রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ

ভয়াল ২৫ মার্চ ও জাতীয় গণহত্যা দিবস আজ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের এই রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা চালায়।

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউটসহ’ জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনে সারা দেশে রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত ১ মিনিট প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ (কেপিআই বা জরুরি স্থাপনা ব্যতীত) পালন করা হবে। এ ছাড়া এ রাতের নিহতদের স্মরণে বাদ জোহর সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থণার আয়োজন করা হবে। সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ২৫ মার্চ গণহত্যার স্মৃতিচারণা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারা দেশে বিশ্বের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।”

তিনি দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে সেই কালরাতের সব শহীদকে স্মরণ করে বলেন, “নারকীয় এ হত্যাযজ্ঞে জাতি আজও শোকাহত।”

‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের এ নারকীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, “আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না।”

মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সেই রাতে সাত হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন হাজার। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। এরপর সমস্ত পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চলল মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করল ঘরবাড়ি, দোকানপাট। লুট আর ধ্বংস যেন তাদের নেশায় পরিণত হলো। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হলো। সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠল শকুনতাড়িত শ্মশান ভূমি।’

এই গণহত্যার স্বীকৃতি পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও আছে। পূর্ব পাকিস্তানের সংকট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তানি সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয় “১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।”

২৫ মার্চ এর এই কালরাতে শুরু হওয়া হানাদার বাহিনীর গণহত্যা চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় ধরে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ

প্রকাশিত সময় : ১০:৩৯:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫

ভয়াল ২৫ মার্চ ও জাতীয় গণহত্যা দিবস আজ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের এই রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা চালায়।

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউটসহ’ জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনে সারা দেশে রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত ১ মিনিট প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ (কেপিআই বা জরুরি স্থাপনা ব্যতীত) পালন করা হবে। এ ছাড়া এ রাতের নিহতদের স্মরণে বাদ জোহর সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থণার আয়োজন করা হবে। সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ২৫ মার্চ গণহত্যার স্মৃতিচারণা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারা দেশে বিশ্বের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।”

তিনি দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে সেই কালরাতের সব শহীদকে স্মরণ করে বলেন, “নারকীয় এ হত্যাযজ্ঞে জাতি আজও শোকাহত।”

‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের এ নারকীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, “আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না।”

মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সেই রাতে সাত হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন হাজার। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। এরপর সমস্ত পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চলল মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করল ঘরবাড়ি, দোকানপাট। লুট আর ধ্বংস যেন তাদের নেশায় পরিণত হলো। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হলো। সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠল শকুনতাড়িত শ্মশান ভূমি।’

এই গণহত্যার স্বীকৃতি পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও আছে। পূর্ব পাকিস্তানের সংকট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তানি সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয় “১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।”

২৫ মার্চ এর এই কালরাতে শুরু হওয়া হানাদার বাহিনীর গণহত্যা চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় ধরে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।