পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে রক্ষায় পাকিস্তান সব উপায় কাজে লাগাবে। মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেছেন বলে বুধবার জানিয়েছে ডন অনলাইন।
এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাতের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে পাকিস্তান যে এতে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে, তার অন্যতম স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানি বাহিনী ইতিমধ্যে কোনো বিমান হামলায় অংশ নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি আসিফ। তবে তিনি জানান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সাথে নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরব পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
ইয়েমেনে ইরানি মদদপুষ্টদের বিরুদ্ধে বিমান হামলায় পাকিস্তান জড়িত কি না—রোম সফরের সময় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন,“আমি বিস্তারিত আলোচনায় যাচ্ছি না; তবে যখন বলছি যে সৌদি আরবকে রক্ষায় আমরা এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তখন এর অর্থ হলো—আমাদের হাতে থাকা সব উপায় বা সক্ষমতা সৌদি আরবের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে। আমার মনে হয় এটি একটি দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য।”
তার এই বক্তব্যে কোনো হামলায় পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিদের বারবার হামলার শিকার হওয়া সৌদি আরব কোনো সহায়তা চেয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি কিছু বলেননি।
হুথিদের হামলার বিষয়ে করণীয় নিয়ে আলোচনার জন্য রিয়াদে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সেনাপ্রধানদের বৈঠকের কয়েক দিনের মধ্যেই তার এই মন্তব্য এল।
আসিফ বলেন, হুথিরা সৌদি আরবের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে এবং ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারিত করেছে।
হুথিরা সম্প্রতি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং লোহিত সাগরের বেশ কয়েকটি দ্বীপ দখল করে নিয়েছে। এর ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে তাদের প্রভাব বেড়েছে। ইরাকে মিত্র মিলিশিয়াদের সাথে মিলে তারা সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে এবং সৌদি ট্যাঙ্কারগুলোকে ওই প্রণালি ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে
আসিফ হুথিদের আগ্রাসী শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন এবং জানান সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি অস্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, “সৌদি আরবের যেকোনো শত্রু পাকিস্তানেরও শত্রু। বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট হওয়া উচিত।”
৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিতে ঘোষণা করা হয়েছে যে, কোনো সদস্য দেশের ওপর আক্রমণকে তিন দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। দেশগুলো এই চুক্তিকে আত্মরক্ষামূলক হিসেবে অভিহিত করেছে এবং জানিয়েছে যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 
























