প্রকাশিত সময় :
০৫:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
২
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি বলেছেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন, পরবর্তীতে সেটা গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন পেশাজীবী, শ্রমিক ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণে যে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন এক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করতে চেয়েছিলাম, সেই বাংলাদেশ দুই বছর পরে এসেও আমরা এখনো পর্যন্ত পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি।
আজ বুধবার (১ জুলাই) রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, আমাদের শহীদ পরিবারের যারা সদস্য আছেন, তারা তাদের পরিবারের সদস্যকে হারিয়েছেন। যারা আহত যোদ্ধা আছেন, এখনো অনেকেই হাসপাতালগুলোতে কাতরাচ্ছেন এবং পুরোপুরিভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেননি। সরকারের তরফ থেকে কিছু সাহায্য-সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু যেটা এখনো পর্যন্ত অপর্যাপ্ত। এই কারণে আমরা বর্তমান সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ এবং আহত হয়েছেন—বিশেষত যারা পঙ্গু অবস্থায় আছেন ও চিকিৎসাধীন আছেন—তাদের চিকিৎসার পরিপূর্ণ ব্যবস্থা করা এবং শহীদ ও আহত পরিবারগুলোকে পরিপূর্ণভাবে পুনর্বাসনের আওতায় নিয়ে আসা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থানের সময়টাতে যারা গণহত্যার পরিকল্পনা করেছেন, গণহত্যা করেছেন, বাংলাদেশের মানুষদের হত্যা করেছেন, গুলিবর্ষণ করেছেন, পিটিয়ে বা পুড়িয়ে হত্যা করেছেন—এমনকি হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে—শেখ হাসিনাসহ এই আওয়ামী লীগ সরকারের যারা এতে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যারা এই হত্যাকাণ্ডে সপ্রণোদিতভাবে জড়িত ছিলেন, তাদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার মামলার রায় হয়েছে, কিন্তু সেই রায় কখন কার্যকর করা হবে তার কোনো দিশা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো, ভারত সরকারের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে এই গণহত্যার দায়ে তার ফাঁসির রায় যেন কার্যকর করা হয়।
‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ নিয়ে এসময় রংপুর-০৪ আসনের এমপি আরও বলেন, এটি এখন এক প্রকার অকার্যকর অবস্থায় আছে, যেহেতু এর বেতনাদি অনেকদিন ধরেই বন্ধ। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাবো, জুলাই ফাউন্ডেশনের বেতন চালু করা এবং এটিকে একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য সকল ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হোক।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, দুই বছর ধরে সেখানে রাখা আলামত ও নিদর্শনগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আমরা আহ্বান জানাবো, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরটি যেন অতিদ্রুত উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, যাতে বাংলাদেশের সকল মানুষ সেখানে যেতে পারেন এবং জুলাইয়ের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারেন।