বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসি ফিরলেন, গোল করলেন, রেকর্ড ভেঙে দিলেন নতুন বার্তা

ইনজুরি কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর লিওনেল মেসির প্রত্যাবর্তনটা যেন ছিল রূপকথার গল্প। মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই গোল, আর সেই গোলেই ভেঙে দিলেন প্রায় সাত দশক ধরে অক্ষত থাকা এক ঐতিহাসিক রেকর্ড। বয়সভিত্তিক রেকর্ড থেকে শুরু করে দলের প্রস্তুতি ম্যাচ সব মিলিয়ে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের এই জয়কে ঘিরে আর্জেন্টিনা শিবিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস, ঠিক বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মঞ্চে নামার আগ মুহূর্তে।

বুধবার (১০ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার অবার্ন ইউনিভার্সিটির জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই প্রীতি ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন লিওনেল মেসি।

শুরুর একাদশে না থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। আর নামার মাত্র ১১৯ সেকেন্ড পরই পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের উপস্থিতি জানান দেন বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল তাঁর ১১৭তম আন্তর্জাতিক গোল।

এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে জয় পায়। মেসির গোলের আগে ও পরে স্কোরশিটে নাম লেখান ভ্যালেন্টিন বার্কো ও থিয়াগো আলমাদা। পুরো ম্যাচজুড়েই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে আর্জেন্টিনা।

তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে মেসির একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। গোলের সময় তার বয়স ছিল ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন। এর মাধ্যমে তিনি ৬৯ বছর ধরে অক্ষত থাকা একটি রেকর্ড ভেঙে দেন।

এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল আনহেল লাব্রুনার দখলে। ১৯৫৭ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে রোকা কাপে ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে গোল করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে অক্ষত থাকা সেই কীর্তিই এবার ভেঙে দিলেন মেসি।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের শারীরিক অবস্থা ও অনুভূতি নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন মেসি। তিনি জানান, দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফেরা তার জন্য ছিল আবেগ ও উত্তেজনার মিশ্র অভিজ্ঞতা।

মেসি বলেন, শুরু থেকেই তিনি ম্যাচটা উপভোগ করেছেন। দীর্ঘদিন পর মাঠে নামার অপেক্ষা তাকে আরও উচ্ছ্বসিত করেছে। যদিও ক্যাম্পে যোগ দেয়ার পর কিছুটা অস্বস্তি ছিল, তবে মাঠে নেমে ধীরে ধীরে সেই ভয় কেটে গেছে। তার ভাষায়, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই ছিল মূল লক্ষ্য, এবং নিজের স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে পারাটা ছিল সবচেয়ে বড় স্বস্তি।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সাফল্য দলকে সন্তুষ্ট করেনি, বরং আরও বেশি ক্ষুধা তৈরি করেছে। তার মতে, এই দল যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একই মানসিকতা ও লড়াইয়ের মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি টুর্নামেন্টেই আর্জেন্টিনা ভীষণ উত্তেজনা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে নামে। দলটি সবসময় আরও বেশি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগোয়। ধাপে ধাপে এগোলেও তাদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা আগের মতোই অটুট।

ভক্তদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তায় মেসি জানান, এই দল যা অর্জন করছে, তা তাদের প্রাপ্য। তারা সবসময়ই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে। তার মতে, ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই, তবে এই দলের লড়াইয়ের মানসিকতা কখনো কমবে না।

তিনি যোগ করেন, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হয়। তবে আর্জেন্টিনা নিজেদের প্রস্তুত করেছে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য। প্রতিপক্ষদের জন্য এই দল সহজ হবে না, কারণ তারা সবসময় প্রতিযোগিতামূলক ও জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত।

ইনস্টাগ্রামে ম্যাচ শেষে কয়েকটি ছবি শেয়ার করে মেসি লেখেন, সবাইকে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এই বার্তাই এখন আর্জেন্টিনা শিবিরে নতুন করে উদ্দীপনা যোগ করছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগ মুহূর্তে এই জয় আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। একদিকে মেসির রেকর্ড, অন্যদিকে দলের দাপুটে জয় সব মিলিয়ে প্রস্তুতি পর্বের এই ম্যাচ যেন বিশ্বকাপ মিশনের শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জন্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মেসি ফিরলেন, গোল করলেন, রেকর্ড ভেঙে দিলেন নতুন বার্তা

