রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবারের এসএসসিতে যেসব নিয়ম না মানলেই ঘটবে বিপদ

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিজস্ব ল্যাবরেটরি সুবিধা নেই এমন কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার কেন্দ্র একই স্থানে অনুষ্ঠিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন, যাতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই নম্বর প্রদান করা হয়।

পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষক নিয়োগে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। কোনোভাবেই নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষককে একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এছাড়া উত্তরপত্র ও নম্বর ফর্দ পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে সরাসরি বোর্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নকল ও অনিয়ম রোধে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০ ধরনের অপরাধ চিহ্নিত করে তিন স্তরের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

প্রথম স্তরে পরীক্ষা কক্ষে কথা বলা, ডেস্কে বা পোশাকে কোনো কিছু লেখা থাকা, ক্যালকুলেটরে তথ্য লুকিয়ে রাখা কিংবা মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখলে সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে।

দ্বিতীয় স্তরে যদি কোনো পরীক্ষার্থী প্রশ্ন বা উত্তরপত্র হলের বাইরে পাচার করে, কক্ষ প্রত্যবেক্ষককে হুমকি প্রদান করে কিংবা উত্তরপত্র জমা না দিয়ে হল ত্যাগ করে, তবে তার ওই বছরের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছরের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হবে।

তৃতীয় স্তরে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়া (প্রক্সি), রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা, উত্তরপত্র বিনিময় করা এবং কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের শারীরিকভাবে আক্রমণ কিংবা অস্ত্রের প্রদর্শন করার মতো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে সরাসরি দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হবে। একইসঙ্গে এসব গুরুতর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং নিয়মিত ফৌজদারি মামলা করা হবে।

এখন থেকে সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। ১০০ নম্বরের পরীক্ষার ক্ষেত্রে ৩০ নম্বরের এমসিকিউ-এর জন্য ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে

পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি বা অসদুপায় রোধে এবার বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানো হচ্ছে ‘ভিজিল্যান্স টিম’। ডিজিটাল নজরদারি এড়ানোর সব পথ বন্ধ করতে এই টিমকে যেকোনো সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে ঝটিকা অভিযান চালানোর পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। অভিযানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা শনাক্ত হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

নতুন সময়সূচি ও আসন বিন্যাসে আমূল পরিবর্তন

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রকাশিত নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সময় বিভাজনে নতুন নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। এখন থেকে সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। ১০০ নম্বরের পরীক্ষার ক্ষেত্রে ৩০ নম্বরের এমসিকিউ-এর জন্য ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে ব্যবহারিক আছে এমন বিষয়গুলোতে ২৫ নম্বরের এমসিকিউ-এর জন্য ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীলের জন্য শিক্ষার্থীরা ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় পাবেন। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, অটিস্টিক বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট সময় বেশি পাবেন এবং নিয়ম অনুযায়ী তারা চাইলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শ্রুতিলেখক সঙ্গে রাখতে পারবেন।

পরীক্ষার হলে নকলমুক্ত পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আসন বিন্যাসেও আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। বোর্ডের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ৫ থেকে ৬ ফুট লম্বা প্রতি বেঞ্চে সর্বোচ্চ ২ জন এবং ৪ ফুট লম্বা বেঞ্চে মাত্র ১ জন পরীক্ষার্থী বসতে পারবে। একই বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের পরস্পরের কাছাকাছি আসন বরাদ্দ দেওয়া যাবে না এবং কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নিজস্ব কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে পারবে না। এছাড়া হলে সুষ্ঠু তদারকির জন্য প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে একজন করে কক্ষ প্রত্যবেক্ষক রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনে শিক্ষকদের জন্যও থাকছে কড়া হুঁশিয়ারি। ওএমআর শিট বা উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার তথ্যে কোনো ভুল বা গরমিল পাওয়া গেলে এবং এতে কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বোর্ড।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

