শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম্পত্যের শুরু না হতেই শেষ

বিয়ের পর তিন মাস না যেতেই এখন স্বামী-স্ত্রী বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করছেন। প্রেমের সম্পর্ক বা পারিবারিক আয়োজন যেভাবেই বিয়ে হোক না কেন বিয়ের পর চাহিদার সঙ্গে বাস্তবের মিল খুঁজে না পেয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক দাম্পত্য জীবন। বিবাহবিচ্ছেদের আগে-পরে অনেক দম্পতিই এখন মনোচিকিৎসকদের কাছে কাউন্সেলিং সেবা নিচ্ছেন। আর এ চিকিৎসকরা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তাদের কাছে দৈনিক যে চারজন রোগী আসেন এর দুজনই যান বিচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়ে। এদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বিয়ের তিন মাস, ছয় মাস বা এক বছরের মাথায় বিচ্ছেদে যান বা এ-সংক্রান্ত কাউন্সেলিং নিতে যান।

পারিবারিক আয়োজনে এ বছরের শুরুতে মগবাজারের বাসিন্দা শ্রাবণী আক্তারের সঙ্গে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী দীপ্ত আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাস না যেতেই বাবার বাড়ি এসে আর শ্বশুরবাড়ি ফিরে যাননি শ্রাবণী। এর কারণ দীপ্তর আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। কোথাও যেতে চাইতেন না। শ্রাবণী বুঝতে পারেন যে দীপ্ত মাদকাসক্ত। এ কথা জানার পর অভিভাবকরাও তাকে আর শ্বশুরবাড়ি যেতে দেননি। শ্রাবণী এখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। নতুন করে জীবন সাজানোর কথা চিন্তা করছেন।

দম্পতিদের কাউন্সেলিং সেবা নিয়ে কাজ করা সংগঠন মাইন্ডসেবার সিনিয়র মনোচিকিৎসক শারমিন আক্তার বলেন, বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি এগিয়ে। ১০০ জনের মধ্যে ৯০ শতাংশ নারীই বিচ্ছেদে যেতে চান। পুরুষদের হার কম আর যে পুরুষরা আমার কাছে বিচ্ছেদে যাওয়ার আগে কাউন্সেলিং নিতে আসেন তারা বিচ্ছেদে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েই আসেন। এমনো দেখেছি একজন উচ্চপদস্থ সরকারি নারী কর্মকর্তার চাকরি চলে যাওয়ায় সেই নারীর স্বামী তার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদে গিয়েছেন।

গত ছয় মাসের হিসাব অনুযায়ী প্রতি চারজনের মধ্যে দুজনই দম্পতি তাদের দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে আমার কাছে সেশন নিতে আসছেন। বিচ্ছেদের আগে ও পরে পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকেন। অনেক নারীর মা-বাবা তাকে মেনে নিতে চায় না। মনোচিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত ৩৫ বছর থেকে ৪৫ বছর বয়সিরা বেশি বিবাহ বিচ্ছেদে যান। তবে ৫০ ও ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সিদের কেউ কেউ এখন বিচ্ছেদে যাচ্ছেন। দম্পতিদের মধ্যে মানসিক বন্ধন না থাকা, দাম্পত্যের প্রথমে ভালো থাকলেও পরে সঙ্গীর কাছ থেকে কাক্সিক্ষত সেবা না পেয়ে মধ্যবয়সিরা বিচ্ছেদে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বিয়ের বেশ কিছু বছর পর কেউ কেউ পরকীয়ায় জড়িয়ে যান। এ ছাড়া বিচ্ছেদে যাওয়া দম্পতিদের মধ্যে ভাবের আদান প্রদান কমে যাওয়া, সঙ্গীর কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করতে পেরে বিচ্ছেদে যাচ্ছেন। দেখা যায় যে, একজন তার সঙ্গীর কাছে সামাজিক, ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক চাহিদা একসঙ্গে সব পূরণ করার ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সাড়া না পেয়ে হতাশা থেকে বিচ্ছেদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এ চিকিৎসকরা আরও জানান, আগে দাম্পত্যে বৈবাহিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হলেও এখন নারীরা বিবাহিত জীবনে বেশ কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দেন। এক্ষেত্রে নারীর প্রতি তার স্বামী শ্রদ্ধাবোধ, নারী-পুরুষ সমতা এবং সম্পর্কে আবেগের বিষয়গুলোকে নারীরা গুরুত্ব দেন। দীর্ঘসময় ধরে যখন একজন নারী এ বিষয়ে তার চাহিদা পূরণ হচ্ছে না দেখেন তখন তারা বিচ্ছেদের কথা ভাবতে শুরু করেন। আবার আগে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে এত বেশি স্বাবলম্বী ছিল না ফলে তখন তারা বিচ্ছেদে যেত না। কিন্তু নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় বিচ্ছেদের ঘটনাও এখন বাড়ছে। আবার শারীরিক-অর্থনৈতিক সহিংসতার কারণেও অনেক বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে যে নারীরা এ ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন তারাও বিচ্ছেদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যে নারীরা বিবাহ বিচ্ছেদে যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আছে বা তারা উপার্জন করেন। আর যে নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নেই তাদের ক্ষেত্রে পুরুষরা সেই নারীদের সঙ্গে বিচ্ছেদে যাচ্ছেন। আবার পরকীয়ার সম্পর্কে যে পুরুষরা জড়িয়ে পড়েন ধরা পড়ার পর তিনি আর সম্পর্কে থাকতে চান না।

ধানমন্ডির রুখসানা হাসান। একটি বেসরকারি এনজিওতে কাজ করেন। ফ্রিল্যান্সার ফারুক আহমেদের সঙ্গে দেড় বছরের দাম্পত্য জীবন তার। ভালোবেসে বিয়ে করলেও ফারুক সংসার চালাতে প্রথম থেকেই তেমন অর্থ দিতেন না। রুখসানাই সংসারের সিংহভাগ খরচ সামাল দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কথা কাটাকাটির পর রুখসানা সিদ্ধান্ত নেন তার নিজেকেই যখন সব খরচ সামলাতে হবে তাহলে আর ফারুকের সঙ্গে অশান্তি নিয়ে থাকার দরকার নেই। বিচ্ছেদ নিয়ে এখন মায়ের বাসায় থাকেন রুখসানা। দাম্পত্য কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া বেসরকারি আরেক প্রতিষ্ঠান হিলিং হার্টের পরিচালক ড. লিপি গ্লোরিয়া রোজারিও বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিচ্ছেদে যাওয়ার পর যে নারী-পুরুষরা খুব কষ্টে থাকেন তারাই আমাদের কাছে কাউন্সেলিং সেবা নেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সহিংসতার কারণে এখন বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটছে।

এ ছাড়া স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অবহেলার ঘটনাও আছে। আর্থিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হয়। হাত খরচ না দেওয়া এবং চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সংসারে সমানভাবে অর্থ ব্যয় না করার বিষয়ও আছে। কিছুক্ষেত্রে চাকরিজীবী দম্পতিদের মধ্যে সঙ্গী অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছে এমন সন্দেহ থেকেও অশান্তি বাড়ে। তবে বিয়ের বয়স যাদের কম তারাই বেশি বিচ্ছেদে গিয়ে আমাদের কাছে সেবা নিতে আসেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

দাম্পত্যের শুরু না হতেই শেষ

প্রকাশিত সময় : ০১:৫৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
বিয়ের পর তিন মাস না যেতেই এখন স্বামী-স্ত্রী বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করছেন। প্রেমের সম্পর্ক বা পারিবারিক আয়োজন যেভাবেই বিয়ে হোক না কেন বিয়ের পর চাহিদার সঙ্গে বাস্তবের মিল খুঁজে না পেয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক দাম্পত্য জীবন। বিবাহবিচ্ছেদের আগে-পরে অনেক দম্পতিই এখন মনোচিকিৎসকদের কাছে কাউন্সেলিং সেবা নিচ্ছেন। আর এ চিকিৎসকরা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তাদের কাছে দৈনিক যে চারজন রোগী আসেন এর দুজনই যান বিচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়ে। এদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বিয়ের তিন মাস, ছয় মাস বা এক বছরের মাথায় বিচ্ছেদে যান বা এ-সংক্রান্ত কাউন্সেলিং নিতে যান।

পারিবারিক আয়োজনে এ বছরের শুরুতে মগবাজারের বাসিন্দা শ্রাবণী আক্তারের সঙ্গে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী দীপ্ত আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাস না যেতেই বাবার বাড়ি এসে আর শ্বশুরবাড়ি ফিরে যাননি শ্রাবণী। এর কারণ দীপ্তর আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। কোথাও যেতে চাইতেন না। শ্রাবণী বুঝতে পারেন যে দীপ্ত মাদকাসক্ত। এ কথা জানার পর অভিভাবকরাও তাকে আর শ্বশুরবাড়ি যেতে দেননি। শ্রাবণী এখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। নতুন করে জীবন সাজানোর কথা চিন্তা করছেন।

দম্পতিদের কাউন্সেলিং সেবা নিয়ে কাজ করা সংগঠন মাইন্ডসেবার সিনিয়র মনোচিকিৎসক শারমিন আক্তার বলেন, বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি এগিয়ে। ১০০ জনের মধ্যে ৯০ শতাংশ নারীই বিচ্ছেদে যেতে চান। পুরুষদের হার কম আর যে পুরুষরা আমার কাছে বিচ্ছেদে যাওয়ার আগে কাউন্সেলিং নিতে আসেন তারা বিচ্ছেদে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েই আসেন। এমনো দেখেছি একজন উচ্চপদস্থ সরকারি নারী কর্মকর্তার চাকরি চলে যাওয়ায় সেই নারীর স্বামী তার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদে গিয়েছেন।

