সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। এর মধ্যে আমাদের আরব বন্ধু দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও ছিলেন। তাদের উপস্থিতি ইরানকে আনন্দিত করেছে। তিনি আরও বলেন, এই ঐতিহাসিক স্মৃতি দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এদিকে, চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুর রেজা রাহমানি ফাজলি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান নতুন সেবা ফি আরোপ করতে যাচ্ছে। তবে যেসব দেশ বর্তমান সংকটকালে ইরানের পাশে ছিল, তারা বিশেষ ছাড় পাবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ৬০ দিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বিনা ফিতে চলাচল করতে পারবে। তবে এরপর কী নিয়ম কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীর একটি অংশ আমাদের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে পড়ে। তাই সেখানে আমরা অবশ্যই সেবা ফি আরোপ করব। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি কোনো বাধ্যতামূলক টোল বা কর নয়।
নতুন ব্যবস্থার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা এবং অতিরিক্ত জাহাজ চলাচলের কারণে সৃষ্ট পরিবেশত ক্ষতি কমানোই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, যেসব দেশ কঠিন সময়ে আমাদের পাশে ছিল, তাদের প্রতি আমরা এই ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় বিবেচনা করব।
এদিকে প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানা যায়, তেহরানের গ্র্যান্ড প্রেয়ার গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত বহুদিনব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দ্বিতীয় দিন শেষে লাখো শোকাহত ও বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ কূটনীতিকরা এতে অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ (Dmitry Medvedev), তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।

এছাড়া সৌদি আরব, কাতার, ওমান, মিসর, ভারত, আফগানিস্তান, লেবানন, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনসহ বহু দেশ থেকে প্রতিনিধিদল অংশ নেয় বলে জানানো হয়েছে।
ইরানি সূত্রগুলো দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে এই অনুষ্ঠানে অংশ না নিতে চাপ প্রয়োগ করেছিল। তবে এরপরও উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক উপস্থিতি দেখা গেছে।
অনুষ্ঠানের সময়সূচি অনুযায়ী, ৭ জুলাই কোম শহরে একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরে মরদেহ ইরাক হয়ে মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারে দাফনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, প্রেস টিভি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 





















