রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রবিবার (২১ মে) জাতীয় সংসদে নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
লিখিত উত্তরে আইনমন্ত্রী জানান, মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তদের দলীয় পরিচয় উল্লেখ করা হয় না। ফলে, বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক বা মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফ্যাসিস্ট আমলে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা সম্পর্কিত কোনো পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে চার সদস্যের জেলা কমিটি গঠন করা হয়
তিনি বলেন, আবেদনপত্র, এজাহার, চার্জশিটের সত্যায়িত কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে যদি দেখা যায় যে, মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, জনস্বার্থে তা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই এবং মামলা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হতে পারে, তাহলে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটি মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করে।
আইনমন্ত্রী আরো জানান, জেলা কমিটিগুলোর সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখে আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া ২৩ হাজার ৮৬৫টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকি যেসব মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রত্যাহারের লক্ষ্যে কমিটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 




















