শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদাবাজি-প্রতারণার অভিযোগে ‘বহিষ্কৃত’ সহসমন্বয়ক গ্রেপ্তার

ফেনীতে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও মানহানির অভিযোগে করা এক মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে ‘বহিষ্কৃত’ এক সহসমন্বয়ককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে ফেনী মডেল থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেনী মডেল থানার ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরা এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার ওমর ফারুক শুভ ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের জগৎ-জীবনপুর গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফেনীর সমন্বয়ক মো. আবদুল আজিজের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফেনী কমিটির সহসমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন ওমর ফারুক। তখন নিজেকে তিনি ফেনী সরকারি কলেজ ও আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরে আন্দোলনে শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকায় গত ১৭ আগস্ট তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফেনী জেলার সহসমন্বয়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। জানা যায়, সরকার পরিবর্তনের পর নানা কেলেঙ্কারির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হন ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসান। সম্প্রতি তাকে স্বপদে বহাল রাখার আশ্বাস দিয়ে চাঁদা দাবি করেন ওমর ফারুক শুভ।

চাঁদা দাবির ১৫ মিনিট ১২ সেকেন্ডের একটি কথোপকথনের অডিও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ওই অডিওতে শোনা যায়, ওমর ফারুক শুভ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আবদুল কাদের ও হামজা মাহবুবের কথা বলে অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ও ফেনীর বাসিন্দা আজিজুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

ওই কথোপকথনে ওমর ফারুক শুভ সরকারের উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এ কারণে অডিও ফাঁসের পর থেকে জেলাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই কথোপকথনে শুভ অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসানকে বলছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে তার কথা হয়। এ ছাড়া উপদেষ্টাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হওয়াসহ নিজে সেন্ট্রালে (কেন্দ্রীয়) লিড দেন বলে দাবি করেন। কথোপকথনে তিনি সেন্ট্রাল সমন্বয়কদের জামায়াত সমর্থিত উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বিএনপি করে বলে জানান এবং নাহিদের বাবা বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে যুবদল করে বলে উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি নাহিদের পিএসের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান। তবে গ্রেপ্তারের আগে ভাইরাল হওয়া অডিও সুপার এডিট করা হয়েছে দাবি করে শুভ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য সুপার এডিট করা। এটি আমার কণ্ঠ না। আমার কাজের মাধ্যমে আমি ফেনীতে জনপ্রিয় হয়ে গেছি। সেজন্য আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছে। চাঁদাবাজির এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, গ্রেপ্তার শুভকে বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশের পথে যাত্রা শুরু করেছেন হাজিরা

চাঁদাবাজি-প্রতারণার অভিযোগে ‘বহিষ্কৃত’ সহসমন্বয়ক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত সময় : ০৯:০২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫

ফেনীতে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও মানহানির অভিযোগে করা এক মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে ‘বহিষ্কৃত’ এক সহসমন্বয়ককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে ফেনী মডেল থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেনী মডেল থানার ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরা এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার ওমর ফারুক শুভ ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের জগৎ-জীবনপুর গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফেনীর সমন্বয়ক মো. আবদুল আজিজের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফেনী কমিটির সহসমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন ওমর ফারুক। তখন নিজেকে তিনি ফেনী সরকারি কলেজ ও আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরে আন্দোলনে শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকায় গত ১৭ আগস্ট তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফেনী জেলার সহসমন্বয়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। জানা যায়, সরকার পরিবর্তনের পর নানা কেলেঙ্কারির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হন ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসান। সম্প্রতি তাকে স্বপদে বহাল রাখার আশ্বাস দিয়ে চাঁদা দাবি করেন ওমর ফারুক শুভ।

চাঁদা দাবির ১৫ মিনিট ১২ সেকেন্ডের একটি কথোপকথনের অডিও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ওই অডিওতে শোনা যায়, ওমর ফারুক শুভ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আবদুল কাদের ও হামজা মাহবুবের কথা বলে অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ও ফেনীর বাসিন্দা আজিজুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

ওই কথোপকথনে ওমর ফারুক শুভ সরকারের উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এ কারণে অডিও ফাঁসের পর থেকে জেলাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই কথোপকথনে শুভ অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসানকে বলছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে তার কথা হয়। এ ছাড়া উপদেষ্টাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হওয়াসহ নিজে সেন্ট্রালে (কেন্দ্রীয়) লিড দেন বলে দাবি করেন। কথোপকথনে তিনি সেন্ট্রাল সমন্বয়কদের জামায়াত সমর্থিত উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বিএনপি করে বলে জানান এবং নাহিদের বাবা বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে যুবদল করে বলে উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি নাহিদের পিএসের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান। তবে গ্রেপ্তারের আগে ভাইরাল হওয়া অডিও সুপার এডিট করা হয়েছে দাবি করে শুভ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য সুপার এডিট করা। এটি আমার কণ্ঠ না। আমার কাজের মাধ্যমে আমি ফেনীতে জনপ্রিয় হয়ে গেছি। সেজন্য আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছে। চাঁদাবাজির এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, গ্রেপ্তার শুভকে বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।