প্রকাশিত সময় : ০৬:৩৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ইনজুরি কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর লিওনেল মেসির প্রত্যাবর্তনটা যেন ছিল রূপকথার গল্প। মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই গোল, আর সেই গোলেই ভেঙে দিলেন প্রায় সাত দশক ধরে অক্ষত থাকা এক ঐতিহাসিক রেকর্ড। বয়সভিত্তিক রেকর্ড থেকে শুরু করে দলের প্রস্তুতি ম্যাচ সব মিলিয়ে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের এই জয়কে ঘিরে আর্জেন্টিনা শিবিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস, ঠিক বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মঞ্চে নামার আগ মুহূর্তে।

বুধবার (১০ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার অবার্ন ইউনিভার্সিটির জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই প্রীতি ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন লিওনেল মেসি।

শুরুর একাদশে না থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। আর নামার মাত্র ১১৯ সেকেন্ড পরই পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের উপস্থিতি জানান দেন বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল তাঁর ১১৭তম আন্তর্জাতিক গোল।

এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে জয় পায়। মেসির গোলের আগে ও পরে স্কোরশিটে নাম লেখান ভ্যালেন্টিন বার্কো ও থিয়াগো আলমাদা। পুরো ম্যাচজুড়েই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে আর্জেন্টিনা।

তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে মেসির একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। গোলের সময় তার বয়স ছিল ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন। এর মাধ্যমে তিনি ৬৯ বছর ধরে অক্ষত থাকা একটি রেকর্ড ভেঙে দেন।

এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল আনহেল লাব্রুনার দখলে। ১৯৫৭ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে রোকা কাপে ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে গোল করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে অক্ষত থাকা সেই কীর্তিই এবার ভেঙে দিলেন মেসি।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের শারীরিক অবস্থা ও অনুভূতি নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন মেসি। তিনি জানান, দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফেরা তার জন্য ছিল আবেগ ও উত্তেজনার মিশ্র অভিজ্ঞতা।

মেসি বলেন, শুরু থেকেই তিনি ম্যাচটা উপভোগ করেছেন। দীর্ঘদিন পর মাঠে নামার অপেক্ষা তাকে আরও উচ্ছ্বসিত করেছে। যদিও ক্যাম্পে যোগ দেয়ার পর কিছুটা অস্বস্তি ছিল, তবে মাঠে নেমে ধীরে ধীরে সেই ভয় কেটে গেছে। তার ভাষায়, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই ছিল মূল লক্ষ্য, এবং নিজের স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে পারাটা ছিল সবচেয়ে বড় স্বস্তি।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সাফল্য দলকে সন্তুষ্ট করেনি, বরং আরও বেশি ক্ষুধা তৈরি করেছে। তার মতে, এই দল যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একই মানসিকতা ও লড়াইয়ের মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি টুর্নামেন্টেই আর্জেন্টিনা ভীষণ উত্তেজনা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে নামে। দলটি সবসময় আরও বেশি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগোয়। ধাপে ধাপে এগোলেও তাদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা আগের মতোই অটুট।

ভক্তদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তায় মেসি জানান, এই দল যা অর্জন করছে, তা তাদের প্রাপ্য। তারা সবসময়ই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে। তার মতে, ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই, তবে এই দলের লড়াইয়ের মানসিকতা কখনো কমবে না।

তিনি যোগ করেন, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হয়। তবে আর্জেন্টিনা নিজেদের প্রস্তুত করেছে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য। প্রতিপক্ষদের জন্য এই দল সহজ হবে না, কারণ তারা সবসময় প্রতিযোগিতামূলক ও জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত।

ইনস্টাগ্রামে ম্যাচ শেষে কয়েকটি ছবি শেয়ার করে মেসি লেখেন, সবাইকে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এই বার্তাই এখন আর্জেন্টিনা শিবিরে নতুন করে উদ্দীপনা যোগ করছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগ মুহূর্তে এই জয় আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। একদিকে মেসির রেকর্ড, অন্যদিকে দলের দাপুটে জয় সব মিলিয়ে প্রস্তুতি পর্বের এই ম্যাচ যেন বিশ্বকাপ মিশনের শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জন্য।