শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানাল এনসিপি

সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

আজ শুক্রবার রাত পৌনে আটটায় রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে ব্যাংক খাত ধ্বংস, ব্যাংক দখল ও লুটপাটে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের দায়িত্বে থাকাকালে সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতি ধামাচাপা দিয়েছেন এবং সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন। একইসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার প্রক্রিয়াতেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এনসিপির সদস্য সচিব আরও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের বৈধতা দিয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। পরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে কোনো অবস্থান নেননি। বরং শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত গণহত্যা, গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে তিনি প্রকারান্তরে এসব কর্মকাণ্ডকে সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দাবি করেছিলেন শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র তার কাছে জমা রয়েছে। কিন্তু পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার কাছে কোনো পদত্যাগপত্র নেই। এ ঘটনাকে উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, ‘‘এমন একজন মিথ্যাবাদী ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির শপথ ধারণ করার নৈতিক যোগ্যতা রাখেন না।’’

আখতার হোসেন বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠনের আগেই জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণের দাবি তোলা হয়েছিল। সে সময় সাংবিধানিক সংকটের অজুহাতে তাকে অপসারণ করা হয়নি। পরবর্তীতে নির্বাচন শেষে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এনসিপি তার অভিশংসন ও অপসারণের দাবি জানায়। এমনকি সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময়ও তারা ওয়াকআউট করেছিলেন বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তার ভাষায়, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার রাজনৈতিক সংশ্লেষ থাকায় এ যোগাযোগ স্বাভাবিক। তবে বিএনপি অনেক দেরিতে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি

আখতার হোসেন বলেন, অতীতে বিএনপি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে রাষ্ট্রপতি পদে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সুযোগ পেলে তিনি এখনও ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, শুধু পদত্যাগ করাই যথেষ্ট নয়। সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো রয়েছে, সেগুলোর জন্য তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পদত্যাগপত্রে অসুস্থতার কথা উল্লেখ করলেও সেখানে এমন রাজনৈতিক বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে, যা তার জন্য একটি ‘সেফ এক্সিট’ তৈরির চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন আখতার হোসেন।

তিনি আরও বলেন, এতদিন রাষ্ট্রপতি পদে থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব না হলেও পদত্যাগের পর তার আর কোনো আইনগত দায়মুক্তি নেই। তাই অনতিবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানাল এনসিপি

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

আজ শুক্রবার রাত পৌনে আটটায় রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে ব্যাংক খাত ধ্বংস, ব্যাংক দখল ও লুটপাটে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের দায়িত্বে থাকাকালে সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতি ধামাচাপা দিয়েছেন এবং সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন। একইসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার প্রক্রিয়াতেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এনসিপির সদস্য সচিব আরও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের বৈধতা দিয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। পরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে কোনো অবস্থান নেননি। বরং শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত গণহত্যা, গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে তিনি প্রকারান্তরে এসব কর্মকাণ্ডকে সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দাবি করেছিলেন শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র তার কাছে জমা রয়েছে। কিন্তু পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার কাছে কোনো পদত্যাগপত্র নেই। এ ঘটনাকে উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, ‘‘এমন একজন মিথ্যাবাদী ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির শপথ ধারণ করার নৈতিক যোগ্যতা রাখেন না।’’

আখতার হোসেন বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠনের আগেই জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণের দাবি তোলা হয়েছিল। সে সময় সাংবিধানিক সংকটের অজুহাতে তাকে অপসারণ করা হয়নি। পরবর্তীতে নির্বাচন শেষে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এনসিপি তার অভিশংসন ও অপসারণের দাবি জানায়। এমনকি সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময়ও তারা ওয়াকআউট করেছিলেন বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তার ভাষায়, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার রাজনৈতিক সংশ্লেষ থাকায় এ যোগাযোগ স্বাভাবিক। তবে বিএনপি অনেক দেরিতে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি

আখতার হোসেন বলেন, অতীতে বিএনপি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে রাষ্ট্রপতি পদে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সুযোগ পেলে তিনি এখনও ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, শুধু পদত্যাগ করাই যথেষ্ট নয়। সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো রয়েছে, সেগুলোর জন্য তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পদত্যাগপত্রে অসুস্থতার কথা উল্লেখ করলেও সেখানে এমন রাজনৈতিক বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে, যা তার জন্য একটি ‘সেফ এক্সিট’ তৈরির চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন আখতার হোসেন।

তিনি আরও বলেন, এতদিন রাষ্ট্রপতি পদে থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব না হলেও পদত্যাগের পর তার আর কোনো আইনগত দায়মুক্তি নেই। তাই অনতিবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।