গত ছয় মাসের হিসাব অনুযায়ী প্রতি চারজনের মধ্যে দুজনই দম্পতি তাদের দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে আমার কাছে সেশন নিতে আসছেন। বিচ্ছেদের আগে ও পরে পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকেন। অনেক নারীর মা-বাবা তাকে মেনে নিতে চায় না। মনোচিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত ৩৫ বছর থেকে ৪৫ বছর বয়সিরা বেশি বিবাহ বিচ্ছেদে যান। তবে ৫০ ও ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সিদের কেউ কেউ এখন বিচ্ছেদে যাচ্ছেন। দম্পতিদের মধ্যে মানসিক বন্ধন না থাকা, দাম্পত্যের প্রথমে ভালো থাকলেও পরে সঙ্গীর কাছ থেকে কাক্সিক্ষত সেবা না পেয়ে মধ্যবয়সিরা বিচ্ছেদে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বিয়ের বেশ কিছু বছর পর কেউ কেউ পরকীয়ায় জড়িয়ে যান। এ ছাড়া বিচ্ছেদে যাওয়া দম্পতিদের মধ্যে ভাবের আদান প্রদান কমে যাওয়া, সঙ্গীর কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করতে পেরে বিচ্ছেদে যাচ্ছেন। দেখা যায় যে, একজন তার সঙ্গীর কাছে সামাজিক, ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক চাহিদা একসঙ্গে সব পূরণ করার ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সাড়া না পেয়ে হতাশা থেকে বিচ্ছেদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এ চিকিৎসকরা আরও জানান, আগে দাম্পত্যে বৈবাহিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হলেও এখন নারীরা বিবাহিত জীবনে বেশ কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দেন। এক্ষেত্রে নারীর প্রতি তার স্বামী শ্রদ্ধাবোধ, নারী-পুরুষ সমতা এবং সম্পর্কে আবেগের বিষয়গুলোকে নারীরা গুরুত্ব দেন। দীর্ঘসময় ধরে যখন একজন নারী এ বিষয়ে তার চাহিদা পূরণ হচ্ছে না দেখেন তখন তারা বিচ্ছেদের কথা ভাবতে শুরু করেন। আবার আগে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে এত বেশি স্বাবলম্বী ছিল না ফলে তখন তারা বিচ্ছেদে যেত না। কিন্তু নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় বিচ্ছেদের ঘটনাও এখন বাড়ছে। আবার শারীরিক-অর্থনৈতিক সহিংসতার কারণেও অনেক বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে যে নারীরা এ ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন তারাও বিচ্ছেদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যে নারীরা বিবাহ বিচ্ছেদে যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আছে বা তারা উপার্জন করেন। আর যে নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নেই তাদের ক্ষেত্রে পুরুষরা সেই নারীদের সঙ্গে বিচ্ছেদে যাচ্ছেন। আবার পরকীয়ার সম্পর্কে যে পুরুষরা জড়িয়ে পড়েন ধরা পড়ার পর তিনি আর সম্পর্কে থাকতে চান না।

ধানমন্ডির রুখসানা হাসান। একটি বেসরকারি এনজিওতে কাজ করেন। ফ্রিল্যান্সার ফারুক আহমেদের সঙ্গে দেড় বছরের দাম্পত্য জীবন তার। ভালোবেসে বিয়ে করলেও ফারুক সংসার চালাতে প্রথম থেকেই তেমন অর্থ দিতেন না। রুখসানাই সংসারের সিংহভাগ খরচ সামাল দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কথা কাটাকাটির পর রুখসানা সিদ্ধান্ত নেন তার নিজেকেই যখন সব খরচ সামলাতে হবে তাহলে আর ফারুকের সঙ্গে অশান্তি নিয়ে থাকার দরকার নেই। বিচ্ছেদ নিয়ে এখন মায়ের বাসায় থাকেন রুখসানা। দাম্পত্য কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া বেসরকারি আরেক প্রতিষ্ঠান হিলিং হার্টের পরিচালক ড. লিপি গ্লোরিয়া রোজারিও বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিচ্ছেদে যাওয়ার পর যে নারী-পুরুষরা খুব কষ্টে থাকেন তারাই আমাদের কাছে কাউন্সেলিং সেবা নেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সহিংসতার কারণে এখন বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটছে।

এ ছাড়া স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অবহেলার ঘটনাও আছে। আর্থিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হয়। হাত খরচ না দেওয়া এবং চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সংসারে সমানভাবে অর্থ ব্যয় না করার বিষয়ও আছে। কিছুক্ষেত্রে চাকরিজীবী দম্পতিদের মধ্যে সঙ্গী অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছে এমন সন্দেহ থেকেও অশান্তি বাড়ে। তবে বিয়ের বয়স যাদের কম তারাই বেশি বিচ্ছেদে গিয়ে আমাদের কাছে সেবা নিতে আসেন।