বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবু বাবাদের মধ্যে আদর্শ রণবীর, যে কারণ বললেন দীপিকা পাড়ুকোন

অন্তঃসত্ত্বা হলে মায়ের দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। কারণ তারই জঠরে আশ্রিত থাকে সন্তান। বাবার সেই ভার সামলানোর বাধ্যবাধ্যকতা থাকে না ঠিকই, কিন্তু কিছু জরুরি ভূমিকা থাকে তাদেরও।

স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন স্বামী তার পাশে কতটা থাকছেন, তার ওপর নির্ভর করে হবু মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য এবং তার সূত্র ধরে শারীরিক ভালো থাকা ও মন্দ থাকাও। কিন্তু অনেকেই এই পাশে থাকার প্রয়োজন বা গুরুত্ব বুঝতে পারেন না। অনেকে নানা কাজের ব্যস্ততায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে যথেষ্ট সময়ও দিতে পারেন না।

হয়ত হবু বাবা ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে আরও বেশি করে কাজ গোছাতে থাকেন। সারা দিন কাজে ব্যস্ত থাকার পর যখন স্ত্রীর পাশে এসে দুটো কথা বলার সময় হয় তার, তখন হয়ত স্ত্রী ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েন। একজনের চেষ্টা আরেকজনের চোখে পড়ে না। এমন পরিস্থিতিতে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ বাড়তে পারে।

জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করে নিতে না পেরে অভাববোধে ভুগতে পারেন হবু মা-ও। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন যেহেতু হরমোনের ক্রিয়াকলাপ অনিয়মিত হয়ে পড়ে, তাই নানা রকম আবেগের বহির্প্রকাশ হতেই পারে। এমন পরিস্থিতিতে যদি সঙ্গীর তরফেও পাশে থাকার চেষ্টাটুকু চোখে পড়ে, তবে মানসিকভাবে অনেক আরামে থাকেন হবু মা।

এ বিষয়ে বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন মা হিসাবে জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে হবু বাবার আদর্শ হতে পারেন অভিনেতা রণবীর সিং। নিজে অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন নিজের স্বামী রণবীরের কাছ থেকে তিনি যে সহযোগিতা পেয়েছেন, সে কথা জানিয়ে দীপিকা বলেন, হয়ত বিদেশে টানা শুটিং চলছে। এর মধ্যেও রণবীর চেষ্টা করে কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে নিত সেই সময়ে। হয়ত ৩-৪ দিনের ছুটি পেল। তবু সেটুকু সময়েই ফ্লাইট নিয়ে চলে এলো পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাবে বলে। রণবীর যেভাবে পেরেছে, সেই সময় আমার দারুণ খেয়াল রেখেছে। ও ওর পরিবারের প্রত্যেকের জন্যই এতটা যত্নবান বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও রণবীরের পাশে থাকার ইচ্ছা আর চেষ্টাটুকু অনুভব করতে পেরেছিলেন দীপিকা। কাজের সূত্রে সবসময় পাশে থাকা সম্ভব না হলেও সঙ্গ দেওয়ার জন্য যে নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন রণবীর, সেই ভাবনাই ভালো রেখেছে অভিনেত্রীকে। হবু মা দীপিকার নিজেকে অবহেলিত মনে হয়নি। মনে হয়নি রণবীর খেয়াল রাখছেন না তার দিকে। বরং উল্টোটাই মনে হয়েছে। হয়ত অন্য বাবার থেকে কম সময় থেকেছেন তিনি। কিন্তু ওই চেষ্টাটুকুই অভিনেত্রীর মন জয় করেছে, যা হবু বাবার জন্য শিক্ষণীয়।

যারা প্রথমবার বাবা-মা হচ্ছেন, তাদের অনেকেই ক্যারিয়ারের এমন পর্যায়ে থাকেন, যখন ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। কাঁধে থাকে হাজার রকমের দায়িত্ব। সেই সময় কাজের দায়িত্ব সামলে পরিবারের জন্য সময় বের করতে একটু বাড়তি চেষ্টা করতেই হয়। কিন্তু সেই চেষ্টাটুকুই অনেক জটিল সমীকরণ সহজ করে দিতে পারে একজন বাবার দায়িত্ববোধকে, এমনটা জানিয়েছেন দীপিকা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

