বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান অব্যাহত, গ্রেপ্তার ২০

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাত থেকে শুরু হওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান বিকেল পর্যন্ত চলমান রয়েছে। অভিযানের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

দুপুরে সলিমপুর এলাকার প্রবেশমুখে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবৈধভাবে জমির কাগজ তৈরি, জমি দখল এবং হস্তান্তরের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এতে পুরো এলাকা কার্যত সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পরিস্থিতি এমন ছিল যে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অনেক সময় এলাকায় প্রবেশ করতে সাহস পেতেন না।

তিনি জানান, এর আগে চারবার এই এলাকায় অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হলেও বিভিন্ন কারণে তা সফল হয়নি। এবার পঞ্চমবারের মতো পরিকল্পিতভাবে বড় আকারের অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং এতে যৌথবাহিনী সফল হয়েছে।

অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশ নেন। ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশ নিয়ে পুরো এলাকাকে ঘিরে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

অভিযানের সময় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিভিন্ন ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো পাওয়া না যাওয়ায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে ডিআইজি বলেন, নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে এখনো সব ইউনিটের তথ্য একত্র করা সম্ভব হয়নি। তবে তল্লাশি অব্যাহত থাকায় অস্ত্র উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে

 

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুর একটি বিস্তীর্ণ এলাকা। পুরো এলাকা এখনো তল্লাশির আওতায় রয়েছে এবং বিকেল পর্যন্ত অভিযান চলমান আছে। এ পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি বলে জানান তিনি।

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আবার সক্রিয় হতে না পারে, সেই জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার রাখা হবে।

তিনি জানান, অভিযানের পর এলাকায় স্থায়ীভাবে দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ক্যাম্প এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

এছাড়া এলাকাটিতে দ্রুত সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযানের ফলে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার পর জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযানের অংশ হিসেবে বিকেল পর্যন্ত তল্লাশি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান অব্যাহত, গ্রেপ্তার ২০

প্রকাশিত সময় : ০৭:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাত থেকে শুরু হওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান বিকেল পর্যন্ত চলমান রয়েছে। অভিযানের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

দুপুরে সলিমপুর এলাকার প্রবেশমুখে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবৈধভাবে জমির কাগজ তৈরি, জমি দখল এবং হস্তান্তরের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এতে পুরো এলাকা কার্যত সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পরিস্থিতি এমন ছিল যে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অনেক সময় এলাকায় প্রবেশ করতে সাহস পেতেন না।

তিনি জানান, এর আগে চারবার এই এলাকায় অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হলেও বিভিন্ন কারণে তা সফল হয়নি। এবার পঞ্চমবারের মতো পরিকল্পিতভাবে বড় আকারের অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং এতে যৌথবাহিনী সফল হয়েছে।

অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশ নেন। ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশ নিয়ে পুরো এলাকাকে ঘিরে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

অভিযানের সময় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিভিন্ন ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো পাওয়া না যাওয়ায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে ডিআইজি বলেন, নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে এখনো সব ইউনিটের তথ্য একত্র করা সম্ভব হয়নি। তবে তল্লাশি অব্যাহত থাকায় অস্ত্র উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে

 

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুর একটি বিস্তীর্ণ এলাকা। পুরো এলাকা এখনো তল্লাশির আওতায় রয়েছে এবং বিকেল পর্যন্ত অভিযান চলমান আছে। এ পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি বলে জানান তিনি।

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আবার সক্রিয় হতে না পারে, সেই জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার রাখা হবে।

তিনি জানান, অভিযানের পর এলাকায় স্থায়ীভাবে দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ক্যাম্প এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

এছাড়া এলাকাটিতে দ্রুত সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযানের ফলে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার পর জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযানের অংশ হিসেবে বিকেল পর্যন্ত তল্লাশি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।