মেসি বলেন, “তারা দারুণ একটি দল। অসাধারণ সব খেলোয়াড় এবং সুসংগঠিত খেলার ধরন রয়েছে তাদের। বহু বছর ধরে একই দর্শনে খেলছে তারা। অনেক খেলোয়াড়কে আমি ভালোভাবে চিনি, অনেকের বিপক্ষে খেলেছি, কয়েকজন বার্সেলোনাতেও খেলছে—যে ক্লাবটিকে আমি ভালোবাসি। এটি একটি বিশেষ ফাইনাল হবে। আমি মনে করি, ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।”
মেসি বলেন, “শুরু থেকেই সবকিছু ছিল অবিশ্বাস্য। মাঠে প্রবেশের সময় এবং জাতীয় সংগীত চলাকালে আমরা বিশেষ এক অনুভূতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি, পুরো দল সেটি অনুভব করেছে। এটি শুধু আরেকটি জয় ছিল না। এটি এমন একটি জয়, যা আর্জেন্টিনার মানুষ চেয়েছিল, আমরাও চেয়েছিলাম। আর সেই জয় আমাদের আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে গেছে।”
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা নিয়ে তিনি বলেন, “পরপর দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এই দল অসাধারণ। আজও কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা লড়াই করেছি, কখনো বিশ্বাস হারাইনি, চেষ্টা থামাইনি। নিজেদের ফুটবল খেলেছি। পিছিয়ে থেকেও প্রতিপক্ষকে তাদের অর্ধে চেপে ধরেছিলাম। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
দলের প্রতি আস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “এই দল আমাকে হতাশ করে না। আমরা জানতাম আমাদের সামর্থ্য কী। অনেকে হয়তো সন্দেহ করেছিল, কারণ কয়েকজন খেলোয়াড় শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট ছিল না। কিন্তু এই দল একসঙ্গে হলে সবসময় নিজেদের সেরাটা বের করে আনতে পারে। একজন আরেকজনকে অনুপ্রাণিত করে এবং নিজেদের অজানা শক্তিও খুঁজে পায়।”
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উদ্দেশে মেসি বলেন, “আমরা যেমন এই মুহূর্ত উপভোগ করছি, আপনারাও তেমন উপভোগ করুন। আমরা আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে, আবারও বিশ্বের সেরা দুই দলের একটি। গত চার বছর ধরে আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে কাটিয়েছি, এখন আবার ফাইনালে। এই মুহূর্ত উপভোগ করুন। আজ আমরা শেষ ধাপটি পেরিয়েছি, যেটা আমরা সবাই চেয়েছিলাম। এখন বাকিটা ঈশ্বরের ইচ্ছা।”
সমালোচকদের উদ্দেশে মেসি বলেন, “বিশ্বকাপ জয়ের পর আবারও ফাইনালে ওঠা প্রমাণ করে, গত চার বছরে আমরাই সেরা—মানুষ সেটা মানুক বা না-মানুক। আজও আমরা বিশ্বের সেরা দুই দলের একটি। এতে বোঝা যায়, আমাদের অর্জনগুলো কাকতালীয় নয়, কেউ আমাদের কিছু উপহার দেয়নি। টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা খুব কম দলের পক্ষেই সম্ভব, আর সেটাই এই দল করে দেখিয়েছে।”
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি জানান, “গত বছরই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সবকিছুই স্কালোনির সঙ্গে আলোচনা করে করেছি। নিজেকে সেরা অবস্থায় আনতে এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। ডিসেম্বরজুড়ে আর্জেন্টিনায় সকাল-বিকেল অনুশীলন করেছি। আমি জানতাম, বিশ্বকাপটা উপভোগ করতে হলে আমাকে শতভাগ ফিট থাকতে হবে।
শেষে আর্জেন্টিনার মানুষের উদ্দেশে মেসি বলেন, “আমরা গর্বিত যে মানুষকে আনন্দ দিতে পেরেছি। বিশ্বকাপ আমাদের জন্য সবসময়ই বিশেষ। আমাদের দেশে অনেক মানুষ বেকার, অনেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খান। এমন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারা, আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা—এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
ইংল্যান্ডকে হারানোর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি ছিল বিশেষ একটি ম্যাচ। আমরা হারতে পারতাম না। এই দল কারও কাছে কিছু পাওনা নয়, কিন্তু আমরা জানি আর্জেন্টিনার মানুষ সবসময় আরও বেশি প্রত্যাশা করে। আজ যদি আমরা হেরে যেতাম, তাহলে অনেকে কত কী বলত। আমরা তাদের সেই সুযোগ দিইনি। ফুটবলীয় দিক থেকে আমরা যে ভালো দল, সেটা আমরা জানতাম। তবে এমন ম্যাচে ইতিহাসও তৈরি হয়। তাই এই জয় আমাদের জন্য বিশেষ ছিল এবং জিততেই হতো।”
সূত্র: টিওয়াইসি স্পোর্টস

স্পোর্টস ডেস্ক/ ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 



















