প্রকাশিত সময় :
০৬:৩৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
৭
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সোনারগাঁ উপজেলা শাখার দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. ফজল হোসেন স্বাক্ষরিত এক লিখিত নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
নোটিশপ্রাপ্ত নেতারা হলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ এবং স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিল।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে চলার অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দলীয় সুনাম ক্ষুণ্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এ কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করা হবে না—সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সশরীরে উপস্থিত হয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন-এর কাছে জবাবদিহির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এই দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সম্পর্কে সহোদর হলেও তাদের মধ্যে বিরোধ চলমান রয়েছে। এর জেরে এলাকায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এসব ঘটনায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়; পরে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় সংঘর্ষে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া সম্প্রতি আব্দুর রউফের অনুসারীরা আব্দুল জলিলকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে তাকে আহত করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, দুই ভাইয়ের সংঘর্ষের কারণে দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।