শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বন্যার পানি কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ, পানিবন্দি সাড়ে ৭ লাখ মানুষ

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সাড়ে ৭ লাখের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন।

গত রোববার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ থাকলেও একদিনের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জনে ।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় জানিয়েছে, বন্যায় চট্টগ্রামের ১৭৬টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানির কারণে দুর্ভোগে পড়েছে। বন্যায় এ পর্যন্ত ১০ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা সাতকানিয়া। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় সব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে শুক্রবার থেকে পৌরসভাসহ কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে।

সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে অন্যদিকে প্রবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতি এখনও জটিল রয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানির ওপর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভরশীল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর দোহাজারি অংশে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর আগে নদীটির পানি আরও বেশি উচ্চতায় ছিল।

সাতকানিয়ার কয়েকটি এলাকায় সড়কে পানি জমে থাকায় চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলাতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে পানি সরানোর কাজ চলছে। দুপুরের পর কিছু এলাকায় পানি কমলেও কয়েকটি ইউনিয়নে এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রামের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন্যার্তদের সহায়তায় ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রামে বন্যার পানি কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ, পানিবন্দি সাড়ে ৭ লাখ মানুষ

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সাড়ে ৭ লাখের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন।

গত রোববার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ থাকলেও একদিনের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জনে ।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় জানিয়েছে, বন্যায় চট্টগ্রামের ১৭৬টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানির কারণে দুর্ভোগে পড়েছে। বন্যায় এ পর্যন্ত ১০ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা সাতকানিয়া। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় সব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে শুক্রবার থেকে পৌরসভাসহ কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে।

সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে অন্যদিকে প্রবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতি এখনও জটিল রয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানির ওপর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভরশীল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর দোহাজারি অংশে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর আগে নদীটির পানি আরও বেশি উচ্চতায় ছিল।

সাতকানিয়ার কয়েকটি এলাকায় সড়কে পানি জমে থাকায় চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলাতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে পানি সরানোর কাজ চলছে। দুপুরের পর কিছু এলাকায় পানি কমলেও কয়েকটি ইউনিয়নে এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রামের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন্যার্তদের সহায়তায় ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।