কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী এ বছর সারের আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই, ভবিষ্যতেও সংকটের আশঙ্কা নেই। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে যত সারের প্রয়োজন হবে, সরকার তা সরবরাহ করবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) এক অনুষ্ঠানে কৃষি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও সার ডিলারদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশে ৩৫ শতাংশ বেশি সার মজুত রয়েছে। চলতি মৌসুমে বিভিন্ন জেলায় চাহিদার বিবেচনায় অতিরিক্ত সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কোনো এলাকায় প্রয়োজন হলে আরও সার সরবরাহ করা হবে। তবে এই অতিরিক্ত চাহিদা অবশ্যই দেশের কৃষকদের ব্যবহারের জন্য হতে হবে, সীমান্ত দিয়ে পাচারের জন্য নয়।
সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির বিষয়ে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশে যেসব সারের দাম বাংলাদেশের তুলনায় বেশি, সেসব সার সীমান্তবর্তী এলাকায় পাচারের প্রবণতা দেখা যায়। ইউরিয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা তুলনামূলক কম হলেও এমওপি, টিএসপি এবং বিশেষ করে ডিএপি সারের চাহিদা ও পাচারের ঝুঁকি বেশি। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
তিনি বলেন, অতীতেও সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সার আটক করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। অসাধু ব্যক্তিদের কোনোভাবেই সুযোগ দেওয়া যাবে না।
সার ডিলারদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কোনো ডিলার নির্ধারিত সময়ে তার বরাদ্দ করা সার উত্তোলন না করলে তাকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। সুবিধাজনক সময়ে সার উত্তোলন করবেন, আর প্রয়োজনের সময় উত্তোলন করবেন না—এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ডিলার দুর্নীতি বা অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ডিলারদের পর্যাপ্ত মুনাফার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাই তাদের দায়িত্ব হলো কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে সার পৌঁছে দেওয়া। ডিলারশিপের লাইসেন্স অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া বা হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারের দোকান খোলা রাখার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের অনেকেই ভোরে জমিতে কাজ করতে যান। তাই তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ডিলারদের সকাল ৯টার মধ্যে দোকান খুলতে হবে এবং বিকেল ৫টা থেকে ৬টার আগে দোকান বন্ধ করা যাবে না। বিশেষ করে বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের মৌসুমে এ নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
কৃষি উৎপাদন বাড়াতে নতুন নতুন ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে কৃষিপণ্য উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন ফসলের আবাদ শুরু হলে কৃষকদের আয়ও বাড়বে। এসব ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরবরাহে সরকার কোনো ঘাটতি রাখবে না।
মাছ চাষে সারের ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাছ চাষে কোন ধরনের সার কতটুকু ব্যবহার করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তাদের চাষিদের সঠিক পরামর্শ দিতে হবে। একইভাবে নতুন ফসলের ক্ষেত্রেও কোন ফসলে কী পরিমাণ সার প্রয়োজন, তা কৃষকদের জানাতে হবে।
কৃষকদের অতিরিক্ত সার ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জমিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করলে উৎপাদন খরচ বাড়ে, মাটির ক্ষতি হয় এবং কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। কৃষকদের স্বাবলম্বী করা এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

রিপোর্টারের নাম 



















