শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পবিত্র হজ আজ

পবিত্র হজ আজ। শনিবার (১৫ জুন) সৌদি আরবের মক্কা নগরীর ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে জীবনের সব গুনাহ মাফ করার আকুল আকাঙ্ক্ষায় আজ আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন তারা। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হলো সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই ময়দানেই অবস্থান করা।

মিনা থেকে আরাফাতের ১৪ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব পাড়ি দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ বাস। অনেকেই যাবেন পায়ে হেটে। হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ হাজিদেরও কিছু সময়ের জন্য অ্যাম্বুল্যান্সে করে এখানে আনা হবে।
হাজিদের মুখে ধ্বনিত হবে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’অর্থ- আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো অংশীদার নেই। আমি হাজির। সব প্রশংসা ও অনুগ্রহ শুধুই তোমার। সব রাজত্ব তোমার

দুপুরে মসজিদে নিমরায় হজের খুতবার মাধ্যমে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা।

হাজিরা আরাফাতের ময়দানে জোহর ও আসর নামাজ পড়বেন। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া-মোনাজাতে মগ্ন থাকবেন। সূর্যাস্তের পর সবাই মুজদালিফার উদ্দেশে গমন করবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়ে রাত কাটাবেন। মুজদালিফা থেকে তিন জামারার জন্য তারা পাথর সংগ্রহ করবেন।

পরদিন মিনায় বড় জামারায় গিয়ে পাথর ছুড়বেন। এরপর কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছোট বা মুণ্ডন করবেন। তখন ইহরামের কাপড় বদলে স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সায়ি (সাতবার দৌড়ানো) করবেন। সেখান থেকে তারা আবার মিনায় যাবেন। মিনা থেকে তিন দিন (বড়, মধ্যম, ছোট) ২১টি করে ৬৩টিসহ মোট ৭০টি পাথর জামারায় নিক্ষেপ করবেন। এরপর মক্কায় বিদায়ি তাওয়াফ করে হজের সব কাজ শেষ করবেন।

মক্কায় তাওয়াফ আল কুদুমে অংশ নেওয়ার পর, মিনায় সমবেত হন হাজিরা। পরদিন এখানেই অবস্থান করেন তারা।

বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশের ২৫-৩০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালনের লক্ষ্যে এখন সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ থেকে গেছেন ৮৫ হাজার মানুষ। পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ১৭ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পবিত্র হজ আজ

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

পবিত্র হজ আজ। শনিবার (১৫ জুন) সৌদি আরবের মক্কা নগরীর ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে জীবনের সব গুনাহ মাফ করার আকুল আকাঙ্ক্ষায় আজ আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন তারা। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হলো সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই ময়দানেই অবস্থান করা।

মিনা থেকে আরাফাতের ১৪ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব পাড়ি দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ বাস। অনেকেই যাবেন পায়ে হেটে। হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ হাজিদেরও কিছু সময়ের জন্য অ্যাম্বুল্যান্সে করে এখানে আনা হবে।
হাজিদের মুখে ধ্বনিত হবে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’অর্থ- আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো অংশীদার নেই। আমি হাজির। সব প্রশংসা ও অনুগ্রহ শুধুই তোমার। সব রাজত্ব তোমার

দুপুরে মসজিদে নিমরায় হজের খুতবার মাধ্যমে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা।

হাজিরা আরাফাতের ময়দানে জোহর ও আসর নামাজ পড়বেন। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া-মোনাজাতে মগ্ন থাকবেন। সূর্যাস্তের পর সবাই মুজদালিফার উদ্দেশে গমন করবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়ে রাত কাটাবেন। মুজদালিফা থেকে তিন জামারার জন্য তারা পাথর সংগ্রহ করবেন।

পরদিন মিনায় বড় জামারায় গিয়ে পাথর ছুড়বেন। এরপর কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছোট বা মুণ্ডন করবেন। তখন ইহরামের কাপড় বদলে স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সায়ি (সাতবার দৌড়ানো) করবেন। সেখান থেকে তারা আবার মিনায় যাবেন। মিনা থেকে তিন দিন (বড়, মধ্যম, ছোট) ২১টি করে ৬৩টিসহ মোট ৭০টি পাথর জামারায় নিক্ষেপ করবেন। এরপর মক্কায় বিদায়ি তাওয়াফ করে হজের সব কাজ শেষ করবেন।

মক্কায় তাওয়াফ আল কুদুমে অংশ নেওয়ার পর, মিনায় সমবেত হন হাজিরা। পরদিন এখানেই অবস্থান করেন তারা।

বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশের ২৫-৩০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালনের লক্ষ্যে এখন সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ থেকে গেছেন ৮৫ হাজার মানুষ। পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ১৭ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন।