বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীরা টিকা নেয়ার পর খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়

করোনা মহামারির কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দিতে চারটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে সব পক্ষ।

গতকাল সোমবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও উপাচার্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মোট চারটি সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মঙ্গলবার ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ নিশ্চিত করেছেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে আমরা মোট চারটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্তের আলোকেই আমরা সব সিদ্ধান্ত নেব। সভায় সব পক্ষ উপস্থিত ছিল, বলা যায় বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ে এই চারটি আমাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।’

সভার সিদ্ধান্তগুলো হলো-

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোভিড-১৯ এর টিকা প্রদানের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই টিকা প্রদানের কর্মসূচি আবাসিক হলসমূহের শিক্ষার্থীদের দিয়ে শুরু হবে।

শর্তসাপেক্ষে সরাসরি উপস্থিতিতে পরীক্ষা গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য যে দুটি নির্দেশনা প্রদান করেছে, তা স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর করে বিষয়বস্তুর ওপর চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সরাসরি উপস্থিতিতে শিক্ষাকার্যক্রম আগের মতো চালু হবে।

মহামারির কারণে ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা পুষিয়ে নেয়ার জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব সক্ষমতা ও বাস্তবতা অনুযায়ী একটি ‘রিকোভারি প্ল্যান’ প্রস্তুত করে তা বাস্তবায়নে কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এই ‘রিকোভারি প্ল্যান’ এর একটি সাধারণ গাইডলাইন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রস্তুত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। বিভিন্ন মেয়াদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ আগামী ১২ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

এদিকে গত বুধবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের টিকার দুই ডোজ সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীকে দেয়া সম্পন্ন হলেই আবাসিক হলযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষার্থীরা টিকা নেয়ার পর খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুন ২০২১

করোনা মহামারির কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দিতে চারটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে সব পক্ষ।

গতকাল সোমবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও উপাচার্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মোট চারটি সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মঙ্গলবার ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ নিশ্চিত করেছেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে আমরা মোট চারটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্তের আলোকেই আমরা সব সিদ্ধান্ত নেব। সভায় সব পক্ষ উপস্থিত ছিল, বলা যায় বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ে এই চারটি আমাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।’

সভার সিদ্ধান্তগুলো হলো-

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোভিড-১৯ এর টিকা প্রদানের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই টিকা প্রদানের কর্মসূচি আবাসিক হলসমূহের শিক্ষার্থীদের দিয়ে শুরু হবে।

শর্তসাপেক্ষে সরাসরি উপস্থিতিতে পরীক্ষা গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য যে দুটি নির্দেশনা প্রদান করেছে, তা স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর করে বিষয়বস্তুর ওপর চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সরাসরি উপস্থিতিতে শিক্ষাকার্যক্রম আগের মতো চালু হবে।

মহামারির কারণে ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা পুষিয়ে নেয়ার জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব সক্ষমতা ও বাস্তবতা অনুযায়ী একটি ‘রিকোভারি প্ল্যান’ প্রস্তুত করে তা বাস্তবায়নে কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এই ‘রিকোভারি প্ল্যান’ এর একটি সাধারণ গাইডলাইন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রস্তুত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। বিভিন্ন মেয়াদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ আগামী ১২ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

এদিকে গত বুধবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের টিকার দুই ডোজ সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীকে দেয়া সম্পন্ন হলেই আবাসিক হলযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া হবে।