আলোচনায় ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পরও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।
ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিলে, শত্রুতা বন্ধ করলে এবং জব্দ করা সম্পদ ছাড়লে তারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পরও নিউইয়র্কে অবস্থান করা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান তাদের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল পুনরায় চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া শর্তগুলোর বিষয়ে প্রতিক্রিয়া আশা করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা IRNA এ তথ্য জানিয়েছে।
আরাগচি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি দাবি করে যে তারা একটি চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে আমরা সেই সমাধানই উপস্থাপন করেছি।’
ট্রাম্প এ সপ্তাহে আরও আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন
ইরানের সাত দিনের পরিকল্পনায় ইরান ও লেবাননে সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ করা, কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা, ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে।
এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার অনুমতি দেবে। একই সঙ্গে দুই পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে। ট্রাম্প ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখল বা ধ্বংস করার বিষয়টিও চান।
শনিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যে কঠিন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে, সে কারণেই তারা দ্রুত একটি চুক্তি করতে চাইছে।
রবিবার আরাগচি বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তাই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ইরান ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে।
আরাগচি বলেন, ‘আমাদের শর্তগুলো পরিষ্কার, এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার যেকোনো পদক্ষেপ এই শর্তগুলো পূরণের ওপর নির্ভরশীল।’
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানই এই অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে পারে।
৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি নয়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলাদাভাবে কথা বলছে। লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতায় পৌঁছানো।
২. ইরানের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী আলোচনা হতে পারে
ইরান গত সপ্তাহে ৭ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা দিয়েছিল। এখন সেই প্রস্তাবের কিছু পরিবর্তন করে নতুন সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ইরানের প্রস্তাবে রয়েছে:
ইরান ও লেবাননে যুদ্ধ/শত্রুতা বন্ধ
ইরানের জব্দ করা অর্থ ও সম্পদ ছাড়
ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার
৩. বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী খুলতে চায় ইরান
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ করবে, অবরোধ তুলে নেবে এবং সম্পদ অবমুক্ত করবে—তারপর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা হবে।
হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটি বন্ধ বা সীমিত থাকলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার ও সরবরাহে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
৪. পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হবে
ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার আলোচনা করতে রাজি বলে প্রস্তাবে জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছেন। ফলে সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম কঠিন বিষয় হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ।
৫. এখনো কোনো চুক্তি হয়নি
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আলোচনা শুরু হয়েছে মানেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার চুক্তি হয়ে গেছে, এমন নয়।
এর আগেও এপ্রিল ও জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো পরে ভেঙে যায়।
বর্তমানে মূল অমীমাংসিত বিষয়গুলো হলো:
ক) ইরান কী ছাড় দেবে খ) যুক্তরাষ্ট্র কী নিষেধাজ্ঞা/অবরোধ তুলে নেবে গ) হরমুজ কখন খুলবে ঘ) ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কী চুক্তি হবে।
ইরান বলছে, ‘চাপ ও অবরোধ বন্ধ করুন, আমরা হরমুজ খুলব এবং পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা করব।’
যুক্তরাষ্ট্র এখনো শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা করছে। তাই কূটনৈতিক দরজা খোলা আছে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ করার চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























