ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী লিখন তালুকদার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকাভিত্তিক একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বুধবার চেক-সংক্রান্ত একটি মামলায় হাজিরা দিতে নরসিংদী আদালতে যান লিখন তালুকদার ও তার বন্ধু শাকিল খান। হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় মাসুদ রানা বাবুলের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে তাকে মারধর করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রী সায়মা শাহীন রিয়াকে কল করে নির্যাতনের শব্দ শোনানো হয় এবং টাকা না দিলে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়ার পর লিখন তালুকদার নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর বন্ধু শাকিল খান বলেন, আদালত থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরে লিখনকে জোর করে নিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে মাসুদ রানা বাবুলসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাবুলের গলায় একটি পরিচয়পত্র এবং হাতে একটি টেলিভিশনের লোগোযুক্ত মাইক্রোফোন ছিল।
এদিকে স্থানীয় সূত্রের বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, মাসুদ রানা বাবুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবীকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, অপহরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া তিনি নিজেকে একটি মাদকবিরোধী সংগঠনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিপোর্টারের নাম 
