রাজশাহী চেম্বার নির্বাচন: বিএনপিপন্থী ১১, জামায়াতপন্থী ১০ পদে জয়ী

এবারের এসএসসিতে যেসব নিয়ম না মানলেই ঘটবে বিপদ

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিজস্ব ল্যাবরেটরি সুবিধা নেই এমন কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার কেন্দ্র একই স্থানে অনুষ্ঠিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন, যাতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই নম্বর প্রদান করা হয়।

পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষক নিয়োগে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। কোনোভাবেই নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষককে একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এছাড়া উত্তরপত্র ও নম্বর ফর্দ পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে সরাসরি বোর্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নকল ও অনিয়ম রোধে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০ ধরনের অপরাধ চিহ্নিত করে তিন স্তরের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

প্রথম স্তরে পরীক্ষা কক্ষে কথা বলা, ডেস্কে বা পোশাকে কোনো কিছু লেখা থাকা, ক্যালকুলেটরে তথ্য লুকিয়ে রাখা কিংবা মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখলে সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে।

দ্বিতীয় স্তরে যদি কোনো পরীক্ষার্থী প্রশ্ন বা উত্তরপত্র হলের বাইরে পাচার করে, কক্ষ প্রত্যবেক্ষককে হুমকি প্রদান করে কিংবা উত্তরপত্র জমা না দিয়ে হল ত্যাগ করে, তবে তার ওই বছরের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছরের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হবে।

তৃতীয় স্তরে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়া (প্রক্সি), রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা, উত্তরপত্র বিনিময় করা এবং কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের শারীরিকভাবে আক্রমণ কিংবা অস্ত্রের প্রদর্শন করার মতো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে সরাসরি দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হবে। একইসঙ্গে এসব গুরুতর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং নিয়মিত ফৌজদারি মামলা করা হবে।

এখন থেকে সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। ১০০ নম্বরের পরীক্ষার ক্ষেত্রে ৩০ নম্বরের এমসিকিউ-এর জন্য ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে

পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি বা অসদুপায় রোধে এবার বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানো হচ্ছে ‘ভিজিল্যান্স টিম’। ডিজিটাল নজরদারি এড়ানোর সব পথ বন্ধ করতে এই টিমকে যেকোনো সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে ঝটিকা অভিযান চালানোর পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। অভিযানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা শনাক্ত হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

নতুন সময়সূচি ও আসন বিন্যাসে আমূল পরিবর্তন

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রকাশিত নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সময় বিভাজনে নতুন নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। এখন থেকে সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। ১০০ নম্বরের পরীক্ষার ক্ষেত্রে ৩০ নম্বরের এমসিকিউ-এর জন্য ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে ব্যবহারিক আছে এমন বিষয়গুলোতে ২৫ নম্বরের এমসিকিউ-এর জন্য ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীলের জন্য শিক্ষার্থীরা ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় পাবেন। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, অটিস্টিক বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট সময় বেশি পাবেন এবং নিয়ম অনুযায়ী তারা চাইলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শ্রুতিলেখক সঙ্গে রাখতে পারবেন।

পরীক্ষার হলে নকলমুক্ত পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আসন বিন্যাসেও আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। বোর্ডের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ৫ থেকে ৬ ফুট লম্বা প্রতি বেঞ্চে সর্বোচ্চ ২ জন এবং ৪ ফুট লম্বা বেঞ্চে মাত্র ১ জন পরীক্ষার্থী বসতে পারবে। একই বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের পরস্পরের কাছাকাছি আসন বরাদ্দ দেওয়া যাবে না এবং কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নিজস্ব কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে পারবে না। এছাড়া হলে সুষ্ঠু তদারকির জন্য প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে একজন করে কক্ষ প্রত্যবেক্ষক রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনে শিক্ষকদের জন্যও থাকছে কড়া হুঁশিয়ারি। ওএমআর শিট বা উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার তথ্যে কোনো ভুল বা গরমিল পাওয়া গেলে এবং এতে কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বোর্ড।