বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মক্তবে শিশুকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ জামায়াত সভাপতির বিরুদ্ধে

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় মক্তবের ছুটি শেষে ৯ বছরের এক শিশু কন্যাকে মসজিদের ভেতরে আটকে রেখে যৌন নিপীড়ন চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ওরফে বেলাল মুন্সির (৫৫) বিরুদ্ধে।

ঘটনার তিন দিন পর আজ বুধবার উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হলে এলাকায় জানাজানি হয়।

অভিযুক্ত নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের সংগ্রামখেলি গ্রামের বাসিন্দা ও একই ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান সভাপতি।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকালে সংগ্রামখেলি গ্রামের একটি মসজিদে প্রতিদিনের মতো এলাকার অন্তত ৩০ জন শিশু আরবি পড়তে যায়। বেলাল মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে সকালের মক্তব পড়াতেন। পড়া শেষে অন্য শিশুদের ছুটি দিলেও ভুক্তভোগী ওই শিশু কন্যাকে কৌশলে আটকে রাখেন তিন

সবাই চলে যাওয়ার পর মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বেলাল মুন্সি শিশুটিকে নিজের কাছে ডাকেন। ভুক্তভোগী শিশু জানায়, ওই সময় হুজুর তার হাত ধরে কাছে টেনে নেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালান। শিশুটি বাধা দিলে এবং চিৎকার করতে চাইলে অভিযুক্ত জোরপূর্বক তার মুখ চেপে ধরার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিশুটি কোনোমতে তার হাত থেকে ফসকে দৌড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে বাড়ি চলে যায়।

কান্না করতে করতে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বিস্তারিত জানায়। পরে মা স্থানীয় মাতবরকে বিষয়টি জানান।

জানা যায়, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জামায়াত নেতা বেলাল মুন্সি নিজের প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে পাড়ায় একটি সালিস বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সুষ্ঠু বিচার পায়নি পরিবারটি।

আজ স্থানীয় জনতা দলবদ্ধ হয়ে অভিযুক্ত বেলাল মুন্সির বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করেন। তবে বেগতিক দেখে তিনি আগেই এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দেওয়ায় তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেলাল মুন্সি বলেন, ওই দিন তিনি মেয়েটিকে নিজের মোবাইলে একটি নাম্বার প্রবেশ করাতে বলেন। কিন্তু না পারায় একটি চড় দিয়েছিলেন। এরপরই রাগ করে বাড়িতে গিয়ে মিথ্যা অপবাদ ছড়ায়।

বাড়ি ছেড়েছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানের ভয়ে।

এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভাংচুরে ক্ষতিগ্রস্ত রাজশাহী রেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন ভূমিমন্ত্রী মিনু

মক্তবে শিশুকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ জামায়াত সভাপতির বিরুদ্ধে

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় মক্তবের ছুটি শেষে ৯ বছরের এক শিশু কন্যাকে মসজিদের ভেতরে আটকে রেখে যৌন নিপীড়ন চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ওরফে বেলাল মুন্সির (৫৫) বিরুদ্ধে।

ঘটনার তিন দিন পর আজ বুধবার উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হলে এলাকায় জানাজানি হয়।

অভিযুক্ত নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের সংগ্রামখেলি গ্রামের বাসিন্দা ও একই ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান সভাপতি।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকালে সংগ্রামখেলি গ্রামের একটি মসজিদে প্রতিদিনের মতো এলাকার অন্তত ৩০ জন শিশু আরবি পড়তে যায়। বেলাল মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে সকালের মক্তব পড়াতেন। পড়া শেষে অন্য শিশুদের ছুটি দিলেও ভুক্তভোগী ওই শিশু কন্যাকে কৌশলে আটকে রাখেন তিন

সবাই চলে যাওয়ার পর মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বেলাল মুন্সি শিশুটিকে নিজের কাছে ডাকেন। ভুক্তভোগী শিশু জানায়, ওই সময় হুজুর তার হাত ধরে কাছে টেনে নেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালান। শিশুটি বাধা দিলে এবং চিৎকার করতে চাইলে অভিযুক্ত জোরপূর্বক তার মুখ চেপে ধরার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিশুটি কোনোমতে তার হাত থেকে ফসকে দৌড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে বাড়ি চলে যায়।

কান্না করতে করতে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বিস্তারিত জানায়। পরে মা স্থানীয় মাতবরকে বিষয়টি জানান।

জানা যায়, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জামায়াত নেতা বেলাল মুন্সি নিজের প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে পাড়ায় একটি সালিস বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সুষ্ঠু বিচার পায়নি পরিবারটি।

আজ স্থানীয় জনতা দলবদ্ধ হয়ে অভিযুক্ত বেলাল মুন্সির বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করেন। তবে বেগতিক দেখে তিনি আগেই এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দেওয়ায় তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেলাল মুন্সি বলেন, ওই দিন তিনি মেয়েটিকে নিজের মোবাইলে একটি নাম্বার প্রবেশ করাতে বলেন। কিন্তু না পারায় একটি চড় দিয়েছিলেন। এরপরই রাগ করে বাড়িতে গিয়ে মিথ্যা অপবাদ ছড়ায়।

বাড়ি ছেড়েছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানের ভয়ে।

এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।