মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ছোটবেলায় লাল-সাদা জামার জন্য কান্নাকাটি করতাম’

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎসব পয়লা বৈশাখ। সকাল থেকে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে প্রাণের উৎসব। শোবিজ তারকারাও মেতে উঠেছেন। জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানও আছেন এ তালিকায়।

সারারাত শুটিং শেষে ভোরে বাসায় ফিরে উৎসবের সকালটা খানিকটা ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন সাদিয়া আয়মান। তবে শুটিংয়ের ক্লান্তি থাকলেও পহেলা বৈশাখের আমেজে ভাটা পড়তে দেননি।

তিনি বলেন, ‘আগে থেকেই বৈশাখের সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। নতুন শাড়ি, চুড়ি—সবই রেডি। আর পান্তা ভাতও তৈরি আছে। এখন সবাই মিলে ইলিশ মাছ ভাজা দিয়ে পান্তা খাব। কাজের ব্যস্ততা থাকলেও উৎসবের আমেজটা ঠিকই আছে।’

কথায় কথায় এই অভিনেত্রী ফিরে যান তার শৈশবে। তিনি জানান, বড় হওয়ার সাথে সাথে কাজের দায়িত্ব বেড়েছে, বদলে গেছে উৎসবের ধরন। সাদিয়ার ভাষায়, ‘বড় হওয়ার সাথে সাথে কাজের চাপ আর দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। ছোটবেলায় তো আর শুটিংয়ের ঝামেলা ছিল না। তখন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতাম এবং উঠেই পান্তা ভাত খেতাম। এরপর পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে বের হতাম।

বরিশাল বিএম কলেজের মাঠে বিশাল মেলা হতো। ছোটবেলায় সেই মেলায় যেতাম। ঢাকায় আসার পর গত কয়েক বছরে সেভাবে মেলায় যাওয়া হয় না। কিন্তু পরিচিত মানুষের সাথে দেখা হয়। লাল শাড়ি তো থাকেই। এটা না হলে আসলে পয়লা বৈশাখ হয় না। আমার কাছে মনে হয় উৎসবের আনন্দটা কম লাগে।’

পোশাক নিয়ে শৈশবের এক মজার স্মৃতি শেয়ার করে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় লাল-সাদা জামার জন্য খুব কান্নাকাটি আর জেদ করতাম। কালকেও আম্মু সেই কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন। শৈশবকালে শাড়ি পরতে পারতাম না, তাই আম্মু আমাকে লাল-সাদা থ্রিপিস ডিজাইন করে বানিয়ে দিতেন। আম্মু সবসময় নিজের পছন্দমতো ডিজাইনে ডিজাইন করে পোশাক পরাতেন।’

মেলার প্রধান আকর্ষণ নাগরদোলা। অনেকের নাগরদোলায় চড়তে ভয় লাগলেও সাদিয়া আয়মান এটি ভীষণ উপভোগ করেন। তিনি বলেন, ‘নাগরদোলা যখন ওপর থেকে নিচে নামতে শুরু করে তখন শরীর ছেড়ে দেয়। তখন আমার খুব আনন্দ লাগে। এখনও সুযোগ পেলে আমি নাগরদোলায় চড়ি। ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকার দিকে মাঝে মাঝে গিয়ে এই রাইডগুলোতে চড়ি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

‘ছোটবেলায় লাল-সাদা জামার জন্য কান্নাকাটি করতাম’

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎসব পয়লা বৈশাখ। সকাল থেকে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে প্রাণের উৎসব। শোবিজ তারকারাও মেতে উঠেছেন। জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানও আছেন এ তালিকায়।

সারারাত শুটিং শেষে ভোরে বাসায় ফিরে উৎসবের সকালটা খানিকটা ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন সাদিয়া আয়মান। তবে শুটিংয়ের ক্লান্তি থাকলেও পহেলা বৈশাখের আমেজে ভাটা পড়তে দেননি।

তিনি বলেন, ‘আগে থেকেই বৈশাখের সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। নতুন শাড়ি, চুড়ি—সবই রেডি। আর পান্তা ভাতও তৈরি আছে। এখন সবাই মিলে ইলিশ মাছ ভাজা দিয়ে পান্তা খাব। কাজের ব্যস্ততা থাকলেও উৎসবের আমেজটা ঠিকই আছে।’

কথায় কথায় এই অভিনেত্রী ফিরে যান তার শৈশবে। তিনি জানান, বড় হওয়ার সাথে সাথে কাজের দায়িত্ব বেড়েছে, বদলে গেছে উৎসবের ধরন। সাদিয়ার ভাষায়, ‘বড় হওয়ার সাথে সাথে কাজের চাপ আর দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। ছোটবেলায় তো আর শুটিংয়ের ঝামেলা ছিল না। তখন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতাম এবং উঠেই পান্তা ভাত খেতাম। এরপর পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে বের হতাম।

বরিশাল বিএম কলেজের মাঠে বিশাল মেলা হতো। ছোটবেলায় সেই মেলায় যেতাম। ঢাকায় আসার পর গত কয়েক বছরে সেভাবে মেলায় যাওয়া হয় না। কিন্তু পরিচিত মানুষের সাথে দেখা হয়। লাল শাড়ি তো থাকেই। এটা না হলে আসলে পয়লা বৈশাখ হয় না। আমার কাছে মনে হয় উৎসবের আনন্দটা কম লাগে।’

পোশাক নিয়ে শৈশবের এক মজার স্মৃতি শেয়ার করে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় লাল-সাদা জামার জন্য খুব কান্নাকাটি আর জেদ করতাম। কালকেও আম্মু সেই কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন। শৈশবকালে শাড়ি পরতে পারতাম না, তাই আম্মু আমাকে লাল-সাদা থ্রিপিস ডিজাইন করে বানিয়ে দিতেন। আম্মু সবসময় নিজের পছন্দমতো ডিজাইনে ডিজাইন করে পোশাক পরাতেন।’

মেলার প্রধান আকর্ষণ নাগরদোলা। অনেকের নাগরদোলায় চড়তে ভয় লাগলেও সাদিয়া আয়মান এটি ভীষণ উপভোগ করেন। তিনি বলেন, ‘নাগরদোলা যখন ওপর থেকে নিচে নামতে শুরু করে তখন শরীর ছেড়ে দেয়। তখন আমার খুব আনন্দ লাগে। এখনও সুযোগ পেলে আমি নাগরদোলায় চড়ি। ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকার দিকে মাঝে মাঝে গিয়ে এই রাইডগুলোতে চড়ি।’