মানুষ শিক্ষিত হউক সেটা হয়তো বিএনপি-জামায়াত চায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের সরকার টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকায় শিক্ষার মান বৃদ্ধি, শিক্ষকদের নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। রোববার (১৬ জুলাই) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত অধ্যক্ষ সম্মেলন ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষ শিক্ষিত হোক, এটা বিএনপি-জামায়াত জোটের কখনোই ইচ্ছা ছিল না। মানুষকে পদদলিত করে রাখা, অন্ধকারে রাখা এবং তাদের শোষণ করে রাখাই তাদের লক্ষ্য। নিজেরা অবৈধ সম্পদের মালিক হবে- এটাই বোধহয় তাদের চেষ্টা।’ তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেখি বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম। বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ ছিল না। আমরা এসেই কৃষি গবেষণা খাতে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলাম। ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখলাম শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গবেষণা খাতে। ১৯৯৬ সালে এসে কম্পিউটার শিক্ষার ওপর জোর দিলাম। কারণ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হলে বিজ্ঞানের প্রতি ছাত্রদের আগ্রহ বাড়বে বলে আমি বিশ্বাস করেছিলাম। আজ সেটার সুফল জাতি পাচ্ছে।’ বঙ্গবন্ধু আধুনিক, প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটা জিনিস বিশ্বাস করতেন- শিক্ষা ছাড়া একটা জাতি গঠন সম্ভব না। তাই তিনি শিক্ষার উপর অনেক বেশি গুরাত্বারোপ করেন। তিনি ১ লাখ ৬৫ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণ করে দেন। ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক স্কুলকে জাতীয়করণ করে দেন। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে শিক্ষকদের জন্য ১০০ টাকা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ টাকা ভাতা দেওয়া শুরু করেন। জাতি গঠনের জন্য এটা ছিল দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গঠনসহ নানা উদ্যোগ নেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেই অগ্রযাত্রা ব্যহত হয়ে যায়। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবসময় বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আমাদের জনসংখ্যা হিসাব করে, মানুষের কর্মদক্ষতা যেন বৃদ্ধি পায়, সেদিকে তিনি দৃষ্টি দিতেন। ১৯৭৩ সালে সংসদে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্বায়ত্তশাসনও দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু।’ তিনি আরও বলেন, সেজন্য বঙ্গবন্ধু শিক্ষায় যে অর্থ ব্যয় হত সেটাকে তিনি বিনিয়োগ হিসেবে দেখতেন। কিন্তু ৭৫ পরবর্তীতে সরকারগুলো ছাত্রদের হাত অস্ত্র তোলে দেওয়াসহ নানা অপকর্মে ছাত্রদের ব্যবহার শুরু করে। তাদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ছাত্রদের ব্যবহার করতো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশকে উন্নত করতে সক্ষম হয়েছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেখে গিয়েছিলেন স্বল্পোন্নত দেশ। ২০২০ সালের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছি। তখনই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পায়। নির্বাচনী ওয়াদা আমরা রক্ষা করি।’
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
মানুষ শিক্ষিত হউক সেটা হয়তো বিএনপি-জামায়াত চায় না : প্রধানমন্ত্রী
-
দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক - প্রকাশিত সময় : ০৩:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০২৩
- ১২৫
Tag :
সর্বাধিক পঠিত


























