এরলিং হালান্ড—হ্যাঁ, সেই দুর্দান্ত হালান্ড—নরওয়েকে নেতৃত্ব দিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী জার্সিধারী দল ব্রাজিলের বিপক্ষে এক ঐতিহাসিক জয় এনে দিলেন।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার সময় ব্রাজিলের দলে এমন কয়েকজন খেলোয়াড় ছিলেন, যাদের দেখে সাধারণ ফুটবল সমর্থকদের মনে প্রশ্ন জাগে—তাঁরা আসলে কোন ক্লাব বা দলের হয়ে খেলেন? এমন পরিস্থিতি ব্রাজিলের মতো দলের সঙ্গে যেন একেবারেই বেমানান।
এই ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গোলের দেখা পাননি। এন্ড্রিক ০-০ অবস্থায় একেবারে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর হালান্ড ও নরওয়ের কাছে পরাস্ত হয়ে কার্লো আনচেলত্তির দল শেষ ষোলোর বাধাই পেরোতে পারেনি।
এরপরও ব্রাজিলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব ছিল না—যেমনটি সবসময়ই ছিল। কিন্তু আর কখনোই তারা ধারাবাহিকভাবে একটি ঐতিহাসিক মানের দল গড়ে তুলতে পারেনি। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল শুরু থেকেই খেলায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেনি, যদিও তাদের ঐতিহ্য ও মর্যাদা সেই দায়িত্বই দাবি করে।
সম্ভবত মোড় ঘুরে যায় মারাকানায় ২০২১ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর থেকেই।
এটি হয়তো নেইমারের শেষ বিশ্বকাপও হয়ে রইল। তিনি এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা ও শিল্পময়তার প্রতীক। মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর চোখের জল অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তাঁর খেলার ধরণ, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক এবং অসংখ্য চোটের পরও বারবার ফিরে আসার অদম্য মানসিকতা তাঁকে বিশেষ করে তুলেছে। নেইমারকে ভালো না বেসে থাকা সত্যিই কঠিন।
শেষ মুহূর্তে তাঁকে দলে নেওয়া হলেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, তিনি পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। চোট কাটিয়ে ওঠার আগেই তাঁকে খেলতে হয়েছে। গ্রুপ পর্বে অল্প কিছু সময় এবং এই ম্যাচে সামান্য সময় মাঠে থাকার পরই তাঁর বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল। নেইমার বিদায় নিলেন, আর ব্রাজিলও বিদায় নিল। এটি ছিল এক বিধ্বংসী আঘাত, এক গভীর হতাশার গল্প।

স্পোর্টস ডেস্ক/ ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 























