রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ১১.৬ ডিগ্রি

নতুন বছরের প্রথম দিনে ঘন কুয়াশা আর হিমশীতল হাওয়ায় শীত জেকে বসেছে পঞ্চগড়ে। আজ সোমবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর তিন ঘণ্টা আগে ভোর ৬টায় ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সকালে আবহাওয়ার তথ্যটি জানিয়েছেন জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের আজকের এই দিনে (১ জানুয়ারি) তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বছরের শুরুতে তাপমাত্রা রেকর্ড হলো ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিদায়ী বছরে ডিসেম্বরে এ জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৩ দিন। তার মধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে ৬ দিন। ১১ থেকে ১২ ডিগ্রির মধ্যে ৬ দিন, ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রির মধ্যে ৬ দিন, ১৩ থেকে ১৪ ডিগ্রির মধ্যে ৪ দিন, ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে ২ দিনসহ তার উপরেই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই হিম বাতাসে বইছে শীতের ঝাঞ্জা। রাত ৯টার মধ্যে প্রায় কোলাহাল থেমে যায় শহর ও গ্রামের হাটবাজারগুলো। রাত বাড়তে থাকলে কুয়াশার সাথে শিশির বৃষ্টি পড়তে দেখা যায়। ভোর থেকেই কুয়াশার আবরণে দেশের এ প্রান্তিক জেলা। কুয়াশা ঝরা ঠান্ডা বাতাসের কারণে নেমে এসেছে স্থবিরতা। জীবিকার তাগিদে নিম্নআয়ের মানুষগুলো কাজে বের হলেও শহরের অধিকাংশ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তবে শীত উপেক্ষা করেই আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোট যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ও নির্বাচনী সভার মধ্য দিয়ে শীতে ঘাম ঝরাচ্ছেন প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। দুপুর পর্যন্ত ঢাকা থাকছে সূর্যের মুখ। সূর্যের মুখ দেখা গেলেও সে রোদে মেলেনি উষ্ণতা। আকবর আলী, জাবেদ ও নুরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা জানান, নতুন বছরের শুরুতেই কুয়াশা আর বাতাসের কারণে ঠান্ডা লাগতেছে। ১৪/১৫ দিন পর গতকাল থেকেই ভোর থেকে কুয়াশা। কনকনে শীতের তীব্রতা না থাকলেও হিমেল হাওয়ার কারণেই বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। ভ্যানচালক আবুল কালাম আজাদ ও নুরু মিয়া জানান, কয়েকদিন ঝকঝকে রোদের পর আবার কুয়াশা দেখা দিল এ অঞ্চলে। কুয়াশার কারণে ভ্যানে চরতে চান না অনেকেই। তারা অটোরিকশায় যান। এ কারণে কামাই কম হয় কুয়াশা থাকলে। পাথর শ্রমিক আরশেদ, জামাল ও জুয়েল জানান, আজ বছরের শেষ দিনে বেশ কুয়াশা। এ সময়টা চা পাতার কাজ কমে গেছে। দুদিন ধরে আবার কুয়াশা। তবে কি আর করবো, কাজে বেরিয়েছি। শীতের কারণে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, ক্রনিক শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে আউটডোরে ঠান্ডাজনিত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি শীতজনিত রোগ থেকে নিরাময় থাকতে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেছেন চিকিৎসকরা। জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, আজকে বছরের প্রথম দিন। আজ সোমবার সকাল ৯টায় ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। গত বছর আজকের দিনে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল। এ জেলা হিমালয় বিধৌত এলাকায় অবস্থান হওয়ায় এখানে অন্যান্য এলাকা থেকে শীত আগে নামে। এ সময়টাতে তাপমাত্রা অনেক কম থাকে। আগামীতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশের পথে যাত্রা শুরু করেছেন হাজিরা

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ১১.৬ ডিগ্রি

প্রকাশিত সময় : ১১:২৪:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জানুয়ারী ২০২৪

নতুন বছরের প্রথম দিনে ঘন কুয়াশা আর হিমশীতল হাওয়ায় শীত জেকে বসেছে পঞ্চগড়ে। আজ সোমবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর তিন ঘণ্টা আগে ভোর ৬টায় ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সকালে আবহাওয়ার তথ্যটি জানিয়েছেন জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের আজকের এই দিনে (১ জানুয়ারি) তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বছরের শুরুতে তাপমাত্রা রেকর্ড হলো ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিদায়ী বছরে ডিসেম্বরে এ জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৩ দিন। তার মধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে ৬ দিন। ১১ থেকে ১২ ডিগ্রির মধ্যে ৬ দিন, ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রির মধ্যে ৬ দিন, ১৩ থেকে ১৪ ডিগ্রির মধ্যে ৪ দিন, ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে ২ দিনসহ তার উপরেই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই হিম বাতাসে বইছে শীতের ঝাঞ্জা। রাত ৯টার মধ্যে প্রায় কোলাহাল থেমে যায় শহর ও গ্রামের হাটবাজারগুলো। রাত বাড়তে থাকলে কুয়াশার সাথে শিশির বৃষ্টি পড়তে দেখা যায়। ভোর থেকেই কুয়াশার আবরণে দেশের এ প্রান্তিক জেলা। কুয়াশা ঝরা ঠান্ডা বাতাসের কারণে নেমে এসেছে স্থবিরতা। জীবিকার তাগিদে নিম্নআয়ের মানুষগুলো কাজে বের হলেও শহরের অধিকাংশ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তবে শীত উপেক্ষা করেই আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোট যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ও নির্বাচনী সভার মধ্য দিয়ে শীতে ঘাম ঝরাচ্ছেন প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। দুপুর পর্যন্ত ঢাকা থাকছে সূর্যের মুখ। সূর্যের মুখ দেখা গেলেও সে রোদে মেলেনি উষ্ণতা। আকবর আলী, জাবেদ ও নুরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা জানান, নতুন বছরের শুরুতেই কুয়াশা আর বাতাসের কারণে ঠান্ডা লাগতেছে। ১৪/১৫ দিন পর গতকাল থেকেই ভোর থেকে কুয়াশা। কনকনে শীতের তীব্রতা না থাকলেও হিমেল হাওয়ার কারণেই বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। ভ্যানচালক আবুল কালাম আজাদ ও নুরু মিয়া জানান, কয়েকদিন ঝকঝকে রোদের পর আবার কুয়াশা দেখা দিল এ অঞ্চলে। কুয়াশার কারণে ভ্যানে চরতে চান না অনেকেই। তারা অটোরিকশায় যান। এ কারণে কামাই কম হয় কুয়াশা থাকলে। পাথর শ্রমিক আরশেদ, জামাল ও জুয়েল জানান, আজ বছরের শেষ দিনে বেশ কুয়াশা। এ সময়টা চা পাতার কাজ কমে গেছে। দুদিন ধরে আবার কুয়াশা। তবে কি আর করবো, কাজে বেরিয়েছি। শীতের কারণে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, ক্রনিক শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে আউটডোরে ঠান্ডাজনিত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি শীতজনিত রোগ থেকে নিরাময় থাকতে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেছেন চিকিৎসকরা। জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, আজকে বছরের প্রথম দিন। আজ সোমবার সকাল ৯টায় ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। গত বছর আজকের দিনে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল। এ জেলা হিমালয় বিধৌত এলাকায় অবস্থান হওয়ায় এখানে অন্যান্য এলাকা থেকে শীত আগে নামে। এ সময়টাতে তাপমাত্রা অনেক কম থাকে। আগামীতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।