নতুন সম্পর্কের আড়ালেই জমে ছিল এক বড় প্রতারণার গল্প। আগের একাধিক বিয়ে ও তালাকের তথ্য গোপন রেখে নিজেকে ‘অবিবাহিতা’ পরিচয়ে নতুন করে বিয়ে করেন শেখ অবন্তী ঐশী।
ঘটনাটি জানাজানির পর স্ত্রীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এনে ঢাকার আদালতে মামলা করেছেন স্বামী উদয় জালাল দীপ। মামলায় ওই বিয়ে ও কাবিননামা অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণও দাবি করা হয়েছে
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তৃতীয় সিনিয়র সিভিল জজ খাদিজা আক্তারের আদালতে শেখ অবন্তী ঐশীর বিরুদ্ধে মামলাটি করেন উদয় জালাল দীপ। শুনানি শেষে আদালত বিবাদী অবন্তী ঐশীকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
তিনি বলেন, মামলাটি গ্রহণের শুনানিতে আদালতকে বলা হয়েছে, বাদীর সঙ্গে বিয়ের সময় অবন্তী ঐশী নিজেকে কুমারী ও অবিবাহিতা হিসেবে পরিচয় দেন। পরবর্তীতে জালাল দীপ জানতে পারেন, এর আগে তিনি একাধিক বিয়ে করেছিলেন। এ বিষয়ে দুটি কাবিননামার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে আইনজীবীর দাবি।
ইশরাত হাসান বলেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ যেন আগের বিয়ে বা বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে নতুন করে বিয়ে করতে না পারেন—এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তার মক্কেল আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।’
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগের বিয়ে ও তালাকের বিষয়টি গোপন করে নিজেকে অবিবাহিতা হিসেবে উপস্থাপন করেন শেখ অবন্তী ঐশী। তার বক্তব্যে বিশ্বাস রেখে ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ২০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে তাকে বিয়ে করেন জালাল দীপ। বিয়ের সময় দেনমোহরের অংশ হিসেবে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল বলেও আরজিতে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী এর আগেও একাধিকবার বিয়ে করেছিলেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে জালাল দীপ স্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা করেন। দেনমোহরের বকেয়া পরিশোধ, পারিবারিক ব্যয় ও স্ত্রীর ব্যক্তিগত আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে তাকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।
এ ছাড়া স্ত্রীকে সাড়ে ৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার দেওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, বিয়ের আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈবাহিক তথ্য গোপন করায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ কারণে বিয়েটি ও সংশ্লিষ্ট কাবিননামা অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 





















