বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেড়েছে খেলাপি ঋণ

ব্যাংক খাতে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। যা গত মার্চে ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসেই বেড়েছে ১১ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। এর সঙ্গে পুরোনো কিছু মিলে এপ্রিল-জুন পর্যন্ত নতুন করে ঋণখেলাপি হয়েছে ১৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। এর মধ্যে নগদ আদায় হয়েছে মাত্র তিন হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা যা মোট খেলাপির ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে শাস্তি ব্যবস্তা না করে তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। আর এ সুযোগে কেউ এক খাতে ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহার করেন। এটা ব্যাংক খাতের জন্য অশনি সংকেত। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করেন তারা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ঋণখেলাপিদের একের পর এক ছাড় বা সুবিধা দিলে টাকা ফেরত দেবে না। আরও সুবিধার অপেক্ষায় থাকবে। কারণ তারা জানে টাকা ফেরত না দিলেও চলবে। তিনি বলেন, ঋণখেলাপিদের কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা কিছুই গুনতে হয় না। উলটো পেয়ে যাচ্ছে পুরস্কার। ফলে খেলাপি ঋণ বাড়ছেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণস্থিতির যা ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ তিন হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। গত ৬ মাসে বেড়েছে ২১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। এর বাইরে অবলোপন করা খেলাপি ঋণ রয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকার মতো। মামলাসহ বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করেও এসব খেলাপি ঋণ আশানুরূপভাবে আদায় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো।

সূত্রে জানা গেছে, খেলাপি ঋণ কম দেখানোর উপায় হিসাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ছাড় দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে করোনার প্রভাব শুরুর পর ২০২০ সালে কেউ কোনো টাকা না দিলেও তাকে খেলাপি করা হয়নি। ২০২১ সালে একজন উদ্যোক্তার যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা, কেউ ১৫ শতাংশ দিলে তাকে আর খেলাপি করা হয়নি। এর আগে ২০১৯ সালে বিশেষ ব্যবস্থায় মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য বিপুল পরিমাণের ঋণ পুনঃতফশিল করা হয়। এরও আগে ৫০০ কোটি টাকার বড় অঙ্কের ঋণ পুনর্গঠন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশেষ বিবেচনায় পুনঃতফশিলসহ বিভিন্ন শিথিলতা দেওয়া হয়। বারবার এরকম শিথিলতার কারণে উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ ঋণ পরিশোধের চেয়ে সুবিধা নেওয়ার পেছনে ছুটছেন বেশি। আর এসব ছাড়ের কারণে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের আসল চিত্র প্রতিফলিত হচ্ছে না।-ভোরের কাগজ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বেড়েছে খেলাপি ঋণ

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

ব্যাংক খাতে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। যা গত মার্চে ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসেই বেড়েছে ১১ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। এর সঙ্গে পুরোনো কিছু মিলে এপ্রিল-জুন পর্যন্ত নতুন করে ঋণখেলাপি হয়েছে ১৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। এর মধ্যে নগদ আদায় হয়েছে মাত্র তিন হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা যা মোট খেলাপির ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে শাস্তি ব্যবস্তা না করে তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। আর এ সুযোগে কেউ এক খাতে ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহার করেন। এটা ব্যাংক খাতের জন্য অশনি সংকেত। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করেন তারা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ঋণখেলাপিদের একের পর এক ছাড় বা সুবিধা দিলে টাকা ফেরত দেবে না। আরও সুবিধার অপেক্ষায় থাকবে। কারণ তারা জানে টাকা ফেরত না দিলেও চলবে। তিনি বলেন, ঋণখেলাপিদের কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা কিছুই গুনতে হয় না। উলটো পেয়ে যাচ্ছে পুরস্কার। ফলে খেলাপি ঋণ বাড়ছেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণস্থিতির যা ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ তিন হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। গত ৬ মাসে বেড়েছে ২১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। এর বাইরে অবলোপন করা খেলাপি ঋণ রয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকার মতো। মামলাসহ বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করেও এসব খেলাপি ঋণ আশানুরূপভাবে আদায় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো।

সূত্রে জানা গেছে, খেলাপি ঋণ কম দেখানোর উপায় হিসাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ছাড় দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে করোনার প্রভাব শুরুর পর ২০২০ সালে কেউ কোনো টাকা না দিলেও তাকে খেলাপি করা হয়নি। ২০২১ সালে একজন উদ্যোক্তার যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা, কেউ ১৫ শতাংশ দিলে তাকে আর খেলাপি করা হয়নি। এর আগে ২০১৯ সালে বিশেষ ব্যবস্থায় মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য বিপুল পরিমাণের ঋণ পুনঃতফশিল করা হয়। এরও আগে ৫০০ কোটি টাকার বড় অঙ্কের ঋণ পুনর্গঠন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশেষ বিবেচনায় পুনঃতফশিলসহ বিভিন্ন শিথিলতা দেওয়া হয়। বারবার এরকম শিথিলতার কারণে উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ ঋণ পরিশোধের চেয়ে সুবিধা নেওয়ার পেছনে ছুটছেন বেশি। আর এসব ছাড়ের কারণে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের আসল চিত্র প্রতিফলিত হচ্ছে না।-ভোরের কাগজ