শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা ৮ ঘণ্টা ধরে কাকরাইলে জবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, মেলেনি বার্তা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা টানা ৮ ঘণ্টা ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বুধবার (১৪ মে) কাকরাইল মসজিদ মোড়ে অবস্থান নিয়ে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাদের এই আন্দোলন চলছে। তবে এখনো সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা আসেনি।

এদিকে, বুধবার বিকেলে আলোচনার জন্য প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনাতে প্রবেশ করেন জবি উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম। কিছুক্ষণ পর সেখানে যোগ দেন জবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমিন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আলোচনায় অংশ নিতে যান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন। তবে আলোচনা শেষ হলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা বার্তা পাননি জবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

জবির এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আন্দোলন করি, আমাদের ওপর লাঠিচার্জ হয়। অথচ ঢাবি থেকে কেউ আসলে তাদের ঠান্ডা পানি দেওয়া হয়। আমাদের দাবি যৌক্তিক—এটি মানতেই হবে।”

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, “আমরা মোড়ে আসা মাত্রই অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের ওপর গুলি ও টিয়ারগ্যাস ছোড়া হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রশাসনের কোনো বার্তা পাইনি।”

আরেক শিক্ষার্থী তৈমুর মবিন বলেন, “আগামীকাল থেকে পুরান ঢাকার সব মোড় ব্লক করে দেওয়া হবে। সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমাদের দাবি মানতেই হবে।”

এর আগে, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী পদযাত্রায় অংশ নিয়ে যমুনার দিকে রওনা হন। গুলিস্তান মাজার গেট ও মৎস্য ভবনে পুলিশের বাধা পেরিয়ে তারা কাকরাইল মসজিদ মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ অতর্কিত টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গরম পানি ছোড়ে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হয়েছেন।

দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন এবং আহতের সংখ্যা বাড়লেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো সদুত্তর না আসায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ আরো বাড়িয়ে তুলছে। আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রাজধানীজুড়ে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

টানা ৮ ঘণ্টা ধরে কাকরাইলে জবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, মেলেনি বার্তা

প্রকাশিত সময় : ১১:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা টানা ৮ ঘণ্টা ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বুধবার (১৪ মে) কাকরাইল মসজিদ মোড়ে অবস্থান নিয়ে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাদের এই আন্দোলন চলছে। তবে এখনো সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা আসেনি।

এদিকে, বুধবার বিকেলে আলোচনার জন্য প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনাতে প্রবেশ করেন জবি উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম। কিছুক্ষণ পর সেখানে যোগ দেন জবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমিন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আলোচনায় অংশ নিতে যান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন। তবে আলোচনা শেষ হলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা বার্তা পাননি জবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

জবির এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আন্দোলন করি, আমাদের ওপর লাঠিচার্জ হয়। অথচ ঢাবি থেকে কেউ আসলে তাদের ঠান্ডা পানি দেওয়া হয়। আমাদের দাবি যৌক্তিক—এটি মানতেই হবে।”

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, “আমরা মোড়ে আসা মাত্রই অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের ওপর গুলি ও টিয়ারগ্যাস ছোড়া হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রশাসনের কোনো বার্তা পাইনি।”

আরেক শিক্ষার্থী তৈমুর মবিন বলেন, “আগামীকাল থেকে পুরান ঢাকার সব মোড় ব্লক করে দেওয়া হবে। সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমাদের দাবি মানতেই হবে।”

এর আগে, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী পদযাত্রায় অংশ নিয়ে যমুনার দিকে রওনা হন। গুলিস্তান মাজার গেট ও মৎস্য ভবনে পুলিশের বাধা পেরিয়ে তারা কাকরাইল মসজিদ মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ অতর্কিত টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গরম পানি ছোড়ে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হয়েছেন।

দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন এবং আহতের সংখ্যা বাড়লেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো সদুত্তর না আসায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ আরো বাড়িয়ে তুলছে। আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রাজধানীজুড়ে।