মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল-কার্যক্রম ঠেকাতে ওসিদের কড়া নির্দেশ ডিএমপির

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য উসকানি, ষড়যন্ত্র ও ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধে রাজধানীতে আগাম নিরাপত্তা কৌশল নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। কোথাও নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল বা কোনো ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে এবার আগাম প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে ডিএমপি। এ লক্ষ্যে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে কঠোর ব্লক চেক, বিভিন্ন এলাকায় জিরো-গ্যাপ নিরাপত্তা এবং আবাসিক হোটেলের অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বহিরাগতদের চলাচল পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য নাশকতা বা অপতৎপরতা আগেই প্রতিহত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং ছাত্রলীগও সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ। ফলে এসব নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কর্মসূচি, মিছিল বা তৎপরতা রাজধানীতে চলতে দেওয়া হবে না।

তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, ডিএমপির কোনো অপরাধ বিভাগের আওতাধীন এলাকায় কিংবা থানায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম বা আকস্মিক মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ও থানার ওসির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বাহিনীর কোনো সদস্যকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় কমিশনার এসব নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।

সভায় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজ থানার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ওসির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। থানার ভেতরে সামান্য ঘটনাও যেন কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে না যায়—এমন কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

কমিশনারের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এক অতিরিক্ত কমিশনার জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো যাবে না। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় টহল ও চেকপোস্ট আরও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের বর্তমান প্রধান লক্ষ্য রাজপথে অপরাধ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা। এ জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আর্জেন্টিনার ৩ ম্যাচের সূচি প্রকাশ, খেলবেন মেসি?

নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল-কার্যক্রম ঠেকাতে ওসিদের কড়া নির্দেশ ডিএমপির

প্রকাশিত সময় : ০৫:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য উসকানি, ষড়যন্ত্র ও ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধে রাজধানীতে আগাম নিরাপত্তা কৌশল নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। কোথাও নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল বা কোনো ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে এবার আগাম প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে ডিএমপি। এ লক্ষ্যে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে কঠোর ব্লক চেক, বিভিন্ন এলাকায় জিরো-গ্যাপ নিরাপত্তা এবং আবাসিক হোটেলের অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বহিরাগতদের চলাচল পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য নাশকতা বা অপতৎপরতা আগেই প্রতিহত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং ছাত্রলীগও সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ। ফলে এসব নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কর্মসূচি, মিছিল বা তৎপরতা রাজধানীতে চলতে দেওয়া হবে না।

তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, ডিএমপির কোনো অপরাধ বিভাগের আওতাধীন এলাকায় কিংবা থানায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম বা আকস্মিক মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ও থানার ওসির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বাহিনীর কোনো সদস্যকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় কমিশনার এসব নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।

সভায় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজ থানার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ওসির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। থানার ভেতরে সামান্য ঘটনাও যেন কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে না যায়—এমন কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

কমিশনারের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এক অতিরিক্ত কমিশনার জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো যাবে না। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় টহল ও চেকপোস্ট আরও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের বর্তমান প্রধান লক্ষ্য রাজপথে অপরাধ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা। এ জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।