বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা: চিকিৎসককে হত্যা-ধর্ষণের হুমকি, থানায় জিডি

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছরের মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে মদন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম সাধারণ ডায়েরি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডা. সায়মা আক্তার জিডিতে উল্লেখ করেন, আমি উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখি। গত ৩০ এপ্রিল একজন রোগী এসে আমার কাছে তার শারীরিক অসুবিধার কথা বলে। আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার রিপোর্ট দেখে জানতে পারি সে ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনার বিষয়ে আমি ভুক্তভোগী ও তার মায়ের কাছে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিশুটি জানায় মাদরাসার হুজুর তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি জানাজানি হলে একটি নিউজ চ্যানেল আমার কাছে এসে ভুক্তভোগীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চায়। আমি তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানাই। আমার বক্তব্যটি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার থেকে আমাকে গালিগালাজ করে হত্যা এবং গণধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রাণনাশের ঝুঁকিতে আছি বিধায় উক্ত বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা একান্ত প্রয়োজন।

চিকিৎসকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাধারণ ডায়েরি করার বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে খুব বেশি কথা বলতে তারা রাজি নন। কারণ তারা বর্তমানে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন।

সাধারন ডায়েরির বিষয়ে জানতে চাইলে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ওই নারী চিকিৎসক দুপুরের দিকে আমাদের থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন আমরা তার নিরাপত্তা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তবে মামলা তদন্তের স্বার্থে এর বিষয়ে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, ধর্ষণের এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোসসিনা ইসলাম পুলিশের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে আগামী ১০ মে বিকেলে তাকে আদালতে উপস্থিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা: চিকিৎসককে হত্যা-ধর্ষণের হুমকি, থানায় জিডি

প্রকাশিত সময় : ১১:৩১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছরের মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে মদন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম সাধারণ ডায়েরি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডা. সায়মা আক্তার জিডিতে উল্লেখ করেন, আমি উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখি। গত ৩০ এপ্রিল একজন রোগী এসে আমার কাছে তার শারীরিক অসুবিধার কথা বলে। আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার রিপোর্ট দেখে জানতে পারি সে ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনার বিষয়ে আমি ভুক্তভোগী ও তার মায়ের কাছে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিশুটি জানায় মাদরাসার হুজুর তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি জানাজানি হলে একটি নিউজ চ্যানেল আমার কাছে এসে ভুক্তভোগীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চায়। আমি তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানাই। আমার বক্তব্যটি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার থেকে আমাকে গালিগালাজ করে হত্যা এবং গণধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রাণনাশের ঝুঁকিতে আছি বিধায় উক্ত বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা একান্ত প্রয়োজন।

চিকিৎসকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাধারণ ডায়েরি করার বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে খুব বেশি কথা বলতে তারা রাজি নন। কারণ তারা বর্তমানে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন।

সাধারন ডায়েরির বিষয়ে জানতে চাইলে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ওই নারী চিকিৎসক দুপুরের দিকে আমাদের থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন আমরা তার নিরাপত্তা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তবে মামলা তদন্তের স্বার্থে এর বিষয়ে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, ধর্ষণের এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোসসিনা ইসলাম পুলিশের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে আগামী ১০ মে বিকেলে তাকে আদালতে উপস্থিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।