বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের নামে মামলা, তদন্তে সিআইডি

চাঁদা দাবির অভিযোগে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন জুলাই যোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে তিনি এ মামলার আবেদন করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইয়ামিন মিয়া জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর,আফজালু রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গিয়াস উদ্দিন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে চেক গ্রহণ করতে যান। তবে তা না পেয়ে বাংলামোটর এনসিপি অফিসে গিয়ে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, তাসনিম জারা, স্নিগ্ধকে বিষয়টি অবগত করেন। তারা তাকে আশ্বস্ত করেন, জুলাই ফাউন্ডেশনে গেলে চেক দিয়ে দেবে। তবে আসামিরা কালক্ষেপণ করে বলে, আজ না কাল আসতে বলেন।

পরে গত বছরের ৩ মে চেক নেওয়ার জন্য বাদী রমনা মডেল থানাধীন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে যান। আসামিরা তাকে জানান, ৩ লাখ টাকার চেকের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ দেড় লখ টাকা দিলে তখনই ক্যাশ চেক নিয়ে দেবেন। তবে গিয়াস উদ্দিন ওই টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা কৌশলে গোপন কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে প্রিন্স ও সাগর তার দুই হাত ধরলে শাহিদ ও সায়েম তাকে কিল-ঘুষি, লাথি মারে। পাশের ওয়ালে ফেলে দিলে রডের সঙ্গে লেগে মাথায় আঘাত পান। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।

পরবর্তীতে আসামিরা তাকে সুস্থ করেন। তখন গিয়াস উদ্দিন দেখতে পান, তার শরীর দিয়ে রক্ত ঝরছে। চিৎকার ও কান্নাকাটি করলে শাহিদ, সায়েম ও কামরুল কিল-ঘুষি দিয়ে তাকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে হারুন ও কামরুল তাকে ফাউন্ডেশনের লিফটের সামনে রাখে। পরে বাদীর ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করা করান।

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনার পর গিয়াস উদ্দিন থানায় মামলা করতে যান। তবে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। পরে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর তিনি আদালতে মামলার আবেদন করেন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের নামে মামলা, তদন্তে সিআইডি

প্রকাশিত সময় : ১০:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদা দাবির অভিযোগে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন জুলাই যোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে তিনি এ মামলার আবেদন করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইয়ামিন মিয়া জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর,আফজালু রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গিয়াস উদ্দিন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে চেক গ্রহণ করতে যান। তবে তা না পেয়ে বাংলামোটর এনসিপি অফিসে গিয়ে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, তাসনিম জারা, স্নিগ্ধকে বিষয়টি অবগত করেন। তারা তাকে আশ্বস্ত করেন, জুলাই ফাউন্ডেশনে গেলে চেক দিয়ে দেবে। তবে আসামিরা কালক্ষেপণ করে বলে, আজ না কাল আসতে বলেন।

পরে গত বছরের ৩ মে চেক নেওয়ার জন্য বাদী রমনা মডেল থানাধীন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে যান। আসামিরা তাকে জানান, ৩ লাখ টাকার চেকের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ দেড় লখ টাকা দিলে তখনই ক্যাশ চেক নিয়ে দেবেন। তবে গিয়াস উদ্দিন ওই টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা কৌশলে গোপন কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে প্রিন্স ও সাগর তার দুই হাত ধরলে শাহিদ ও সায়েম তাকে কিল-ঘুষি, লাথি মারে। পাশের ওয়ালে ফেলে দিলে রডের সঙ্গে লেগে মাথায় আঘাত পান। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।

পরবর্তীতে আসামিরা তাকে সুস্থ করেন। তখন গিয়াস উদ্দিন দেখতে পান, তার শরীর দিয়ে রক্ত ঝরছে। চিৎকার ও কান্নাকাটি করলে শাহিদ, সায়েম ও কামরুল কিল-ঘুষি দিয়ে তাকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে হারুন ও কামরুল তাকে ফাউন্ডেশনের লিফটের সামনে রাখে। পরে বাদীর ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করা করান।

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনার পর গিয়াস উদ্দিন থানায় মামলা করতে যান। তবে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। পরে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর তিনি আদালতে মামলার আবেদন করেন