বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটা পুনর্বহালসহ ৭ দাবি নিয়ে শাহবাগে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ

কোটা বাতিল আন্দোলনের নামে বঙ্গবন্ধু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ৭ দফা দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।আজ শনিবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৪টায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন তারা।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ৭ দফা দাবি হলো-

১. ২০১৮ সালের অসাংবিধানিক ও অবৈধ পরিপত্র বাতিল করে নতুন পরিপত্র জারি করে বঙ্গবন্ধুর উপহার ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল, সংরক্ষণ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. সম্প্রতি কোটা বাতিল আন্দোলনের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তিকারীদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে ছাত্রত্ব বাতিলসহ বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি হলোকাস্ট ডিনায়াল অ্যাক্টের ন্যায় নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।

৩. রাজাকারদের নামের তালিকা প্রকাশ করে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ বোর্ডে তালিকা প্রদর্শনপূর্বক নাগরিকত্ব বাতিলসহ এদের বংশধরদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি সব সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

৪. কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীরা সকলেই মেধাবী, কেউ অমেধাবী নয়। সাধারণ প্রার্থীদের সাথে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রিলি, লিখিত ও ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কোটা প্রয়োগ হওয়ার কারণে বৈষম্যমূলক মেধা শব্দ পরিবর্তন করে সাধারণ শব্দ সংযোজনপূর্বক সাধারণ প্রার্থী নামকরণ করে সকল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।

৫. সমগ্র দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের ওপর হামলা, মামলা, হত্যা, নির্যাতন ও কটূক্তি স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।

৬. ২০১৮ সালে কোটা বাতিল আন্দোলনের নামে পুলিশের ওপর নগ্ন সন্ত্রাসী হামলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৭. বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করতে হবে।

এদিকে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলতি মাসের শুরু থেকে সড়ক-মহাসড়ক, রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বাংলা ব্লকেড নামে তারা এ সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। এরপর হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে অপিল বিভাগের আদালতের পর গত বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল সরকার। তারই অংশ হিসেবে ওইদিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করতে এলে ঢাকায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। এ ছাড়া কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে পুলিশ তাদের ওপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

কোটা পুনর্বহালসহ ৭ দাবি নিয়ে শাহবাগে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ

প্রকাশিত সময় : ০৭:১০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪

কোটা বাতিল আন্দোলনের নামে বঙ্গবন্ধু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ৭ দফা দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।আজ শনিবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৪টায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন তারা।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ৭ দফা দাবি হলো-

১. ২০১৮ সালের অসাংবিধানিক ও অবৈধ পরিপত্র বাতিল করে নতুন পরিপত্র জারি করে বঙ্গবন্ধুর উপহার ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল, সংরক্ষণ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. সম্প্রতি কোটা বাতিল আন্দোলনের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তিকারীদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে ছাত্রত্ব বাতিলসহ বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি হলোকাস্ট ডিনায়াল অ্যাক্টের ন্যায় নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।

৩. রাজাকারদের নামের তালিকা প্রকাশ করে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ বোর্ডে তালিকা প্রদর্শনপূর্বক নাগরিকত্ব বাতিলসহ এদের বংশধরদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি সব সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

৪. কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীরা সকলেই মেধাবী, কেউ অমেধাবী নয়। সাধারণ প্রার্থীদের সাথে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রিলি, লিখিত ও ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কোটা প্রয়োগ হওয়ার কারণে বৈষম্যমূলক মেধা শব্দ পরিবর্তন করে সাধারণ শব্দ সংযোজনপূর্বক সাধারণ প্রার্থী নামকরণ করে সকল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।

৫. সমগ্র দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের ওপর হামলা, মামলা, হত্যা, নির্যাতন ও কটূক্তি স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।

৬. ২০১৮ সালে কোটা বাতিল আন্দোলনের নামে পুলিশের ওপর নগ্ন সন্ত্রাসী হামলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৭. বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করতে হবে।

এদিকে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলতি মাসের শুরু থেকে সড়ক-মহাসড়ক, রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বাংলা ব্লকেড নামে তারা এ সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। এরপর হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে অপিল বিভাগের আদালতের পর গত বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল সরকার। তারই অংশ হিসেবে ওইদিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করতে এলে ঢাকায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। এ ছাড়া কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে পুলিশ তাদের ওপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।