শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে প্রবীণ নারীর মৃত্যু নিয়ে বুয়েটের অধ্যাপক ছেলে যা বললেন

রাজধানীর মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার পর অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা তাদের মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করছে। দেশের স্বনামধন্য একটি পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

নূর জাহান বেগমের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এ কে এম আশিকুর রহমান জানান, ঈদের দিন তিনি পরিবারসহ মাকে দেখতে গিয়েছিলেন এবং মায়ের সুবিধার জন্য একটি দেয়ালঘড়িও নিয়ে গিয়েছিলেন, কারণ তিনি সময় বুঝতে অসুবিধা করতেন।

তিনি বলেন, মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারটি মানসিকভাবে ট্রমার মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য তাদের আরও কষ্ট দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গত ৩১ মে রাতে পুলিশ নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটে তাঁর মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার পর ফ্ল্যাটের অবস্থা ও মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নূর জাহান বেগমের স্বামী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনে কর্মরত ছিলেন এবং ২০০৮ সালে তিনি মারা যান। অন্যদিকে মেয়ের স্বামী ২০১৭ সালে মারা যান।

অধ্যাপক আশিকুর রহমান বলেন, মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক কিছু সমস্যায় ভুগছিলেন বলে ধারণা করা হলেও কখনো নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া হয়নি। একইভাবে তাঁর বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় মায়ের দেখভালের চেষ্টা করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে যে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় বাসার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর ছিল। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং পারিবারিক দায়িত্ব ও সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

কারামুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরলেও আইভীকে থাকতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে

রাজধানীতে প্রবীণ নারীর মৃত্যু নিয়ে বুয়েটের অধ্যাপক ছেলে যা বললেন

প্রকাশিত সময় : ০৪:২৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার পর অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা তাদের মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করছে। দেশের স্বনামধন্য একটি পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

নূর জাহান বেগমের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এ কে এম আশিকুর রহমান জানান, ঈদের দিন তিনি পরিবারসহ মাকে দেখতে গিয়েছিলেন এবং মায়ের সুবিধার জন্য একটি দেয়ালঘড়িও নিয়ে গিয়েছিলেন, কারণ তিনি সময় বুঝতে অসুবিধা করতেন।

তিনি বলেন, মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারটি মানসিকভাবে ট্রমার মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য তাদের আরও কষ্ট দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গত ৩১ মে রাতে পুলিশ নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটে তাঁর মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার পর ফ্ল্যাটের অবস্থা ও মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নূর জাহান বেগমের স্বামী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনে কর্মরত ছিলেন এবং ২০০৮ সালে তিনি মারা যান। অন্যদিকে মেয়ের স্বামী ২০১৭ সালে মারা যান।

অধ্যাপক আশিকুর রহমান বলেন, মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক কিছু সমস্যায় ভুগছিলেন বলে ধারণা করা হলেও কখনো নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া হয়নি। একইভাবে তাঁর বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় মায়ের দেখভালের চেষ্টা করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে যে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় বাসার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর ছিল। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং পারিবারিক দায়িত্ব ও সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।