স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তৈরি পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগানো হচ্ছে। নিরীহ পোশাকশ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা এসব কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে মোকাবিলা করব।
আজ রাতে রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি, অনেক মুখোশধারী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢুকে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করছে। আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখেছি, নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে। এর মাধ্যমে এখানে অস্থিরতা সৃষ্টি, আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য ও গার্মেন্টসের উৎপাদন ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে অনেকে। আমরা এসব কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে মোকাবিলা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই বার্তাটি আমরা সবাইকে দিতে চাই—আমরা শান্তি চাই, শৃঙ্খলা চাই, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি চাই। বাংলাদেশের শিল্পের জনক বলতে পারেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। তার এই অবদান আমরা সবাই স্বীকার করি। আমরা চাই, গার্মেন্টসশিল্পের আরও উন্নতি হোক এবং আমাদের রপ্তানি খাত সমৃদ্ধ হোক। বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও রপ্তানি সমৃদ্ধি কেউ রুখে দিতে পারবে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এসব সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কোনো শ্রমিক ভাই জড়িত নন। কোনো শ্রমিক সংগঠনও জড়িত নয়। তারা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করবেন। তাদের প্রতিনিধিদের নাম দেওয়া হয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সেই মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে।’
শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের জীবনমান যাতে উন্নত হয়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়।’
গার্মেন্টস মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গার্মেন্টসশিল্পের মালিকদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন তাদের সব কারখানা চালু রাখেন এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখেন। কোনোভাবেই যেন রপ্তানি সংকট তৈরি হয়, এমন কোনো কাজ না করেন। তারা যেন শ্রমিকদের সঙ্গে মিলেমিশে আলোচনা করে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আজ হয়তো কোনো না কোনো কারণে তারা শঙ্কিত হয়ে হঠাৎ কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। এটি সাময়িক। আশা করি, আজকের দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির সমাধান হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়, তাদের জীবনমান উন্নত হয় এবং বাংলাদেশে উৎপাদন ও উন্নয়ন ব্যাহত না হয়। রপ্তানি যাতে বৃদ্ধি পায়, সেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
সবশেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করেছি, যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকবে, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবে, বিশৃঙ্খলা বা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে।’

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 