হবু বাবাদের মধ্যে আদর্শ রণবীর, যে কারণ বললেন দীপিকা পাড়ুকোন

প্রকাশিত সময় : ১০:০৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

অন্তঃসত্ত্বা হলে মায়ের দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। কারণ তারই জঠরে আশ্রিত থাকে সন্তান। বাবার সেই ভার সামলানোর বাধ্যবাধ্যকতা থাকে না ঠিকই, কিন্তু কিছু জরুরি ভূমিকা থাকে তাদেরও।

স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন স্বামী তার পাশে কতটা থাকছেন, তার ওপর নির্ভর করে হবু মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য এবং তার সূত্র ধরে শারীরিক ভালো থাকা ও মন্দ থাকাও। কিন্তু অনেকেই এই পাশে থাকার প্রয়োজন বা গুরুত্ব বুঝতে পারেন না। অনেকে নানা কাজের ব্যস্ততায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে যথেষ্ট সময়ও দিতে পারেন না।

হয়ত হবু বাবা ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে আরও বেশি করে কাজ গোছাতে থাকেন। সারা দিন কাজে ব্যস্ত থাকার পর যখন স্ত্রীর পাশে এসে দুটো কথা বলার সময় হয় তার, তখন হয়ত স্ত্রী ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েন। একজনের চেষ্টা আরেকজনের চোখে পড়ে না। এমন পরিস্থিতিতে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ বাড়তে পারে।

জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করে নিতে না পেরে অভাববোধে ভুগতে পারেন হবু মা-ও। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন যেহেতু হরমোনের ক্রিয়াকলাপ অনিয়মিত হয়ে পড়ে, তাই নানা রকম আবেগের বহির্প্রকাশ হতেই পারে। এমন পরিস্থিতিতে যদি সঙ্গীর তরফেও পাশে থাকার চেষ্টাটুকু চোখে পড়ে, তবে মানসিকভাবে অনেক আরামে থাকেন হবু মা।

এ বিষয়ে বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন মা হিসাবে জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে হবু বাবার আদর্শ হতে পারেন অভিনেতা রণবীর সিং। নিজে অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন নিজের স্বামী রণবীরের কাছ থেকে তিনি যে সহযোগিতা পেয়েছেন, সে কথা জানিয়ে দীপিকা বলেন, হয়ত বিদেশে টানা শুটিং চলছে। এর মধ্যেও রণবীর চেষ্টা করে কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে নিত সেই সময়ে। হয়ত ৩-৪ দিনের ছুটি পেল। তবু সেটুকু সময়েই ফ্লাইট নিয়ে চলে এলো পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাবে বলে। রণবীর যেভাবে পেরেছে, সেই সময় আমার দারুণ খেয়াল রেখেছে। ও ওর পরিবারের প্রত্যেকের জন্যই এতটা যত্নবান বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও রণবীরের পাশে থাকার ইচ্ছা আর চেষ্টাটুকু অনুভব করতে পেরেছিলেন দীপিকা। কাজের সূত্রে সবসময় পাশে থাকা সম্ভব না হলেও সঙ্গ দেওয়ার জন্য যে নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন রণবীর, সেই ভাবনাই ভালো রেখেছে অভিনেত্রীকে। হবু মা দীপিকার নিজেকে অবহেলিত মনে হয়নি। মনে হয়নি রণবীর খেয়াল রাখছেন না তার দিকে। বরং উল্টোটাই মনে হয়েছে। হয়ত অন্য বাবার থেকে কম সময় থেকেছেন তিনি। কিন্তু ওই চেষ্টাটুকুই অভিনেত্রীর মন জয় করেছে, যা হবু বাবার জন্য শিক্ষণীয়।

যারা প্রথমবার বাবা-মা হচ্ছেন, তাদের অনেকেই ক্যারিয়ারের এমন পর্যায়ে থাকেন, যখন ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। কাঁধে থাকে হাজার রকমের দায়িত্ব। সেই সময় কাজের দায়িত্ব সামলে পরিবারের জন্য সময় বের করতে একটু বাড়তি চেষ্টা করতেই হয়। কিন্তু সেই চেষ্টাটুকুই অনেক জটিল সমীকরণ সহজ করে দিতে পারে একজন বাবার দায়িত্ববোধকে, এমনটা জানিয়েছেন দীপিকা।