বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বয়কট করলো ইরান, এলো নতুন ঘোষণা

দীর্ঘদিন ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যের জেরে সুইজারল্যান্ডে আলোচনাস্থল সাময়িকভাবে ত্যাগ করেছে ইরানের প্রতিনিধি দল।

রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সময় ট্রাম্প ইরানের মিত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে সমর্থন অব্যাহত রাখলে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন। এর কিছুক্ষণ পরই ইরানি প্রতিনিধিরা আলোচনাস্থল থেকে বেরিয়ে যান বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।

আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনাস্থল ত্যাগ করে। একই সময়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর বার্তা দেন।

তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান আলোচনায় অংশগ্রহণ বন্ধ করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কূটনীতিক বলেন, ইরানি প্রতিনিধি দল এখনো আলোচনায় সম্পৃক্ত রয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তারা আলোচনা ত্যাগের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, তাদের বক্তব্যের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন হলে ভিন্নভাবে জবাব দিতে প্রস্তুত। তারা যা-ই বলুক, কাজ আমরাই করি।

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে শুরু হওয়া এই আলোচনা সফল হলে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের অমীমাংসিত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার পথ খুলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে আলোচনার অগ্রগতির পথে এখনো বেশ কিছু বড় বাধা রয়েছে। বিশেষ করে লেবাননে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনারা ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন অবস্থান করবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, আলোচনার প্রথম ৮০ মিনিটে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি আলোচিত হয়নি। বরং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং লেবাননের পরিস্থিতিই ছিল আলোচনার মূল বিষয়।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনাকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, আমরা কি নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে পারি? মধ্যপ্রাচ্যের সম্পর্ক কি স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব? নাকি আমরা আবার পুরোনো পথে ফিরে যাব?

বর্তমান আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত পুরো অঞ্চলকে নতুন করে অস্থির করে তুলেছে। যুদ্ধ বন্ধ না হলে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতার পর্যায়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হলে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে আলোচনার টেবিলে বসেও উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে লেবাননে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আলোচনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘নতুন অধ্যায়ের’ সূচনা করতে পারে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা সেই সম্ভাবনাকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সূত্র: দ্য স্ট্রেট টাইমস,  দ্য হিন্দু

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

হাসিনাসহ ১০ জনের নামে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করতে পুলিশে দুদকের আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বয়কট করলো ইরান, এলো নতুন ঘোষণা

প্রকাশিত সময় : ০৫:৫২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যের জেরে সুইজারল্যান্ডে আলোচনাস্থল সাময়িকভাবে ত্যাগ করেছে ইরানের প্রতিনিধি দল।

রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সময় ট্রাম্প ইরানের মিত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে সমর্থন অব্যাহত রাখলে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন। এর কিছুক্ষণ পরই ইরানি প্রতিনিধিরা আলোচনাস্থল থেকে বেরিয়ে যান বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।

আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনাস্থল ত্যাগ করে। একই সময়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর বার্তা দেন।

তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান আলোচনায় অংশগ্রহণ বন্ধ করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কূটনীতিক বলেন, ইরানি প্রতিনিধি দল এখনো আলোচনায় সম্পৃক্ত রয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তারা আলোচনা ত্যাগের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, তাদের বক্তব্যের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন হলে ভিন্নভাবে জবাব দিতে প্রস্তুত। তারা যা-ই বলুক, কাজ আমরাই করি।

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে শুরু হওয়া এই আলোচনা সফল হলে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের অমীমাংসিত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার পথ খুলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে আলোচনার অগ্রগতির পথে এখনো বেশ কিছু বড় বাধা রয়েছে। বিশেষ করে লেবাননে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনারা ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন অবস্থান করবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, আলোচনার প্রথম ৮০ মিনিটে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি আলোচিত হয়নি। বরং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং লেবাননের পরিস্থিতিই ছিল আলোচনার মূল বিষয়।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনাকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, আমরা কি নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে পারি? মধ্যপ্রাচ্যের সম্পর্ক কি স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব? নাকি আমরা আবার পুরোনো পথে ফিরে যাব?

বর্তমান আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত পুরো অঞ্চলকে নতুন করে অস্থির করে তুলেছে। যুদ্ধ বন্ধ না হলে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতার পর্যায়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হলে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে আলোচনার টেবিলে বসেও উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে লেবাননে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আলোচনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘নতুন অধ্যায়ের’ সূচনা করতে পারে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা সেই সম্ভাবনাকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সূত্র: দ্য স্ট্রেট টাইমস,  দ্য হিন্দু