বিশ্বজুড়ে ইনস্টাগ্রামের ডাইরেক্ট মেসেজ বা ডিএম থেকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে মেটা। ফলে এখন থেকে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা ব্যক্তিগত মেসেজ আদান-প্রদানে আগের মতো সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন না।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত মেটার জন্য বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন। কারণ এর আগে প্রতিষ্ঠানটি এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনকে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার অন্যতম সেরা প্রযুক্তি হিসেবে প্রচার করেছিল।
এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন এমন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যেখানে কেবল প্রেরক ও প্রাপকই মেসেজ দেখতে পারেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে শিশু সুরক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন দাবি করে আসছিল, এ প্রযুক্তির আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গোপন থেকে যেতে পারে।
মেটার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। তাদের মতে, এর ফলে অনলাইনে শিশু নির্যাতন বা হয়রানির মতো অপরাধ শনাক্ত করা সহজ হবে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা কর্মীরা বলছেন, এটি ব্যবহারকারীর প্রাইভেসির জন্য বড় ধাক্কা।
২০১৯ সালে মেটা ফেসবুক মেসেঞ্জার ও ইন্সটাগ্রামে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে মেসেঞ্জারে প্রযুক্তিটি ডিফল্টভাবে চালু করা হলেও ইনস্টাগ্রামে তা ঐচ্ছিক সুবিধা হিসেবে সীমিত ছিল।
সম্প্রতি মেটা তাদের শর্তাবলী হালনাগাদ করে জানায়, ২০২৬ সালের ৮ মে থেকে ইনস্টাগ্রামে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড মেসেজিং আর কার্যকর থাকবে না। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, খুব কম ব্যবহারকারী এ ফিচারটি ব্যবহার করায় এটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাইভেসি সুরক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহারের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বর্তমানে সিগন্যাল, হোয়াটসঅ্যাপ, অ্যাপলের আইমেসেজ ও গুগল মেসেজে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ডিফল্টভাবে চালু রয়েছে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























