মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার হারালেন এলন মাস্ক

রকেট ও এআই কোম্পানির শেয়ার টানা তিন দিন ধরে পতন হওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এলন মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হ্রাসের মুখে পড়েছে। ফোর্বস-এর হিসাব অনুযায়ী, মাস্কের মোট সম্পদ এক সপ্তাহে ১.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে কমে প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ তার সম্পদ থেকে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৬৪ বিলিয়ন পাউন্ড) কমে গেছে।

এই ক্ষতির পরিমাণ বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি লেরি পেজ-এর মোট সম্পদের চেয়েও বেশি। বর্তমানে ল্যারি পেজের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯৯ বিলিয়ন ডলার।

এই মাসেই এলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার (এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক) হন, যখন স্পেস এক্স-এর রকেট, স্যাটেলাইট ও এআই ব্যবসা নিয়ে গঠিত কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি (IPO) ব্যাপক সাড়া ফেলে।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রথম তিন দিনে সর্বোচ্চ ৬৭% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, এবং এর বাজারমূল্য ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়ে যায়। তবে এরপর শেয়ারের দাম টানা তিন দিন কমে যায়। ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে কমে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, অর্থাৎ প্রায় ৯২৮ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে।

এর আগেও ২০২২ সালে টেসলার শেয়ারের বড় পতনের কারণে মাস্কের সম্পদ প্রায় ১৬৫ বিলিয়ন ডলার কমে গিয়েছিল, যা তখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির সবচেয়ে বড় সম্পদহ্রাসের রেকর্ড ছিল।

ওরাকলের আরেক প্রতিষ্ঠাতা লেরি এলিসন বিলিয়নিয়ার ও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত সেপ্টেম্বর তার সম্পদ ৪০০ বিলিয়ন ডলার থেকে বর্তমানে প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, মূলত ওরাকলের শেয়ারদরের পতনের কারণে।

মাস্কের সম্পদের বড় অংশ এসেছে  স্পেসএক্স এ তার ৩৮% মালিকানা, টেসলাতে ১১% অংশীদারিত্ব, এবং আরও কয়েকটি স্টার্টআপে তার বিনিয়োগ থেকে।

সোমবার স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সবচেয়ে খারাপ দিনের মুখোমুখি হয়। কোম্পানিটি জানায় যে তারা এআই খাতে উচ্চাভিলাষী বিনিয়োগের জন্য অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে প্রথমবারের মতো ইনভেস্টমেন্ট-গ্রেড বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা করছে। এ ঘোষণার পর শেয়ারের দাম একদিনেই ১৬.৪% কমে যায়।

বর্তমানে স্পেসএক্স -এর হাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি নগদ অর্থ রয়েছে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে। তবুও এআই খাতে বিপুল ব্যয়ের অর্থায়ন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সোমবার স্পেসএক্স-এর শেয়ার ১৫৪ ডলারে লেনদেন শেষ করে, যা এখনও কোম্পানির ১৩৫ ডলারের IPO মূল্যের উপরে রয়েছে।

এদিকে এআই-সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের উচ্ছ্বাস কমতে শুরু করেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

নেসডাক সূচক সোমবার ১.৩% কমেছে।
অ্যালফাবেট -এর শেয়ার ৫% এবং আমাজনের শেয়ার ৪.৮% কমেছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকে লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়, কারণ এআই চিপ নির্মাতাদের শেয়ার বিক্রির চাপে সূচকটি ১০% পর্যন্ত নেমে যায়।
নিক্কি ২৩৫ ৩.৬% কমেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারও প্রাক-বাজার লেনদেনে বড় পতনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

হাসিনাসহ ১০ জনের নামে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করতে পুলিশে দুদকের আবেদন

শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার হারালেন এলন মাস্ক

প্রকাশিত সময় : ০৬:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
রকেট ও এআই কোম্পানির শেয়ার টানা তিন দিন ধরে পতন হওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এলন মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হ্রাসের মুখে পড়েছে। ফোর্বস-এর হিসাব অনুযায়ী, মাস্কের মোট সম্পদ এক সপ্তাহে ১.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে কমে প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ তার সম্পদ থেকে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৬৪ বিলিয়ন পাউন্ড) কমে গেছে।

এই ক্ষতির পরিমাণ বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি লেরি পেজ-এর মোট সম্পদের চেয়েও বেশি। বর্তমানে ল্যারি পেজের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯৯ বিলিয়ন ডলার।

এই মাসেই এলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার (এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক) হন, যখন স্পেস এক্স-এর রকেট, স্যাটেলাইট ও এআই ব্যবসা নিয়ে গঠিত কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি (IPO) ব্যাপক সাড়া ফেলে।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রথম তিন দিনে সর্বোচ্চ ৬৭% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, এবং এর বাজারমূল্য ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়ে যায়। তবে এরপর শেয়ারের দাম টানা তিন দিন কমে যায়। ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে কমে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, অর্থাৎ প্রায় ৯২৮ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে।

এর আগেও ২০২২ সালে টেসলার শেয়ারের বড় পতনের কারণে মাস্কের সম্পদ প্রায় ১৬৫ বিলিয়ন ডলার কমে গিয়েছিল, যা তখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির সবচেয়ে বড় সম্পদহ্রাসের রেকর্ড ছিল।

ওরাকলের আরেক প্রতিষ্ঠাতা লেরি এলিসন বিলিয়নিয়ার ও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত সেপ্টেম্বর তার সম্পদ ৪০০ বিলিয়ন ডলার থেকে বর্তমানে প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, মূলত ওরাকলের শেয়ারদরের পতনের কারণে।

মাস্কের সম্পদের বড় অংশ এসেছে  স্পেসএক্স এ তার ৩৮% মালিকানা, টেসলাতে ১১% অংশীদারিত্ব, এবং আরও কয়েকটি স্টার্টআপে তার বিনিয়োগ থেকে।

সোমবার স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সবচেয়ে খারাপ দিনের মুখোমুখি হয়। কোম্পানিটি জানায় যে তারা এআই খাতে উচ্চাভিলাষী বিনিয়োগের জন্য অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে প্রথমবারের মতো ইনভেস্টমেন্ট-গ্রেড বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা করছে। এ ঘোষণার পর শেয়ারের দাম একদিনেই ১৬.৪% কমে যায়।

বর্তমানে স্পেসএক্স -এর হাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি নগদ অর্থ রয়েছে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে। তবুও এআই খাতে বিপুল ব্যয়ের অর্থায়ন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সোমবার স্পেসএক্স-এর শেয়ার ১৫৪ ডলারে লেনদেন শেষ করে, যা এখনও কোম্পানির ১৩৫ ডলারের IPO মূল্যের উপরে রয়েছে।

এদিকে এআই-সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের উচ্ছ্বাস কমতে শুরু করেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

নেসডাক সূচক সোমবার ১.৩% কমেছে।
অ্যালফাবেট -এর শেয়ার ৫% এবং আমাজনের শেয়ার ৪.৮% কমেছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকে লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়, কারণ এআই চিপ নির্মাতাদের শেয়ার বিক্রির চাপে সূচকটি ১০% পর্যন্ত নেমে যায়।
নিক্কি ২৩৫ ৩.৬% কমেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারও প্রাক-বাজার লেনদেনে বড় পতনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