মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে বাধ্য করতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। তারা বলছে, চলমান যুদ্ধ অবসানে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতেই মার্কিন প্রশাসন এই বিশাল সামরিক সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, প্রায় ৬ হাজার সৈন্য নিয়ে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ এই অঞ্চলে অবস্থান নিতে পারে। এছাড়া চলতি মাসের শেষের দিকে আরও প্রায় ৪ হাজার ২০০ সৈন্য তাদের সাথে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সেনা মোতায়েনের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ২২ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এই সময়েই মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পেন্টাগন কেবল সৈন্য মোতায়েনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না বরং ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা বা স্থল অভিযানের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

এই সম্ভাব্য অভিযানের মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়া, হরমুজ প্রণালি রক্ষায় উপকূলীয় অঞ্চলে মেরিন সেনা নামানো এবং ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিশন।

তবে এই পরিকল্পনার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর বা পেন্টাগন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এক নতুন এবং ভয়াবহ মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত সময় : ০৭:১১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ইরানকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে বাধ্য করতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। তারা বলছে, চলমান যুদ্ধ অবসানে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতেই মার্কিন প্রশাসন এই বিশাল সামরিক সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, প্রায় ৬ হাজার সৈন্য নিয়ে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ এই অঞ্চলে অবস্থান নিতে পারে। এছাড়া চলতি মাসের শেষের দিকে আরও প্রায় ৪ হাজার ২০০ সৈন্য তাদের সাথে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সেনা মোতায়েনের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ২২ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এই সময়েই মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পেন্টাগন কেবল সৈন্য মোতায়েনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না বরং ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা বা স্থল অভিযানের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

এই সম্ভাব্য অভিযানের মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়া, হরমুজ প্রণালি রক্ষায় উপকূলীয় অঞ্চলে মেরিন সেনা নামানো এবং ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিশন।

তবে এই পরিকল্পনার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর বা পেন্টাগন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এক নতুন এবং ভয়াবহ মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট