বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিহত হিমেলের পরিবারকে আজই পাঁচ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা ভিসির

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে আজই নিহত মাহমুদ হাবিব হিমেলের পরিবারকে পাঁচ লাখা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।

তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সহমত জানিয়েছেন। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় হিমেলের জানাজায় অংশ নিয়ে এসব দাবির সঙ্গে সহমত ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।

তিনি বলেন, সন্তানহারা পিতার জন্য এই মুহূর্তে কিছু বলা সত্যিই কঠিন। আমরা তার পরিবারের ক্ষতিপূরণসহ শিক্ষার্থীরা অন্যান্য যেসব দাবি জানিয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে সহমত পোষণ করছি। তাদের প্রত্যেকটি দাবিই পূরণ করা হবে। আমরা হিমেলের মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছি। আজকের মধ্যে তাকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে আরো ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করা হবে।

এর আগে সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে নিয়ে আসা হয়। পরে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মরদেহ রাখা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

পরে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ সামগ্রীকারী একটি বেপরোয়া ট্রাক হবিবুর রহমান হলের সামনে মাহমুদ হাবীব হিমেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। পাঁচ ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবনেও ভাংচুর চালায়। এ সময় প্রক্টর লিয়াকত আলী ঘটনাস্থলে আসলে তাকে ধাওয়া দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। দুঘণ্টা পর মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিন রাতে শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবি তুলে আন্দোলন চালিয়ে যান। দাবিগুলো হলো- প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ নিহতের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া, নিহত শিক্ষার্থীর বোনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি প্রদান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পাল্টানো এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হিমেল নিহতের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিচার করা।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলীকে প্রত্যাহার করেছেন ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টায় প্যারিস রোডে এ ঘোষণা দেন তিনি।

এসময় উপাচার্য নিহত শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে একসাথে এ সমস্যার সমাধানকল্পে কাজ করার আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় মহানগরের মেয়র এএইসএম খাইরুজ্জামান লিটনসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এরপর আজ বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাড়ে ৯টায় হিমেলের মরদেহ চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা। এরপর পুরো চারুকলা প্রাঙ্গণে নেমে আসে শোকের ছায়া। শিক্ষক এবং বন্ধুবান্ধব কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকে হিমেলের মরদেহের কফিনে পুষ্প দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, প্রো-ভিসি অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, চারুকলা অনুষদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নিহত হিমেলের পরিবারকে আজই পাঁচ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা ভিসির

প্রকাশিত সময় : ০৪:১৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে আজই নিহত মাহমুদ হাবিব হিমেলের পরিবারকে পাঁচ লাখা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।

তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সহমত জানিয়েছেন। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় হিমেলের জানাজায় অংশ নিয়ে এসব দাবির সঙ্গে সহমত ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।

তিনি বলেন, সন্তানহারা পিতার জন্য এই মুহূর্তে কিছু বলা সত্যিই কঠিন। আমরা তার পরিবারের ক্ষতিপূরণসহ শিক্ষার্থীরা অন্যান্য যেসব দাবি জানিয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে সহমত পোষণ করছি। তাদের প্রত্যেকটি দাবিই পূরণ করা হবে। আমরা হিমেলের মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছি। আজকের মধ্যে তাকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে আরো ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করা হবে।

এর আগে সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে নিয়ে আসা হয়। পরে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মরদেহ রাখা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

পরে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ সামগ্রীকারী একটি বেপরোয়া ট্রাক হবিবুর রহমান হলের সামনে মাহমুদ হাবীব হিমেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। পাঁচ ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবনেও ভাংচুর চালায়। এ সময় প্রক্টর লিয়াকত আলী ঘটনাস্থলে আসলে তাকে ধাওয়া দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। দুঘণ্টা পর মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিন রাতে শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবি তুলে আন্দোলন চালিয়ে যান। দাবিগুলো হলো- প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ নিহতের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া, নিহত শিক্ষার্থীর বোনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি প্রদান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পাল্টানো এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হিমেল নিহতের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিচার করা।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলীকে প্রত্যাহার করেছেন ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টায় প্যারিস রোডে এ ঘোষণা দেন তিনি।

এসময় উপাচার্য নিহত শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে একসাথে এ সমস্যার সমাধানকল্পে কাজ করার আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় মহানগরের মেয়র এএইসএম খাইরুজ্জামান লিটনসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এরপর আজ বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাড়ে ৯টায় হিমেলের মরদেহ চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা। এরপর পুরো চারুকলা প্রাঙ্গণে নেমে আসে শোকের ছায়া। শিক্ষক এবং বন্ধুবান্ধব কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকে হিমেলের মরদেহের কফিনে পুষ্প দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, প্রো-ভিসি অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, চারুকলা অনুষদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।