বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমি যে সময়টার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তা হলো সোনায় সোহাগা: মেসি

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে ভাগ বসানোর পর আবেগ লুকাতে পারেননি লিওনেল মেসি। পরিবারের সদস্য ও সতীর্থদের সঙ্গে এমন একটি মুহূর্ত ভাগ করে নিতে পারা তার জন্য অত্যন্ত বিশেষ কিছু বলে মন্তব্য করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

মঙ্গলবার কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে যান মেসি। এর ফলে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে সমতা আনেন এই মহানায়ক।

মেসি বলেন, আমি কেন কেঁদেছিলাম? ওটা সম্পূর্ণভিন্ন একটা কারণে, যার সাথে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমি বেশ কিছু কঠিন দিন পার
করেছি, তবে আমি আমাদের পুরো প্রতিনিধি দল এবং সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা সবসময় আমার পাশে ছিল এবং এই পরিস্থিতি কাটিয়েউঠতে আমাকে প্রচুর মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, ‘দিনগুলো কঠিন ছিল এবং আবেগটা সে কারণেই ছিল। আমি আমার সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানাই।’

বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের পর প্রতিক্রিয়ায় ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘ ‘আমার জীবনে যা কিছু এসেছে, তার সবকিছুর মধ্য দিয়ে যেতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। এখন আমি যে সময়টার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তা হলো সোনায় সোহাগা। আমি খুব খুশি এবং এই চমৎকার দলটির প্রতি কৃতজ্ঞ, আমি এটি খুব উপভোগ করি।’’

শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দলের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট মেসি। শিরোপাধারী আর্জেন্টিনার লক্ষ্য টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতা। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি।

মেসি বিশ্বাস করেন, সেই ইতিহাস বদলানোর সামর্থ্য আছে বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে। তিনি বলেন, ‘এই দলটি খুবই ঐক্যবদ্ধ, খুবই শক্তিশালী একটি দল। আমি ভালো অনুভব করছি। আমরা কঠিন একটি ম্যাচ জিততে পেরেছি। প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

এ সময় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা, ‘আমি সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা আবারও দেখিয়েছে, আর্জেন্টিনা এই বিশ্বকাপ নিয়ে কতটা উন্মাদ। আমরা আবারও পুরো স্টেডিয়াম ভরে ফেলেছি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

আমি যে সময়টার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তা হলো সোনায় সোহাগা: মেসি

প্রকাশিত সময় : ১১:০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে ভাগ বসানোর পর আবেগ লুকাতে পারেননি লিওনেল মেসি। পরিবারের সদস্য ও সতীর্থদের সঙ্গে এমন একটি মুহূর্ত ভাগ করে নিতে পারা তার জন্য অত্যন্ত বিশেষ কিছু বলে মন্তব্য করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

মঙ্গলবার কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে যান মেসি। এর ফলে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে সমতা আনেন এই মহানায়ক।

মেসি বলেন, আমি কেন কেঁদেছিলাম? ওটা সম্পূর্ণভিন্ন একটা কারণে, যার সাথে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমি বেশ কিছু কঠিন দিন পার
করেছি, তবে আমি আমাদের পুরো প্রতিনিধি দল এবং সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা সবসময় আমার পাশে ছিল এবং এই পরিস্থিতি কাটিয়েউঠতে আমাকে প্রচুর মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, ‘দিনগুলো কঠিন ছিল এবং আবেগটা সে কারণেই ছিল। আমি আমার সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানাই।’

বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের পর প্রতিক্রিয়ায় ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘ ‘আমার জীবনে যা কিছু এসেছে, তার সবকিছুর মধ্য দিয়ে যেতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। এখন আমি যে সময়টার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তা হলো সোনায় সোহাগা। আমি খুব খুশি এবং এই চমৎকার দলটির প্রতি কৃতজ্ঞ, আমি এটি খুব উপভোগ করি।’’

শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দলের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট মেসি। শিরোপাধারী আর্জেন্টিনার লক্ষ্য টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতা। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি।

মেসি বিশ্বাস করেন, সেই ইতিহাস বদলানোর সামর্থ্য আছে বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে। তিনি বলেন, ‘এই দলটি খুবই ঐক্যবদ্ধ, খুবই শক্তিশালী একটি দল। আমি ভালো অনুভব করছি। আমরা কঠিন একটি ম্যাচ জিততে পেরেছি। প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

এ সময় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা, ‘আমি সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা আবারও দেখিয়েছে, আর্জেন্টিনা এই বিশ্বকাপ নিয়ে কতটা উন্মাদ। আমরা আবারও পুরো স্টেডিয়াম ভরে ফেলেছি।’