মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক গৃহবধূকে ইজিবাইক থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অন্য এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল তিনটায় জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—পাপ্পু, বিজু, বাদশাহ, জুয়েল, আশরাফুল, জসিম ও আসমত। আর খালাস পাওয়া আসামি হলেন ইদ্রিস আলী। দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাত ১২টার দিকে শেরপুর জেলার ঝগড়ারচর বাজার থেকে ইজিবাইকে করে বকশীগঞ্জের জানকিপুরের ভাড়া বাসার দিকে যাচ্ছিলেন ওই গৃহবধূ। পথিমধ্যে আসামিরা তাঁর ইজিবাইকটি থামিয়ে জোরপূর্বক অন্য একটি ইজিবাইকে তুলে নেয়। পরে বকশীগঞ্জের নীলক্ষিয়া উত্তরপাড়ার একটি বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে তারা পালিয়ে যায়।

ভয়াবহ এই ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে বকশীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

আদালত এই মামলায় ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং দীর্ঘ আইনি শুনানি শেষে আজ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত সময় : ১০:১৯:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক গৃহবধূকে ইজিবাইক থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অন্য এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল তিনটায় জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—পাপ্পু, বিজু, বাদশাহ, জুয়েল, আশরাফুল, জসিম ও আসমত। আর খালাস পাওয়া আসামি হলেন ইদ্রিস আলী। দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাত ১২টার দিকে শেরপুর জেলার ঝগড়ারচর বাজার থেকে ইজিবাইকে করে বকশীগঞ্জের জানকিপুরের ভাড়া বাসার দিকে যাচ্ছিলেন ওই গৃহবধূ। পথিমধ্যে আসামিরা তাঁর ইজিবাইকটি থামিয়ে জোরপূর্বক অন্য একটি ইজিবাইকে তুলে নেয়। পরে বকশীগঞ্জের নীলক্ষিয়া উত্তরপাড়ার একটি বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে তারা পালিয়ে যায়।

ভয়াবহ এই ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে বকশীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

আদালত এই মামলায় ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং দীর্ঘ আইনি শুনানি শেষে আজ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।