সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যাম্পু করার পরও বারবার খুশকি? জেনে নিন করণীয়

সকালে শ্যাম্পু করার পর বিকেলেই মাথায় আবার অস্বস্তি ও চুলকানি, আর চুলকালেই নখের গোড়ায় সাদা গুঁড়ো পদার্থ—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। চিরুনি চালালেই চুল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝরে পড়ে মরা চামড়া।

অনেকেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দামি শ্যাম্পু বা হেয়ার ক্লিনিকের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুশকির সমাধান এত জটিল নয়; এর জন্য আগে খুশকি হওয়ার আসল কারণ বুঝতে হবে।
খুশকি কেন হয়?
মানুষের মাথার ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই ‘ম্যালাসেজ়িয়া’ নামের এক ধরনের ছত্রাক বা ইস্ট থাকে। কিন্তু যখন মাথায় অতিরিক্ত তেল, ঘাম জমে কিংবা অতিরিক্ত গরম ও মানসিক চাপ তৈরি হয়, তখন এই ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি ঘটে।

ছত্রাকের এই আধিক্য মাথার ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলে ত্বকের কোষগুলো দ্রুত নিষ্প্রাণ হয়ে ঝরে পড়তে শুরু করে। এই ঝরে পড়া মৃত কোষই হলো খুশকি।
খুশকি মূলত দুই ধরনের
তৈলাক্ত খুশকি : এই খুশকি কিছুটা হলদেটে ও চটচটে হয়, যা সহজে চুল থেকে ঝরে পড়ে না। এগুলো চুলের গোড়ায় লেগে থেকে অনবরত চুলকানি ও জ্বালা ভাব তৈরি করে।

অতিরিক্ত চুলকানির কারণে মাথা কেটে-ছড়ে গিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। যাদের মাথার ত্বক তৈলাক্ত, গরমে ও ঘামে তাঁদের এই সমস্যা বেশি হয়।
শুষ্ক খুশকি : মাথায় হাত দিয়ে সামান্য ঘষলেই এই খুশকি গুঁড়োর মতো ঝুরঝুর করে কাঁধে, পিঠে ও কপালে ঝরে পড়ে। শুষ্ক ত্বকে ম্যালাসেজ়িয়া ছত্রাকের প্রভাবেই এটি হয় এবং শীতকালে এর প্রকোপ বাড়ে। অনেকের ধারণা মাথায় তেল দিলে এই খুশকি কমবে, যা সম্পূর্ণ ভুল।

তেল দিলে এই খুশকি কমার সম্ভাবনা তো নেই-ই, বরং উল্টো হতে পারে।
গরমে কেন বাড়ে খুশকির উপদ্রব?
গরমের তীব্র রোদ ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মাথায় প্রচুর ঘাম ও তেল জমে। এই পরিবেশ ম্যালাসেজ়িয়া ছত্রাকের বৃদ্ধির জন্য একদম আদর্শ। এ ছাড়া গরমে দীর্ঘক্ষণ হেলমেট পরে থাকা কিংবা ভেজা চুল বেঁধে রাখলেও এই ছত্রাক দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

প্রতিকার ও শ্যাম্পু ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
সাধারণ শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুলে তা শুধু কয়েক ঘণ্টার জন্য মৃত কোষ দূর করে, কিন্তু ঘাম বা তেল জমলেই খুশকি আবার ফিরে আসে। তাই এর স্থায়ী সমাধানের জন্য ছত্রাকনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধের দোকান থেকে এই শ্যাম্পু কেনা উচিত।

যেহেতু খুশকি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, তাই সাময়িকভাবে কমে গেলেও বিশেষ শ্যাম্পু ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। এটি ব্যবহারের নিয়ম হলো :
১। শুরুতে প্রতি ২-৩ দিন পর পর একবার ব্যবহার করতে হবে।
২। খুশকি নিয়ন্ত্রণে এলে সপ্তাহে একবার ব্যবহার করতে হবে।
৩। পরবর্তী সময়ে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাসে অন্তত দুইবার এই শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুতে হবে।

সতর্কতায় করণীয় কিছু অভ্যাস
মাথা ঘামলে যত্ন : মাথার ত্বক ঘেমে গেলে অবশ্যই পরিষ্কার পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে হবে। ধুয়ে নেওয়া সম্ভব না হলে দ্রুত ফ্যানের বাতাসে চুল ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে।

ভেজা চুল না বাঁধা : কোনো অবস্থাতেই ভেজা চুল বা ঘেমে থাকা চুল বেঁধে রাখা যাবে না।

পরিচ্ছন্নতা : নিয়মিত ব্যবহৃত হেলমেট, স্কাল ক্যাপ ও চিরুনি সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

