবে খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা বলছেন, ওই যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই দাম বাড়ানো হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ ৭ মার্চ ভালো মানের বা ৬০ গ্রেড এক টন রড কোম্পানিভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮২-৮৮ হাজার টাকায়। কয়েকদিন আগে যা ৭৬-৮১ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১০ দিনে প্রায় প্রতিদিনই রডের দাম বেড়েছে। কখনো ৫০০, কখনো এক হাজার টাকা বেড়েছে। এভাবে এখন প্রতি টন রডের দাম ৮৮ হাজার টাকায় উঠেছে।

এদিকে পুরান ঢাকার নিউ আকবর স্টিল হাউসের স্বত্বাধিকারী মো. আমির হোসেন দামের বিষয়ে বলেন, ভালো কোম্পানির মধ্যে এখন বন্দর স্টিলের রডের দাম কিছুটা কম। বন্দর স্টিলের রডের প্রতি টন বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৮৫ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বিএসআরএমের রড। এই ব্র্যান্ডের এক টন রড বিক্রি হচ্ছে ৮৮ হাজার টাকা। এছাড়া কেএসআরএম, একেএস, জিপিএইচের রড ৮৬-৮৭ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দেশের বাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে রড

প্রকাশিত সময় : ০৪:২৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ মার্চ ২০২২

ভবন নির্মাণের অন্যতম প্রধান সামগ্রী রডের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি টনে দাম বেড়েছে পাঁচ হাজার টাকার বেশি। কারণ রডের কাঁচামাল পুরোনো লোহার একটি বড় উৎস ইউক্রেন।

সেখানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রডের দাম প্রতি টনে পাঁচ হাজার টাকা বেড়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি টন রডের দাম ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এর আগে এতো দাম দেখা যায়নি রডের। গত বছরের ২০২১ সালের নভেম্বরে দেশের বাজারে রডের টন সর্বোচ্চ ৮১ হাজার টাকায় উঠেছিল, যা তখন ইতিহাসের রেকর্ড দাম ছিল। তার আগে ওয়ান/ইলেভেনের (২০০৭-০৮) সরকারের সময় প্রতি টন রডের দাম সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

গত বছরের নভেম্বরে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর চলতি বছরের শুরুতে রডের দাম কিছুটা কমে টনপ্রতি ৭৬ হাজার টাকায় নেমে আসে। তবে জানুয়ারির শেষদিকে এসে আবার বাড়তে থাকে রডের দাম। ফলে জানুয়ারিতেই ফের ৮০ হাজার টাকায় উঠে প্রতি টন রডের দাম। এদিকে রাজধানীর কয়েকটি রডের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি টন রড ৮২ থেকে ৮৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহ দুয়েক আগেও ছিল ৭৭ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে। এর কারণ হিসেবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কাঁচামালের সরবরাহ সংকটকে দায়ী করছেন উৎপাদনকারীরা। তবে খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা বলছেন, ওই যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই দাম বাড়ানো হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ ৭ মার্চ ভালো মানের বা ৬০ গ্রেড এক টন রড কোম্পানিভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮২-৮৮ হাজার টাকায়। কয়েকদিন আগে যা ৭৬-৮১ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১০ দিনে প্রায় প্রতিদিনই রডের দাম বেড়েছে। কখনো ৫০০, কখনো এক হাজার টাকা বেড়েছে। এভাবে এখন প্রতি টন রডের দাম ৮৮ হাজার টাকায় উঠেছে।

এদিকে পুরান ঢাকার নিউ আকবর স্টিল হাউসের স্বত্বাধিকারী মো. আমির হোসেন দামের বিষয়ে বলেন, ভালো কোম্পানির মধ্যে এখন বন্দর স্টিলের রডের দাম কিছুটা কম। বন্দর স্টিলের রডের প্রতি টন বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৮৫ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বিএসআরএমের রড। এই ব্র্যান্ডের এক টন রড বিক্রি হচ্ছে ৮৮ হাজার টাকা। এছাড়া কেএসআরএম, একেএস, জিপিএইচের রড ৮৬-৮৭ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।