টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ কেয়া পায়েল। এককের পাশাপাশি ধারাবাহিক নাটক নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। বিশেষ করে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকে মেহেরীন চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রসংশা কুড়িয়েছেন তিনি। এসবের মাঝে তার শারীরিক পরিবর্তন বা প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ গুঞ্জন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনদের দাবি- সৌন্দর্য বাড়াতে এই অভিনেত্রী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন।
সম্প্রতি মাছরাঙা টিভি একটি পডকাস্টে প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন কেয়া পায়েল। সেখানেই প্রথমবার নিজের সার্জারি গুঞ্জন ও ট্রল নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
পায়েলের কথায়, ‘এই প্রথম আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি। তবে আমি বলব, প্রত্যেকটি মানুষ জন্মগতভাবেই সুন্দর। আমি ছোটবেলা থেকেই নিজের সৌন্দর্য নিয়ে প্রশংসা শুনে বড় হয়েছি। আমার কাছে প্রকৃতিক সৌন্দর্যটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
কেয়া পায়েল জানান, নিজের একটি বিউটি স্যালুন থাকায় সৌন্দর্য নিয়ে আরও বেশি কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয় তার। সেই আগ্রহ থেকেই চেহারায় সামান্য পরিবর্তনের চিন্তা আসে তার।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কখনো আমার মধ্যে এমন উদ্দেশ্য ছিল না যে বাড়তি কিছু করে আমার সৌন্দর্য বাড়াতে হবে। কারণ, আমি যেমন আছি তেমনই খুশি। তবে টুকটাক দুই একটা জিনিস একটু জাস্ট অ্যাড করেছি। আর তাতেই আমার ভক্তরা এমনভাবে ক্ষেপে গেল। তারা এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। তাদের এই অবস্থা দেখে আমি মনে মনে বললাম ভাই মাফ চাই, আর হবে না।’
বাইরের দেশের তারকারা এমন পরিবর্তন করলে সেটিকে গ্রুমিং বলা হয় অথচ দেশের শিল্পীদের ক্ষেত্রে ট্রল করা হয় কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে দেশের মানুষের মানসিকতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।
কেয়া পায়েল বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ একটু অতি আবেগী। একজন যদি বলা শুরু করলে অন্যরাও না জেনেই বলা শুরু করবে। তারা জানেই না কী হয়েছে। এমনকি আমার পাঁচ বছর আগের ছবি দেখেও এখন মন্তব্য করে। এই হুজুগে মানসিকতা আমাদের পুরো জাতির মধ্যেই রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তায় কোনো ঘটনা ছাড়াই শুধু ভিড় দেখে মানুষ জড়ো হয়। সেখানে কী হচ্ছে তা না জেনেই মানুষ দাঁড়িয়ে যায়। এই মানসিকতা আসলে অনেক দিন ধরে প্র্যাকটিস হচ্ছে।’

বিনোদন ডেস্ক/ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 






















