হেগসেথকে নিয়ে ভ্যান্সের সন্দেহ?
প্রতিবেদনটি প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলেছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট যুদ্ধসংক্রান্ত পেন্টাগনের দেয়া তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার আশঙ্কা, গোলাবারুদের মজুদ কমে গেলে ভবিষ্যতে চীন, উত্তর কোরিয়া বা রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে তা গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ভ্যান্স ‘নিজের উদ্বেগগুলো ব্যক্তিগতভাবে তুলে ধরেছেন, হেগসেথ বা কেইন ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত করছেন- এমন সরাসরি অভিযোগ না এনে।’ এমনকি প্রকাশ্য বক্তব্যেও ভ্যান্স পেন্টাগন প্রধানের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন তিনি ‘দারুণ কাজ করছেন’ এবং সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে ‘যোদ্ধা মানসিকতা’ গড়ে তুলতে ট্রাম্পের সঙ্গে হেগসেথের কাজের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা দ্য আটলান্টিককে বলেছেন, ভ্যান্স ‘আমাদের কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে অনেক গভীর ও অনুসন্ধানী প্রশ্ন করেন- যেমনটি প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা দলের অন্য সদস্যরাও করেন।’
উপদেষ্টাদের মতে, ভ্যান্স চেষ্টা করছেন বিষয়টিকে ব্যক্তিগত না করতে এবং ট্রাম্পের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় বিভাজন তৈরি না করতে। তবে ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির বিশ্বাস, হেগসেথ যুদ্ধের যে ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরছেন তা এতটাই বাড়াবাড়ি যে তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, পেন্টাগন প্রধানের আক্রমণাত্মক সংবাদ সম্মেলন এবং ইতিবাচক বার্তা দেয়ার কৌশল সম্ভবত ‘প্রেসিডেন্ট যা শুনতে চান, তা-ই শোনানোর’ উদ্দেশ্যে। তারা উল্লেখ করেন, হেগসেথের ব্রিফিং সাধারণত সকাল ৮টায় হয়- যে সময় প্রেসিডেন্ট ফক্স নিউজ দেখেন বলে জানা যায়। ট্রাম্প প্রশাসনের এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, ‘টেলিভিশনের অভিজ্ঞতা পিটকে শিখিয়েছে কীভাবে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে হয় এবং ট্রাম্প কীভাবে ভাবেন।’
যুদ্ধ নিয়ে ভ্যান্সের দৃষ্টিভঙ্গি
ইরানের ওপর হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে হেগসেথের দাবি এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা মূল্যায়নের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা গেছে। ট্রাম্পের মতো হেগসেথও দাবি করেছেন, ইরানি সামরিক বাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। তবে মার্কিন মূল্যায়নে দেখা গেছে, তেহরান তাদের বিমানবাহিনীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা এবং ছোট দ্রুতগতির নৌযানগুলো ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এসব নৌযান হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে নৌ চলাচল ব্যাহত করতে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং আক্রমণকারী পক্ষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে। একই সময়ে থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ জানিয়েছে, তাদের মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ধরনের গোলাবারুদের অর্ধেকেরও বেশি ব্যবহার করে ফেলেছে।
এ মাসের শুরুতে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি অপারেশন এপিক ফিউরির বিরোধিতা করেছিলেন মার্কিন মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য। তার মধ্যে ছিলেন জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধ একটি খারাপ সিদ্ধান্ত হবে, যা ব্যাপক প্রাণহানি ও আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা ডেকে আনবে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশের ভেতরের প্রয়োজনীয়তায় বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। তবে ভাইস প্রেসিডেন্টকে একাধিক বিষয় সামলাতে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিরোধিতা করার তার পূর্ব অবস্থান এবং ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে ইরান সংঘাতের ফলাফলের ওপরই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করতে পারে। এ মাসের শুরুতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ব্যর্থ হওয়া প্রথম দফার শান্তি আলোচনায় ট্রাম্পের বিশ্বস্ত আলোচক হিসেবে ভ্যান্স নেতৃত্ব দেন। এ সপ্তাহে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়ে যায়।

রিপোর্টারের নাম 






















