শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের শিকার সাংবাদিকেরা, সংসদে সমালোচনা

সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সরকার এই আইনটি করেছে। আইনটি বাতিলের পাশাপাশি আইন প্রণয়নের আগে তা ভালোভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।বুধবার (৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘এজেন্সি টু ইনোভেট (এটুআই) বিল-২০২৩’ পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এই দাবি জানান।জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সত্যিকার অর্থেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকেরা। স্বাধীন মতপ্রকাশ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষও এর শিকার হচ্ছেন, নির্যাতিত হচ্ছেন। প্রভাবশালীরা আইনটাকে অপব্যবহার করছেন। মানুষের স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এই আইন দ্রুত সংশোধন করা দরকার, এটি বাতিল করলে আরও ভালো হয়।

এ সময় গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধ না করতে পারি তাহলে আইন কোনো কাজে আসবে না। আবার আইনের অপপ্রয়োগ হলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এমনটি আমরা দেখেছি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এখন ডিজিটাল আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। এ আইনে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ হাজার একটি মামলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাংবাদিক কমিউনিটি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব মতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৫৬ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন, হুমকি, মামলা এবং দায়িত্ব পালনকালে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। গত সাড়ে চার বছরে এ আইনটি ভিন্নমত বা সরকার দলের সমালোচনা এবং মুক্ত চিন্তা দমনে প্রয়োগ হয়েছে। এ আইনের কারণে সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে।

ডিজিটাল আইনে সহজেই যে কাউকে হয়রানি করা যায় মন্তব্য করে মোকাব্বির খান বলেন, এ বিষয়ে সম্প্রতি রাতের আঁধারে তুলে নেওয়া সাংবাদিক শামসুজ্জামান ও র‌্যাব হেফাজতে মারা যাওয়া সরকারি কর্মচারী সুলতানা জেসমিনের কথা আমরা সবাই জানি। সরকার ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার জন্য এ আইনটি তৈরি করেছে। নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী এবং সাংবাদিকদের প্রবল আপত্তির মুখে আইনমন্ত্রী এটি সংশোধনের কথা বলছেন। আশা করি আইনমন্ত্রী এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের শিকার সাংবাদিকেরা, সংসদে সমালোচনা

প্রকাশিত সময় : ১২:৫২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই ২০২৩

সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সরকার এই আইনটি করেছে। আইনটি বাতিলের পাশাপাশি আইন প্রণয়নের আগে তা ভালোভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।বুধবার (৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘এজেন্সি টু ইনোভেট (এটুআই) বিল-২০২৩’ পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এই দাবি জানান।জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সত্যিকার অর্থেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকেরা। স্বাধীন মতপ্রকাশ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষও এর শিকার হচ্ছেন, নির্যাতিত হচ্ছেন। প্রভাবশালীরা আইনটাকে অপব্যবহার করছেন। মানুষের স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এই আইন দ্রুত সংশোধন করা দরকার, এটি বাতিল করলে আরও ভালো হয়।

এ সময় গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধ না করতে পারি তাহলে আইন কোনো কাজে আসবে না। আবার আইনের অপপ্রয়োগ হলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এমনটি আমরা দেখেছি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এখন ডিজিটাল আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। এ আইনে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ হাজার একটি মামলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাংবাদিক কমিউনিটি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব মতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৫৬ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন, হুমকি, মামলা এবং দায়িত্ব পালনকালে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। গত সাড়ে চার বছরে এ আইনটি ভিন্নমত বা সরকার দলের সমালোচনা এবং মুক্ত চিন্তা দমনে প্রয়োগ হয়েছে। এ আইনের কারণে সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে।

ডিজিটাল আইনে সহজেই যে কাউকে হয়রানি করা যায় মন্তব্য করে মোকাব্বির খান বলেন, এ বিষয়ে সম্প্রতি রাতের আঁধারে তুলে নেওয়া সাংবাদিক শামসুজ্জামান ও র‌্যাব হেফাজতে মারা যাওয়া সরকারি কর্মচারী সুলতানা জেসমিনের কথা আমরা সবাই জানি। সরকার ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার জন্য এ আইনটি তৈরি করেছে। নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী এবং সাংবাদিকদের প্রবল আপত্তির মুখে আইনমন্ত্রী এটি সংশোধনের কথা বলছেন। আশা করি আইনমন্ত্রী এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।