বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তিরক্ষা মিশনে জ্ঞান ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির ওপর বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত পঞ্চম ‘ইউনাইটেড নেশনস চিফস অব পুলিশ সামিট’-এ অংশ নিয়ে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (৮ জুলাই) এ সম্মেলনের শেষ দিনে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। এতে তিনি পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এবারের দুই দিনব্যাপী (০৭-০৮ জুলাই) সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পুলিশ প্রধান এবং নীতি-নির্ধারকগণ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় তিনটি মূল প্লেনারি সেশনে অংশ নিচ্ছেন।

সেশনগুলো হলো: ‘জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা’ (Vision for the Future of UN Police); ‘জাতিসংঘ পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি’ (Innovations and New Technologies in UN Policing) এবং ‘আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি’ (Enhancing International Cooperation to Address Transnational Challenges)।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জসমূহ দিন দিন অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করছে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং অপরাধী চক্রগুলোর আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের কারণে প্রথাগত পুলিশিং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।

শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামীর নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গতানুগতিক সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। শান্তিরক্ষা মিশনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের বিশেষায়িত জ্ঞান এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতির ওপর বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে আমরা একটি ক্রমবর্ধমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে কার্যকর থাকতে পারি।

বাংলাদেশকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ তার ফর্মড পুলিশ ইউনিটকে (FPU) আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলেছে। আমাদের পুলিশ বাহিনীতে ইতোমধ্যে সোয়াত (SWAT), বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সাইবার ও সংগঠিত অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং ইন্টেলিজেন্স-লেড পুলিশিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি ও সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিশ্ব পরিমণ্ডলে মেধা ও দক্ষতার পদ্ধতিগত আদান-প্রদানের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ (UN Police Knowledge and Innovation Network) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। এর মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সেরা অনুশীলন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা শেয়ার করতে পারবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে বার্ষিক পরিবেশ পুলিশিং সম্মেলন (Annual Environment Policing Conference) আয়োজনের প্রস্তাব করেন।

মন্ত্রী একটি অভিযোজনক্ষম, উদ্ভাবনী এবং শান্তি ও মানবতার প্রতি দায়বদ্ধ জাতিসংঘ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী প্রস্তাবনা এবং বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে।

সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (DPO), অপারেশনাল সাপোর্ট (DOS) এবং রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণ বিষয়ক (DPPA) আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেলগণ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

শান্তিরক্ষা মিশনে জ্ঞান ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির ওপর বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত সময় : ১০:৩০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত পঞ্চম ‘ইউনাইটেড নেশনস চিফস অব পুলিশ সামিট’-এ অংশ নিয়ে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (৮ জুলাই) এ সম্মেলনের শেষ দিনে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। এতে তিনি পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এবারের দুই দিনব্যাপী (০৭-০৮ জুলাই) সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পুলিশ প্রধান এবং নীতি-নির্ধারকগণ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় তিনটি মূল প্লেনারি সেশনে অংশ নিচ্ছেন।

সেশনগুলো হলো: ‘জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা’ (Vision for the Future of UN Police); ‘জাতিসংঘ পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি’ (Innovations and New Technologies in UN Policing) এবং ‘আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি’ (Enhancing International Cooperation to Address Transnational Challenges)।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জসমূহ দিন দিন অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করছে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং অপরাধী চক্রগুলোর আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের কারণে প্রথাগত পুলিশিং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।

শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামীর নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গতানুগতিক সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। শান্তিরক্ষা মিশনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের বিশেষায়িত জ্ঞান এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতির ওপর বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে আমরা একটি ক্রমবর্ধমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে কার্যকর থাকতে পারি।

বাংলাদেশকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ তার ফর্মড পুলিশ ইউনিটকে (FPU) আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলেছে। আমাদের পুলিশ বাহিনীতে ইতোমধ্যে সোয়াত (SWAT), বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সাইবার ও সংগঠিত অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং ইন্টেলিজেন্স-লেড পুলিশিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি ও সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিশ্ব পরিমণ্ডলে মেধা ও দক্ষতার পদ্ধতিগত আদান-প্রদানের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ (UN Police Knowledge and Innovation Network) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। এর মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সেরা অনুশীলন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা শেয়ার করতে পারবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে বার্ষিক পরিবেশ পুলিশিং সম্মেলন (Annual Environment Policing Conference) আয়োজনের প্রস্তাব করেন।

মন্ত্রী একটি অভিযোজনক্ষম, উদ্ভাবনী এবং শান্তি ও মানবতার প্রতি দায়বদ্ধ জাতিসংঘ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী প্রস্তাবনা এবং বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে।

সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (DPO), অপারেশনাল সাপোর্ট (DOS) এবং রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণ বিষয়ক (DPPA) আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেলগণ উপস্থিত ছিলেন।