সূত্র : আনন্দবাজার

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

শ্যাম্পু করার পরও বারবার খুশকি? জেনে নিন করণীয়

প্রকাশিত সময় : ০৫:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সকালে শ্যাম্পু করার পর বিকেলেই মাথায় আবার অস্বস্তি ও চুলকানি, আর চুলকালেই নখের গোড়ায় সাদা গুঁড়ো পদার্থ—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। চিরুনি চালালেই চুল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝরে পড়ে মরা চামড়া।

অনেকেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দামি শ্যাম্পু বা হেয়ার ক্লিনিকের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুশকির সমাধান এত জটিল নয়; এর জন্য আগে খুশকি হওয়ার আসল কারণ বুঝতে হবে।
খুশকি কেন হয়?
মানুষের মাথার ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই ‘ম্যালাসেজ়িয়া’ নামের এক ধরনের ছত্রাক বা ইস্ট থাকে। কিন্তু যখন মাথায় অতিরিক্ত তেল, ঘাম জমে কিংবা অতিরিক্ত গরম ও মানসিক চাপ তৈরি হয়, তখন এই ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি ঘটে।

ছত্রাকের এই আধিক্য মাথার ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলে ত্বকের কোষগুলো দ্রুত নিষ্প্রাণ হয়ে ঝরে পড়তে শুরু করে। এই ঝরে পড়া মৃত কোষই হলো খুশকি।
খুশকি মূলত দুই ধরনের
তৈলাক্ত খুশকি : এই খুশকি কিছুটা হলদেটে ও চটচটে হয়, যা সহজে চুল থেকে ঝরে পড়ে না। এগুলো চুলের গোড়ায় লেগে থেকে অনবরত চুলকানি ও জ্বালা ভাব তৈরি করে।

অতিরিক্ত চুলকানির কারণে মাথা কেটে-ছড়ে গিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। যাদের মাথার ত্বক তৈলাক্ত, গরমে ও ঘামে তাঁদের এই সমস্যা বেশি হয়।
শুষ্ক খুশকি : মাথায় হাত দিয়ে সামান্য ঘষলেই এই খুশকি গুঁড়োর মতো ঝুরঝুর করে কাঁধে, পিঠে ও কপালে ঝরে পড়ে। শুষ্ক ত্বকে ম্যালাসেজ়িয়া ছত্রাকের প্রভাবেই এটি হয় এবং শীতকালে এর প্রকোপ বাড়ে। অনেকের ধারণা মাথায় তেল দিলে এই খুশকি কমবে, যা সম্পূর্ণ ভুল।

তেল দিলে এই খুশকি কমার সম্ভাবনা তো নেই-ই, বরং উল্টো হতে পারে।
গরমে কেন বাড়ে খুশকির উপদ্রব?
গরমের তীব্র রোদ ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মাথায় প্রচুর ঘাম ও তেল জমে। এই পরিবেশ ম্যালাসেজ়িয়া ছত্রাকের বৃদ্ধির জন্য একদম আদর্শ। এ ছাড়া গরমে দীর্ঘক্ষণ হেলমেট পরে থাকা কিংবা ভেজা চুল বেঁধে রাখলেও এই ছত্রাক দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

প্রতিকার ও শ্যাম্পু ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
সাধারণ শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুলে তা শুধু কয়েক ঘণ্টার জন্য মৃত কোষ দূর করে, কিন্তু ঘাম বা তেল জমলেই খুশকি আবার ফিরে আসে। তাই এর স্থায়ী সমাধানের জন্য ছত্রাকনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধের দোকান থেকে এই শ্যাম্পু কেনা উচিত।

যেহেতু খুশকি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, তাই সাময়িকভাবে কমে গেলেও বিশেষ শ্যাম্পু ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। এটি ব্যবহারের নিয়ম হলো :
১। শুরুতে প্রতি ২-৩ দিন পর পর একবার ব্যবহার করতে হবে।
২। খুশকি নিয়ন্ত্রণে এলে সপ্তাহে একবার ব্যবহার করতে হবে।
৩। পরবর্তী সময়ে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাসে অন্তত দুইবার এই শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুতে হবে।

সতর্কতায় করণীয় কিছু অভ্যাস
মাথা ঘামলে যত্ন : মাথার ত্বক ঘেমে গেলে অবশ্যই পরিষ্কার পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে হবে। ধুয়ে নেওয়া সম্ভব না হলে দ্রুত ফ্যানের বাতাসে চুল ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে।

ভেজা চুল না বাঁধা : কোনো অবস্থাতেই ভেজা চুল বা ঘেমে থাকা চুল বেঁধে রাখা যাবে না।

পরিচ্ছন্নতা : নিয়মিত ব্যবহৃত হেলমেট, স্কাল ক্যাপ ও চিরুনি সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

সূত্র : আনন্দবাজার